১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাষ্ট্রপক্ষ সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যুক্তিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ছক করা হয় তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে। তিনিই এ মামলার মূল হোতা। ভয়াবহ এই হামলার পেছনে বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও চক্রান্ত রয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা হাওয়া ভবনেসহ ১০টি স্থানে বৈঠক করা হয়। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ হামলা ও চক্রান্তকারীদের হাওয়া ভবনে বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। গ্রেনেড হামলার টার্গেট ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে হত্যা করাই ছিল গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য। আর এর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তারেক রহমান। অন্য দেশে হলে এই ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আর রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে সকল আসামির ফাঁসি হতো। সেকশন ৩৪-এর ধারা মতে এ মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করা যায়। মামলা পর্যালোচনায় জানা যায়, আসামিরা যার যার স্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করেছিল। কিছু আসামি পরিকল্পনায়, কিছু আসামি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে, কিছু আসামি নির্দেশনায় এবং কিছু আসামি জজ মিয়া নাটক সৃষ্টিতে ছিলেন। কিন্তু তাদের সকলের উদ্দেশ্য ছিল এক ও অভিন্ন। ওই এক ও অভিন্ন উদ্দেশ্য হলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হবে। এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ কথা বলেন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে আজ বুধবার পর্যন্ত যুক্তিতর্ক মুলতবি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মোঃ আবু আব্দুল্লাহ্ ভুঁইয়া, এ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এ্যাডভোকেট ফারহানা রেজা, এ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী এসএম শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, মোবাইল কাদের মামলা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলা, ভারতের আফসান গুরু, রাজিব গান্ধী, ইন্দ্রিরা গান্ধী হত্যা মামলার নজির তুলে ধরে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিরা একটি চেন অব কমান্ডের মধ্যে কাজ করেছে। আসামিরা যার যার স্থান থেকে কাজ করলেও তাদের সকলের উদ্দেশ্য ছিল এক ও অভিন্ন। ওই এক ও অভিন্ন উদ্দেশ্য হলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হবে। ষড়যন্ত্রের শুরুটা ছিল মোহাম্মাদপুরের আলী নূর রিয়েল স্ট্রেট। সেখান থেকে পিন্টুর বাসা। অবশেষে হাওয়া ভবন। হাওয়া ভবনই প্রধান। কারণ হাওয়া ভবনই ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবৃন্দ। সেখানে ইশারা ছাড়া সমরাস্ত্র দিয়ে হামলা সম্ভব নয়। তাই কোন আসামির কাজই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান অপরাধী। সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

মোশাররফ হোসেন কাজল আরও বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় জামিনে থাকা আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন কিংবা আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তাই তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হোক।’ এছাড়া বিদেশে আগে থেকে পালিয়ে থাকা আসামিদের রেড ওয়ারেন্টসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য আদালতে আবেদন জানান। যুক্তিতর্কে তিনি বলেন, ‘এই হামলার পেছনে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে। গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা হাওয়া ভবনে বৈঠকও করেছিলেন। সেকশন ৩৪-এর ধারা মতে এ মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করা যায়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) রেজাউল করিম বলেন, ‘এ মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। আর তারেক রহমান এ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও মূল হোতা।

রাষ্ট্রপক্ষের চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে হাওয়া ভবনে এ হামলার ষড়যন্ত্র হয়। সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্যান্য আসামিরা এ ষড়যন্ত্র করেন। সকল আসামির একই অভিপ্রায় ছিল শেখ হাসিনাসহ সকল আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করা। তাই দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। ২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ৩ আসামি হলেন- জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গী নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ সাহেদুল আলম বিপুল। এখন ৪৯ আসামির বিচার চলছে। এর মধ্যে এখনও ১৮ জন পলাতক। আসামিদের মধ্যে ৪৫ জনের যুক্তিতর্ক পেশ করা হয়।