১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মনোনয়ন নিয়ে জোট মহাজোটে নেতায় নেতায় বিরোধ ॥ সুনামগঞ্জ

  • আগামীকাল ভোলা;###;সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি ৩-এর পাতায়

এমরানুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ ॥ নির্বাচনের দমকা হাওয়া বইছে সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনে। জটিল নির্বাচনের সরল সমীকরণ চলছে সর্বত্র। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনের মাঠের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতাদের দলাদলি যেন পাল্লা দিয়েই বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারের চেয়ে নিজ দলীয় সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই বেশি সময় পার করছেন। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন, তৃণমূলে দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের চেয়ে নিজেদের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় ভিত্তি কতটা সু-সংহত তা প্রচারের পাশাপাশি দলীয় অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিষোদগারই চলছে প্রতিটি সভা-সেমিনার আর উঠান বৈঠকে। একই স্টাইলে প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থীরাও। এই প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টিও। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই তিন দলেই মনোনয়ন প্রত্যাশীর ছড়াছড়ি। পাঁচ আসনে এবার হেভিওয়েটদের পাশাপাশি রয়েছেন অনেক নতুন মুখ মাঠে নেমেছে। নানা কারণে অনেক আসনেই মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু’ দলের বর্তমান ও সাবেক সংসদরা। ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে ‘এমপি লীগ’ না আওয়ামী লীগ। বিএনপিতে হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে সরকারে সঙ্গে আঁতাত করে চলার অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের। নির্বাচন নিয়ে এমন জটিল সমীকরণ থাকায় এবার আগাম পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করা বেশ কঠিন।

তবে প্রার্থী যাকেই করা হোক না কেন, সার্বিকভাবে জেলার পাঁচ আসনের চারটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কারণ হিসেবে গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় জয়কারের যুগে জেলার ১১ উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮টিতেই জয় পায় বিএনপি। আর সদর আসন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির দখলে থাকায় সেটির ফলাফল নির্ধারণ করবে দলটি একক নাকি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে তার ওপর।

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-জকিগঞ্জ) ॥ জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ আসন হচ্ছে সুনামগঞ্জ-১ আসনটি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’দলেই সর্বোচ্চসংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। তাকে ঠেকাতে এবার মাঠে নেমেছেন অর্ধ ডজন আওয়ামী লীগ নেতা। সবাই নিজে যোগ্য প্রার্থী বলে মাঠে নেমেছেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের চেয়ে আত্মপ্রচার ও শোডাউনেই ব্যস্ত তাদের অনেকে।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেত্রী এ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার। তার অনুসারীরাই জেলা কৃষক লীগের নেতৃত্বে। তিনি জেলা কৃষক লীগের নেতাদের নিয়ে আসনের তিন উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন। তার অধিকাংশ মিছিল-সমাবেশের আয়োজক কৃষক লীগ। অন্যদিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট রনজিত সরকার। তার অনুসারীরা তাহিরপুরসহ অন্যান্য জায়গায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদবিধারী। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারেই তার বেশিরভাগ কর্মসূচী পালিত হয়।

এই দুই নেতা সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের চেয়ে নিজেদের প্রার্থিতার প্রচারে বেশি ব্যস্ত। তারা কেউই আবার স্থানীয়ভাবে বসবাস করেন না। শামীমা শাহরিয়ার ঢাকায় ও রনজিত সরকার সিলেটে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তবে স্থানীয়ভাবে শক্তভিত্তি রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তুখোর ছাত্রনেতা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান সেলিমের। প্রায় সব প্রার্থীরাই বর্তমান এমপির বিরোধিতা করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

এদিকে, সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি নজির হোসেন সম্প্রতি বিএনপিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় এ আসনে দলের মনোনয়ন লড়াইয়ের হিসাব অনেকটা পাল্টে গেছে। নজির হোসেনের পাশাপাশি ভোটের মাঠে রয়েছেন ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ড্যাবের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ রফিক আহমদ চৌধুরী, তাহিরপুর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, সাবেক উপজেলা চেয়াম্যান আনিসুল হক ও ধর্মপাশা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খান, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফেন্দী লিটনসহ অন্তত ডজনখানেক বিশ দলীয় জোটের নেতা।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) ॥ অতীতে এই আসনে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি দ্বৈত লড়াই হতো আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিক প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা নৌকার টিকেটে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে এখন এই আসনের সংসদ সদস্য। রাজনীতিতে নবাগত জয়া সেনগুপ্তা দলের ‘খাইখাই’ পার্টির লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

এদিকে, বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নানা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের অপরাপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। তারা সবাই বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়মসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন। তবে জয়া সেনগুপ্তার অনুসারীদের অভিযোগ, যারা বিষোদগার করেছেন তাদের অধিকাংশই স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। কেউ যুক্তরাজ্য, কেউ সিলেট আবার কেউ জেলার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা দূর-দূরান্ত থেকে প্রচার শেষে আবার নীড়ে ফিরে যান। শুধু মনোনয়নের আশায় তারা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা সবই ভিত্তিহীন।

সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তার বিপরীতে এ আসনে জোরেশোরে যারা মাঠে রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ সিলেট জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, বিগত উপ-নির্বাচনে জয়া সেনগুপ্তার কাছে পরাজিত প্রার্থী সায়াদ আলী মাহবুব, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অবনী মোহন দাস, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার অনুকূল তালুকদার ডালটন, যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগ নেতা সামসুল হক চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা ভিপি ইকবাল হোসেন। ব্যারিস্টার ডালটন ২০১৬ সালে দেশে ফিরে আসার পর থেকেই এলাকায় দলের জন্য কাজ করছেন।

এই আসনে বরাবরের মতো এবারও বিএনপির একক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। আওয়ামী লীগ যাকেই প্রার্থী করুক না কেন, নির্বাচনে তাকে নাসিরের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হবে। তারপরও জুনিয়র দু’একজন বিএনপি নেতা মাঝে মাঝে প্রার্থিতার ঘোষণা দেন।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) ॥ এ আসনে বর্তমান এমপি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। গত নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রয়াত জাতীয় নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদপুত্র আজিজুস সামাদ ডনকে সামান্য ভোটে পরাজিত করে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। আগামী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে এম এ মান্নানকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছেন না সামাদপুত্র ডন। তবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের আমলে এই আসনে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল কাসেম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে আজিজুস সামাদ ডন ও হাজী আবুল কালাম প্রতিমন্ত্রীর বিরোধিতা করে প্রচার চালাচ্ছেন জোরেশোরে।

এ আসনে ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যুতে শাহীনূর পাশার সঙ্গে বিএনপির চরম মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিতে চাইছে বিএনপি। জেলা বিএনপির চার সহ-সভাপতি কর্নেল (অব) আলী আহমদ, সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিন ও প্রবাসী বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সাজু বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগে সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও বিএনপিতে এম কয়ছর আহমদ- যুক্তরাজ্য শাখার দল দুটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এই দুই নেতা নির্বাচনে চমক দেখাতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) ॥ বর্তমানে এই আসনে মহাজোট মনোনীত সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির এ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। জোটবদ্ধ অথবা একক, যেভাবেই নির্বাচন হোক- দীর্ঘদিনের ঘাঁটি সদর আসনটি কোন অবস্থাতেই ছাড় দেবে না জাতীয় পার্টি। তবে এ আসনে জাতীয় পার্টির অপর প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মেজর (অব) ইকবাল হেসেন চৌধুরীর পুত্র ইনান চৌধুরী প্রিয়কে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান জাপার একাংশ।

অপরদিকে এবার সদর আসনটি জাপাকে ছাড় না দিতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা। যারা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে আছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলার পাবলিক প্রসিকিউটির (পিপি) এ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ। সম্ভব্য সব প্রার্থীই জোর কদমে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পৃথক গণসংযোগ ও প্রচার চালাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রায় সবাই জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় কাক্সিক্ষত উন্নয়ন না করাসহ নানা অভিযোগ করছেন তারা। তবে গুরুত্বপূর্ণ সদর আসনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে চরম মতবিরোধের সুযোগ এবারও জাতীয় পার্টি নিতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

এদিকে, সদর আসনে বিএনপির শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ এ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া। তিনবারের সাবেক এই এমপির বিপরীতে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মরমী কবি হাছনরাজার প্রপৌত্র হিসেবে পারিবারিক ইমেজের ভোট রয়েছে তার। এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আরও রয়েছেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ জেপি ও যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানী আহমদ। নির্বাচনে জাপা, আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি থেকে প্রার্থী যাকেই করা হোক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে এই আসনে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানালেন বড় তিনটি দলেই এ আসনে গৃহবিবাদ প্রকাশ্যে। এই বিরোধ যে দল যতটা সামাল দিতে পারবে নির্বাচনী ফলাফল সেই দলের পক্ষেই যাবে।

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) ॥ এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান মানিক। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নিজ দলের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। সবকিছু মোকাবেলা করে বার বার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষ মোকাবেলায় নিজ বাসায় বোমা বিস্ফোরণের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছিল। যদিও এই বিস্ফোরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ আজও অব্যাহত রয়েছে।

পুরনো এই বিরোধের রেশ ধরে এই আসনটি এবারও আওয়ামী লীগে একপক্ষে রয়েছেন বর্তমান এমপি মুহিবুর রহমান মানিক, আর অপরপক্ষে রয়েছেন তার প্রতিপক্ষ পৌর মেয়র কালাম চৌধুরী। নির্বাচনে কালাম চৌধুরীর ভাই সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন নিজস্ব বলয় নিয়ে। বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়। উল্লেখযোগ্য উন্নয়নও করেছেন তিনি নির্বাচনী এলাকায়। তবে এমপি মানিকের টানা দুই আমলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, স্বজনপ্রীতির নানা অভিযোগ নিয়ে তাকে ঘায়েল করতে মরিয়া তার পুরনো প্রতিপক্ষ শামীম আহমেদ চৌধুরী। তবে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের অনুসারীরা প্রতিপক্ষের আনা এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো শামীম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের ওপর নানা ধরনের মিথ্যা মামলা, হামলার করে নাজেহাল করার অভিযোগ আনেন।

এদিকে, এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দ্বৈত দায়িত্বে থাকা সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। ভোটের মাঠে তার প্রধান প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। এই দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে কেউই কাউকে ন্যূনতম ছাড় দিতে নারাজ। দলীয় টিকেট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শেষ চমক দেখাতে পারেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মুনসিফ আলী। তবে এই আসনে ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতের মোটামোটি ভাল অবস্থান থাকলেও গত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে চরম বিরোধ রয়েছে দলটির।

গত উপজেলা নির্বাচনে এই আসনের দুটি উপজেলায় জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে অল্প ভোটে পরাজিত হন। ভোটের পর থেকে পরাজয়ের পেছনে বিএনপির বিরোধিতাকে দায়ী করে আসছে জামায়াত। শেষ মুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের আপোস রফা না হলে দলটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাজা পাওয়া এই দলটি। আর এতে করে সুবিধা পাবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ।

এছাড়া এই আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, জেলা জাপা নেতা আব্দুল ওয়াহিদ কনা মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম।