২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা, আজ শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে হাজির হলেও দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে হাজির হননি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া কারা অভ্যন্তরে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা পোষণ করেছেন। খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে ‘অনিচ্ছুক’ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মৌখিকভাবে আবেদন করে বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যেহেতু নিজেই অনিচ্ছা পোষণ করেছেন, ফলে তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলতে বাধা নেই। এ অবস্থায় বিচারক আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেনÑ প্রধান আসামির অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলতে পারে কিনা। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপক্ষের আইনজীবীদের পূর্ণাঙ্গ শুনানির পর আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আদালত স্থানান্তর, মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সুপ্রীমকোর্টসহ সারাদেশের আইনজীবী সমিতিরগুলোতে দুই দিনের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। আগামী ১৬ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রবিবার ও বুধবার যথাক্রমে এই দুই কর্মসূচী পালন করা হবে। সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে বিএনপির আইনজীবীদের অবস্থান কর্মসূচী পালন করার সময় এই কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অস্থায়ী আদালতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়া জামিনে থাকবেন কিনা, সে বিষয়ে তার আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছে আদালত। বুধবার রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত অস্থায়ী ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. মোঃ আখতারুজ্জামান আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কাস্টডি ওয়ারেন্টে খালেদা জিয়া আদালতে আসতে পারবেন না বলে জানানো হয়। পরে আদালত মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করে।

এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক আদালতের এজলাসে ওঠেন। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া খালেদার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করেন। এছাড়া আদালতে তিনি একটি দরখাস্ত দেন। দরখাস্তে তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, সুপ্রীমকোর্টের অনুমতি ছাড়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত ঘোষণা করে গেজেট করা সংবিধানের পরিপন্থী ও আইনবিরোধী। শুনানিতে তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। মামলার অপর আসামি জিয়াউল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল হক এ বিচার কার্যক্রম আইনসম্মত নয় উল্লেখ করে মামলার কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, ১২ এবং ২৪ ফিটের একটি কক্ষে আদালত পরিচালিত হতে পারে কিনা, তাও বিবেচনা করার প্রয়োজন। এখানে বসার কোন জায়গা নেই, সিনিয়রদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এরূপ একটি কক্ষকে মোটেও উন্মুক্ত আদালত বলা যায় না। বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়েছে।

এরপর দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি আজ (বুধবার) যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য রয়েছে। একদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করছেন, অন্যদিকে আদালত বসা নিয়ে প্রশ্ন করছেন। তাদের শুনানি শেষে বিচারক বলেন, খালেদা জিয়া আসতে পারবেন না বলে কারা কর্তৃপক্ষ কাস্টডি ওয়ারেন্ট পাঠিয়েছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া জামিনে থাকবেন কিনা অথবা মামলাটি কিভাবে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে এ বিষয়ে তার আইনজীবীদের শুনানি করতে বলেন। বিচারক আখতারুজ্জামান আদালতে খালেদার হাজির না হওয়া প্রসঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের চিঠির বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে, উনি (খালেদা জিয়া) কোর্টে আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তার মানে, আসতে অনিচ্ছুক। এরপর বিচারক খালেদার আইনজীবীর কাছে জানতে চান, খালেদা যদি না আসেন তাহলে জামিন শুনানি কিভাবে হবে এবং আর এভাবে আসতে অনিচ্ছুক হলে, কোরাম নন-জুডিস রেখে বিচারকাজ চালানো যাবে কিনা। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে জিয়া চ্যারিটেবল মামলার বিচার চলবে কিনা এবং তার জামিনের মেয়াদ বাড়ার বিষয়ে আইনী ব্যাখ্যাও চায় আদালত।

এর জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বেগম জিয়া যেহেতু কারাগারে আছেন আর আদালত কারাগারের ভেতরে। দুইটাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ‘সে কারণে উনি কেন আসতে পারেননি, কী বলেছেন সেটা আমরা এখনও নিশ্চিত নয়। আবার উনি যেহেতু আগের দিন বলেছেন অনেক বেশি অসুস্থ। উনার শারীরিক অবস্থা কী, সেটাও তার সঙ্গে দেখা করা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। এ সময় মোশারফ হোসেন কাজল আদালতে বলেন, গত তারিখে যখন এখানে কোর্ট বসেছিল। ওই দিন তারা আসেন নাই। আজকে (বুধবার) এসে একদিকে জামিন বৃদ্ধির আবেদন করলেন আবার অন্যদিকে আদালতকে বলছেন আপনি এখানে বসতে পারেন না। অবৈধ বলছেন। তাহলে তারা কি মাঝামাঝিতে আছেন। এখন এ মামলায় যদি যুক্তিতর্ক শুরু হয়, তাহলে তারা কি শুনানি করবেন নাকি বসে থাকবেন। একদিকে আপনি আদালতকে অবৈধ বলছেন আবার সেই অবৈধ আদালতে এসে জামিন বৃদ্ধির আবেদন করছেন, এটা আষাঢ়ের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।’ দুর্নীতি দমন কমিশনের এই আইনজীবী বলেন, তারা গেজেটে প্রকাশিত ‘কারাগার’ শব্দটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিন্তু সেখানে ওই শব্দের আগে ‘সাবেক’ শব্দটি লেখা আছে সেটি তারা দেখেন না। সেটি তারা বলবেনও না। আর বিশেষ জজ আদালত-৫ বললে কি বিচারকের নাম উল্লেখ করতে হবে। বিশেষ জজ আদালত-৫ মানেই আপনার আদালতকে বোঝানো হয়েছে। এখানে আবার নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে কিÑ এমন প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ওনারা (আসামিপক্ষের আইনজীবীরা) এই রুমটিকে স্যাঁতসেঁতে দেখছেন, এখানে তারা পানির বহর দেখছেন। কার্পেট বিছানো একটি রুমকে তারা কিভাবে স্যাঁতসেঁতে বলছেন? বরং এটা না বলে আপনারা বলতে পারতেন, এখানে আপনাদের এসি দরকার, চেয়ার দরকার, খাবার পানির ব্যবস্থা করা দরকার। এসব দাবি করতেই পারতেন। এগুলো না বলে আপনারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে উন্মুক্ত স্থানে আদালত হবে এমন দাবি করছেন। আদালতের কাছে আমার প্রার্থনা, একজন আসামি অসুস্থের দোহাই দিয়ে আদালতে আসবে না তার জন্য বিচার কার্যক্রম বসে থাকবে না। আইন তো বসে থাকবে না। প্রয়োজনে তাকে বাদ দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে আদালতের কাছে প্রার্থনা করেন এই আইনজীবী। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলে, উনি (বেগম খালেদা জিয়া) আদালতে আসতে যদি অনিচ্ছুক হন তাহলে আমরা মামলা চালাতে পারব কিনা বা তাকে বাদ দিয়ে মামলা চালাব কিনা এ পয়েন্টে আপনারা বক্তব্য দেন।

সারাদেশে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ কর্মসূচী ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আদালত স্থানান্তর, মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সুপ্রীমকোর্টসহ সারাদেশের আইনজীবী সমিতিরগুলোতে দুই দিনের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। আগামী ১৬ ও ১৯ সেপ্টেম্বর (রবিবার ও বুধবার) যথাক্রমে এই দুই দিন কর্মসূচী পালন করা হবে। বুধবার এ কর্মসূচী ঘোষণা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। দুপুরে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে বিএনপির আইনজীবীদের অবস্থান কর্মসূচী পালন করার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।

নির্বাচিত সংবাদ