১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের কেঁপে উঠল সারাদেশ। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫.৩। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ২৯৩ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে ভারতের অসম রাজ্যে। কেন্দ্রস্থলের ১৩ কিলোমিটার গভীরে এটির উৎপত্তি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রিখটার স্কেলে ৫ থেকে ৫.৯৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে বিশেষজ্ঞরা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভূমিকম্পের ফলে রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের বেশকিছু জেলায় কম্পন অনুভূত হয়। তবে কোথায় কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভারতের গুয়াহাটি, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ভুটানের থিম্পু থেকেও এ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সকালে অফিস শুরুর পরপর মূলত ভূমিকম্পের কারণে রাজধানীর ভবনগুলো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে। এ সময় ভবনে থাকা এবং বাসা বাড়িতে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে কয়েক সেকেন্ডে স্থায়ী হওয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে পড়ে। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অধিকাংশ জেলার পাশাপাশি সিলেট, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

গত ২০১৫ এবং ’১৬ সালে দেশের রিখটার স্কেলের কয়েকবার বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানলেও ২০১৭ সালের পর থেকে মাঝারি বা বড় কোন ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়নি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে নবেম্বরে ৪.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল কেঁপে ওঠে। দীর্ঘ এই বিরতির পর বুধবার সকালে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরের এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন চ্যুতিরেখার কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে দেশের ভেতরের কোন চ্যুতিরেখা থেকে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়নি। ২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত যতগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে তা দেশের বাইরে থেকে। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসম, ত্রিপুরা, মনিপুর এবং মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা ভূমিকম্পের জন্য প্রসিদ্ধ।