১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বাস্থ্যকর খাবার খান পরিবেশ বাঁচান

স্বাস্থ্যকর খাবার খান পরিবেশ বাঁচান

শরীরের গঠন অনুপাতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে। শুধু তাই নয় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে একজন মানুষের ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। ইতালি, জার্মানি ও ব্রিটেনের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। একদিনে একজন মানুষের মোট ব্যবহৃত পানি ও তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্য ও সেবা উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয় তার যোগফলকে সাধারণত ওই ব্যক্তির ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট বলে ধরা হয়। শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। গবেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ কমানোর পেছনেও ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ডেভি ভ্যানহাম বলেন, ‘আমাদের মূল বার্তা হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হলে শুধু যে আপনি সুস্থ থাকবেন তা’ই নয়, তখন আপনার প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনে গড় আগের চেয়ে কম পানি প্রয়োজন হওয়ার কারণে আপনার ওয়াটার ফুটপ্রিন্টও কমে যাবে। গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে মানুষের খাদ্য গ্রহণের বিপরীতে ওয়াটার ফুটপ্রিন্টের পরিমাণ জনপ্রতি দিনে ২৭শ’ ৫৭ লিটার, জার্মানিতে ২৯শ’ ২৯ লিটার ও ফ্রান্সে ৩৮শ’ ৬১ লিটার। মাংস ও সব ধরনের খাদ্য উপাদানসহ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে খাবার উৎপাদনে পানির ব্যবহার ১১-৩৫% পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

খাদ্য তালিকায় মাংস বাদ দিয়ে মাছ ও তেলবীজ জাতীয় খাদ্যকে প্রাধান্য দিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করলে পানি ব্যবহারের মাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। আর স্বাস্থ্যকর নিরামিষাশী আহারের ফলে পানি ব্যবহারের হার ৩৫ থেকে ৫৫ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

পৃথিবীতে সুপেয় পানির উৎস দিন দিন কমে আসছে। আর দ্রুতবেগে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জীবনধারার পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনে কি পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতনতা তৈরি হয়নি মানুষের মধ্যে। পশুপালনে বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়।

তেল, চিনি ও চর্বিজাতীয় খাবার উৎপাদনেও অনেক পানি প্রয়োজন হয়; কিন্তু ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে পানি ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত কম। মানুষের বর্তমান খাদ্যাভ্যাস ও গবেষকদের সুপারিশকৃত খাদ্যাভ্যাসে সাপেক্ষে খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পানি ব্যবহারের মাত্রার তারতম্য পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়েছে গবেষণাটি। Ñবিবিসি অবলম্বনে।