১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইডিবির আঞ্চলিক হাব

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সুসংবাদ যে, টানা ছয় বছর নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ঢাকায় চালু হলো ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) আঞ্চলিক কার্যালয়। আপাতত রাজধানীর আইডিবি ভবনের দশ তলায় এর কার্যক্রম চলবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিপরীত দিকে দুই একর জায়গায় নির্মিত হবে বহুতল ভবন। সেখানেই স্থায়ী হবে আঞ্চলিক কার্যালয়। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৬টি দেশে আইডিবির কর্মকা- পরিচালিত হবে এই ঢাকা কার্যালয় থেকে। এর মধ্যে আইডিবির সদস্য দেশ যেমন রয়েছে তেমনি সদস্য নয়, এমন দেশও রয়েছে। বাংলাদেশে এই কার্যালয় হওয়ার কারণ, ভৌগোলিক দিক হতে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ। আইডিবির অর্থায়ন ও কর্মকা- বিকেন্দ্রীকরণের যে পরিকল্পনা রয়েছে এটি তারই অংশ। যেখানে কারিগরি সহযোগিতা দেয়াসহ উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে। এতদিন ঢাকায় ফিল্ড কার্যালয় দিয়ে আইডিবির যে কার্যক্রম পরিচালিত হতো, তাতে কোন ক্ষমতা ছিল না। আঞ্চলিক কার্যালয় না থাকার কারণে কাজের গতি আসেনি। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সময় অনেক বেশি লাগছে। আঞ্চলিক কার্যালয় হওয়ার ফলে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ও দ্রুত হবে। কারণ এই কার্যালয়ের ক্ষমতা থাকছে।

বাংলাদেশে কার্যালয় করার পেছনে আইডিবি যুক্তি দেখিয়েছে যে, ঋণ নিয়ে আবার সেখানে ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য অসাধারণ। বাংলাদেশ ঋণ নিয়ে কখনও ব্যর্থ হয়নি। আর্থিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো ভাল। কয়েক বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ভাল করছে। ছয় শতাংশের বেশি অর্জিত হয়েছে প্রবৃদ্ধি। এসব দিক বিবেচনা করা হয়েছে কার্যালয় চালুর ক্ষেত্রে।

আইডিবি একটি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৭৩ সালে জেদ্দায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালে কার্যক্রম শুরু হয়। ৫৭টি সদস্যরাষ্ট্র এর অংশীদার। ইসলামী উন্নয়ন সংস্থার সহযোগী এই সংস্থা অপর পাঁচটি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত। চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংকটি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বৃহৎ পরিসরে কাজ করছে।

১৯৭৪ সাল থেকে আইডিবি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে দেশ উন্নয়নশীল হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে সহজ শর্তে ঋণ মিলবে না। তাই দেশটিকে বাড়াতে হচ্ছে ক্ষমতা। এ দেশের উন্নয়ন দেখে বিভিন্ন দেশ এখানে বিনিয়োগ করছে। তাই আইডিবি এদেশে আঞ্চলিক কার্যালয় খুলেছে। আইডিবি বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগ এসেছে পানি, বিদ্যুত, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে। আঞ্চলিক কার্যালয় চালু হওয়ায় সহযোগিতা আরও বাড়বে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরি হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। আর এই দক্ষ জনশক্তি গড়ায় আইডিবি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানী তৈরিতে ৫০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছে আইডিবি। ‘ট্রান্সফরমার্স ফান্ড’ নামক এই তহবিল থেকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নয়া ধারণার উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অর্থ ব্যয় হবে। সদস্য দেশের যে কেউ এই তহবিল হতে অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে এই নয়া তহবিল চালু হলো। একই সঙ্গে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত পনেরো বছর মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে এসব সৃজনশীল উদ্ভাবনী ধারণা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এতদিন আইডিবি শুধু অবকাঠামো, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করলেও এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে। নবগঠিত তহবিল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। ঢাকা কার্যালয় সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবনী ও আইডিয়া বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করবে। আইডিবির ঢাকা কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশ নানা দিক থেকে লাভবান হবে। সেই ধারা অব্যাহত রাখায় দেশটি সচেষ্ট হবে বলে আশাবাদ রয়ে যায়।