২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিজাত বেকার!

মেধাবীদের ইউজিসি স্বর্ণপদক বিতরণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যথার্থই বলেছেন যে, দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন অভিজাত বেকারে পরিণত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে নীতি-নির্ধারকদের। উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে দেড় শ’র বেশি সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৯ লক্ষাধিক। সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বে চতুর্থ স্থানের অধিকারী। তবে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, বেশ কয়েকটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই’ অবস্থা, নামেই বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও সবগুলোর মান সমমানের নয়। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশই বেকার, মেধাবীরা বৃত্তি নিয়ে অথবা স্ব-উদ্যোগে চলে যাচ্ছে বাইরে। সরকার সম্প্রতি শিক্ষার মান ও জবাবদিহি বাড়ানোর জন্য ইউজিসিকে পরিণত করতে চাইছে উচ্চশিক্ষা কমিশনে। বাস্তবতা হলো ব্রিটিশ আমলের মেকলে শিক্ষা কমিশনের কেরানি তৈরির সিলেবাস দিয়ে আর চলছে না। বরং শিক্ষাকে হতে হবে যুগপোযোগী, আধুনিক, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর, লাগসই, বেকারত্ব নিরসনে সহায়ক ও দেশ গঠনের উপযোগী।

সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চাকরির বয়স এন্ট্রি লেবেলে বর্তমানের ৩০-এর পরিবর্তে ৩২ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে শীঘ্রই সার্কুলার জারিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। বাস্তবে বেশি বৈ কম নয়। জাতীয় সংসদে পরিবেশিত এক তথ্যে জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন পদে শূন্যপদের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১টি। অথচ দেশে উচ্চশিক্ষিত তথা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বেকারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার। মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষমÑ বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আরও যা আশার কথা তা হলো, দিনে দিনে বাড়ছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা পৌঁছবে ৭০ শতাংশে। নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে ধাবমান বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ অতিক্রম করা।

সেটা অতিক্রম করতে হলে ইউএনডিপি উল্লিখিত ৬৬ শতাংশ কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। অদক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করতে হবে দক্ষ জনশক্তিতে। জোর দিতে হবে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর। বাড়াতে হবে শিক্ষার মান। জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বোপরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জোর দিতে হবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর। বর্তমানে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে বৈচিত্র্য ও বহুমুখিতা কম। সেক্ষেত্রে ধান-চালের পাশাপাশি কৃষির বহুমুখীকরণ তথা অর্থকরী ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে। ভারি ও বহুমুখী শিল্পায়ন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংক-বীমাসহ কারিগরি উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে দেশেই। একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তৈরি বর্তমান সময়ের দাবি। পরিহার করতে হবে যে কোন ধরনের কূপম-ূকতা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন এবং তা অব্যাহত রাখতে হলে সুশাসনসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। সে অবস্থায় চাকরিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচক হবে নিঃসন্দেহে।

নির্বাচিত সংবাদ