২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোটরসাইকেল শিল্প

দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ছে। সেইসঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে হু হু করে। যানজট ও চলাচলের সুবিধার কারণে এবং তুলনামূলক ছোট আকৃতির ও অধিক গতিসম্পন্ন হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রতি এক ধরনের ঝোঁকও দেখা যায়। তাছাড়া রাইড শেয়ারিং নীতিমালা অনুমোদনের পর এর ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে অর্থোপার্জনের উপায়ও তৈরি হওয়ায় ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। খোদ রাজধানীসহ সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মোটরসাইকেল। দুর্ঘটনার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে এই যান। চালকরা প্রতিনিয়ত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করছে। যার ফলে সড়কে ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঢাকা শহরে সড়কের উল্টোদিক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সর্বাধিক। গত বছর সংঘটিত ২৯১৭টি দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল ৬৩৭টি। এতে প্রাণ হারায় ৭৪৪ এবং আহত হয় ৪০৫ জন। এর বাইরেও গ্রাম এবং উপজেলা পর্যায় বিশেষ করে এলইজিডির সড়কে সংঘটিত অনেক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। হতাহত হচ্ছেন যারা তারা ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যেই বেশি। প্রতিবছর কর্মক্ষম দক্ষ জনগোষ্ঠীকে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে হারাতে হচ্ছে। জাতির জন্য যা বড় ক্ষতি। অধিকাংশ চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। আবার অনেকে যোগ্যতা অর্জন না করেও অসদুপায় অবলম্বন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের কাছে মোটসাইকেলের সহজলভ্যতায় সড়ক দুর্ঘটনার হার বাড়াচ্ছে। গ্রামে যানবাহন সঙ্কটের কারণে এর ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু নিয়মকানুন না জানার কারণে অনেক অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ চালক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দেশে লেন অনুসরণ করে গাড়ি না চালানোর কারণে চালকরা যেদিকে ফাঁকা পায় সেদিকেই মোটরসাইকেল চালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে পাল্লা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। অনেক সময় ফুটপাথের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালায়, যা পথচারীদের চলাচলে ব্যাঘাত তৈরি করে। ফুটপাথে মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদ- এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এরা জেব্রা ক্রসিং পর্যন্ত মানে না। এত সব নেতিবাচক বিষয় থাকার পরও এই যানের কদর বেশি। সরকার দেশেই মোটরসাইকেল তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে এ খাতে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছে। দেশীয় মোটরসাইকেলের প্রসার ঘটাতে এই নীতিমালা করা হয়েছে, যেন আমদানি করতে না হয়। দেশে বিদ্যমান মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্পের পরিবর্তে এখানে বিশ্বমানের মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানা সৃষ্টিতে উৎসাহিত করার পদক্ষেপ ইতিবাচক অবশ্যই। নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন করে মোটরসাইকেল তৈরি বা সংযোজন যা-ই করা হোক, দেশীয় শিল্প-কারখানার মাধ্যমে তা উৎপাদন করা হবে। মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে জাতীয় মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতি-২০১৮ অনুমোদন করেছে। এতে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশে বছরে পাঁচ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতি ১১৬ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। দেশে তৈরির পর স্থানীয় ও বিশ্ববাজারে সেগুলো সরবরাহ করা হবে। এই শিল্প থেকে বর্তমানে জিডিপিতে অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় এ দেশে বাইক ব্যবহারের হার কম। সহজলভ্য হলে এই হার বাড়বে। রফতানিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দশ শতাংশ নগদ সহায়তা দেবে। সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে এর ব্যবহারে কঠোরতা থাকা দরকার।