২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোটারের চোখে শেখ হাসিনাই বিশ্বস্ত

  • কবীর চৌধুরী তন্ময়

লেখার শিরোনামের প্রশ্নটি সম্ভাব্য নয় বরং টানা নবম-দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার যৌক্তিক কোন কারণ নিয়ে বিরোধিতা করতে তেমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করা ছাড়া দেশ ও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধী কোন কর্মকা- নিয়ে দেশের জনগণের পাশাপাশি বন্ধু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানও কখনও কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা উল্টো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও সরকার পরিচালনার দক্ষতা, জনপ্রিয়তা, সততা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। প্রত্যেক রিপোর্টে বরাবরই ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে নিয়ে গর্ব করার মতন ইতিবাচক ফলাফল বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর সরকার ও দলের বিভিন্ন কর্মকা-ের পার্সেন্ট আকারে মোটের ওপর বেশি পজেটিভ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে গর্ববোধ করি যখন দেখি, কানাডার নির্বাচনে সরকারপ্রধান কোন প্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টার-ব্যানারে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে তোলা ছবিকে প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করে। বাঙালী বা বাংলাদেশী হিসেবে মাথা গর্বে উন্নত মমশির হয়ে উঠে, যখন দেখি তলাবিহীন বাংলাদেশ বলা পশ্চিমাদের কোন শক্তিধর রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী কোন ব্যক্তি শেখ হাসিনার সেলফি তুলে গর্ববোধ করে, বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে। বাংলাদেশের জনগণ আরও বেশি গর্ববোধ করে যখন দেখে- মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত রাষ্ট্র পাকিস্তানও আগামী দশ বছরে ‘বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন’ দেখে।

আমাদের গর্বিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছেন, পরিচিত করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে আজ যে সম্মান-মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছেন; বাংলাদেশের জনগণের পাশাপাশি তাই বিশ্ব নেতৃবৃন্দও শেখ হাসিনাকে অনুকরণ করে, তাঁর নেতৃত্ব ও সরকার পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে গবেষণা করে। বাংলাদেশের উন্নয়নের কৌশল নিয়ে তারাও তাদের দেশকে উন্নত করতে স্বপ্ন দেখে।

সাম্প্রতিক ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছেÑ দেশের ৬৬ শতাংশ নাগরিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ৬৪ শতাংশ নাগরিক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতিও তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জরিপে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে। ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিকপথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ নাগরিক।

গবেষণা প্রতিবেদনের নোটে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ ভাগ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এরমধ্যে ৫৭ ভাগ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। শুধু এখানেও নয়, ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারী বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জনসন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারী সেবায় সন্তুষ্ট ৬৭ ভাগ মানুষ এবং বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৪ ভাগ নাগরিক। এছাড়া সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬১ ভাগ নাগরিক। দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৫১ ভাগ নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ ভাগ মানুষ মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আবার ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর যৌথ আয়োজনে পাওয়া পরিসংখ্যানেও একই কথা বলা হয়েছিল।

তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের ৭৫ ভাগ তরুণের মতে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তাদের মধ্যে ৬০ ভাগ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ৭২ দশমিক ৩ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে ‘ভাল মতো’ প্রকাশ করেন বলে ওই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়।

পাঠক! আপনি নিজেও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সরকার পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে একটু একান্তচিত্তে ভাবলে আপনার চোখের সামনেই সবকিছু দৃশ্যমান হবে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নিমর্মভাবে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ঘাতকদের বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই সঙ্গে আরও বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের মানুষের দাবি- স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে নিশ্চিত করা। মহান মুক্তিযুদ্ধে গণধর্ষণ, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট করা ওইসব জাতীয় শত্রু স্বাধীনতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন করা।

শুধু তাই নয়, পদ্মা সেতুর বিপরীতে দেশীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সততা, দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। একটি দেশ তখনই উন্নতিসাধন করতে পারে যখন ওই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছরের মধ্যে তথাকথিত আন্দোলনের নামে সারাদেশে পেট্রোল বোমায় মানুষকে পুড়িয়ে মারা, পুরো দেশকে অচল করার অপকৌশলগুলো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার দক্ষতায় মোকাবেলা করে দেশ ও দেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একদিকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের শান্ত রেখেছেন অন্যদিকে এই দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অগ্নিসন্ত্রাসের হাত থেকে জাতিকে উদ্ধার করেছেন।

এদেশের জনগণ অনেক সচেতন। ’৭৫-এ পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নেতার নেতৃত্বশূন্য ও পাকিস্তানী ভাবধারায় অকার্যকর রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়েছে। একমাত্র শেখ হাসিনার কারণে ১/১১ পট-পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের মানুষ আবারও গণতান্ত্রিক উপায়ে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়েছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এদেশের সচেতন জনগণ শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছে। আর কুখ্যাত রাজাকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের দাবি নিয়ে এদেশের তরুণ সমাজ যে জাগরণ তৈরি করেছিল তাতে সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এক হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করেছে। শত-সহস্র অপপ্রচার আর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে শেখ হাসিনাকে সাহস-শক্তি জুগিয়েছে। বাংলার মাটিতে শুধু রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই হয়নি, বিচারের রায় ফাঁসিও কার্যকর করা হয়েছে। বাংলার জনগণের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। রাজনীতির মাঠে হিসেব নিকেশ শুরু হয়েছে। নানা জোট, মহা-জোটের নানান সমীকরণ। কেউ আবার রাতের অন্ধকারে ক্ষমতায় আসতে চায়। অনেকে বিশেষ শক্তির দিকেও তাকিয়ে আছে। সভা-সেমিনারে ওইসব শক্তিধরদের ইঙ্গিত করে বক্তব্য-বিবৃতি দিতেও শোনা যায়। কেউ কেউ আবার দেন-দরবারেও যোগ দিচ্ছেন। আসন ভাগাভাগিতে অনেক রাজনৈতিক নেতাদের চোখে ঘুম নেই।

অবৈধভাবে রাজনীতিতে আসা সামরিক শাসক মেজর জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি এখন কার্যত রাজনৈতিকভাবে পঙ্গুত্ববরণ করে কোন রকমভাবে নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকার লড়াই করছে। ইতোমধ্যে এতিমের টাকা আত্মসাতের অপরাধে অপরাধী হয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাভোগ করছেন। আবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াও অর্থপাচার মামলার সাজা মাথায় নিয়ে বিদেশে পলাতক। আর এখন বিএনপির সিনিয়র নেতারা আছেন নিজেদের আখের গোছাতে। কখনও এই দলে, কখনও ওই দলে নিজের অবস্থান তৈরি করতে তদ্বির-লবিং শুরু করেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার মতো কৌশলও ভিতরে ভিতরে হাতে নিয়েছে। দিশেহারা বিএনপি একবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়, আরেকবার খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। তবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা যে তারেক জিয়ার মুক্তি চায় না-এটা তাদের বক্তব্য-বিবৃতির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু মৌসুমী রাজনৈতিক নেতাদের মাঠের এ প্রান্ত হতে ঐ প্রান্তের খবর না হলেও তাদের বড় বড় কথাগুলো কিন্তু মিডিয়াতে বেশ শোভা পাচ্ছে। টকশোতেও বেশ সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। এমনও দেখা গেছে, ‘রাখেন সংবিধান’ বলতেও। অর্থাৎ এমন কিছু রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনমুখী জোট-মহাজোট কিংবা ফ্রন্ট-ফোরাম করেছে, যাদের হাতে সংবিধানও নিরাপদ নয়।

জনগণ এই নেতাদের অনেক আগ থেকেই ভাল করে জানে। অনেককে সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই জানে। আবার বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিখ্যাত নেতাদেরও সত্যিকার অর্থে জেনেছে ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার পর। বঙ্গবন্ধু খুনীদের বিচার পক্রিয়ার সময়ও ওইসব নেতাদের অবস্থান নিয়ে জাতি হতাশ হয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী বিচারের সময় যেখানে জনগণের মতো শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর কথা ছিল; তখন ওইসব নেতারা ছিল বিতর্কিত। আর সমসাময়িক দেশের যে কোন কঠিন সময়ে এসব নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতের অন্ধকারে হারিকেনের আলোতে নয়, বিদ্যুতের আলোতেও এসব মৌসুমি নেতাদের পাত্তা মিলেনি। তাই ওইসব নেতাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিবারই প্রত্যাখান করেছে। অনেকের জামানত পর্যন্ত বাজেয়াফত করার লজ্জাও দিয়েছে দেশের সচেতন জনগণ।

মৌসুমি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কোন মাথা ব্যথা নেই। আবার কোন বিশেষ শক্তির দিকেও তিনি তাকিয়ে থাকেন না। এ শিক্ষা তিনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে পেয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন এদেশের মানুষের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন। শেখ হাসিনাও এদেশের মানুষের ওপর বিশ্বাস নিয়ে, ভরসা করে রাজনীতি করেন। তাই সাহস নিয়েই তিনি বলতে পারেনÑ ‘এদেশের জনগণ ভোট দিলে তিনি আবারও ক্ষমতায় আসবেন। না দিলে আসবেন না।’ কারণ শেখ হাসিনা জানেন, দেশের সকল সঙ্কটে বারবার এদেশের জনগণই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত নরঘাতক, বেঈমান, মীরজাফরদের বিচারের দাবি নিয়ে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছে। রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তুলে ঘরের ছোট্ট শিশু-কিশোর পর্যন্ত রাত জেগে শেখ হাসিনাকে সাহস জুগিয়েছে। পাঁচ-পাঁচবারের দুর্নীতিবাজ দল বিএনপি-জামায়াতকে এদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। আর তাই শেখ হাসিনার চিন্তা-চেতনা এদেশের জনগণ নিয়ে। মানুষ-মানবতা নিয়ে। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে।

একাদশ জাতীয় সংসদের মধ্য দিয়ে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিশালী বাংলাদেশ ও গুড গভর্নেন্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের বুকে এক খ- বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল অর্থনৈতিক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতেই তাঁর মূল পরিকল্পনা। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, দেশের জন্য রাজনীতি করলে, দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করলে-এদেশের মানুষ অতীতের ন্যায় এবারও তাঁর পাশেই থাকবে। আর ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপের ফলাফলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভোটারদের চোখে শেখ হাসিনা অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিশ্বস্ত রাজনৈতিক নেতা ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন

এ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)

kabir_tanmoy@yahoo.com