২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাকাশ স্টেশনে রহস্যজনক ছিদ্রের তদন্ত করবে নাসা ও রসকসমস

মহাকাশ স্টেশনে রহস্যজনক ছিদ্রের তদন্ত করবে নাসা ও রসকসমস

অনলাইন ডেস্ক ॥ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নোঙর করে রাখা মহাকাশযানে ছোট্ট একটি ছিদ্র দেখা যাওয়ার পর তা নিয়ে হইচই শুরু হয়েছিল। প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, মহাকাশ স্টেশনে কি কোনো অন্তর্ঘাতের চেষ্টা হয়েছিল? বা কোনোভাবে মহাজাগতিক বিকিরণ বা তেজস্ক্রিয় রশ্মি ঢুকিয়ে কি ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল? নাসা ও রুশ মহাকাশ সংস্থা ‘রসকসমস’ও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়নি। বরং বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। আর এ তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দেবে রুশ মহাকাশ সংস্থা।

আগস্টের শেষে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে কক্ষপথে ঘোরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রাশিয়ার পাঠানো মহাকাশ যান ‘সয়ুজ এমএস-০৯/৫৫এফ’ নেমেছিল। সেই রুশ মহাকাশযানের ছাদে ছোট একটি ছিদ্র দেখতে পান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীরা।

ছিদ্রটি আকারে ছিল ২ মিলিমিটার (০.০৮ ইঞ্চি)। ছিদ্রটি প্রথম দেখতে পান মহাকাশ স্টেশনে থাকা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির নভশ্চর আলেকজান্ডার জার্স্ট। সঙ্গে সঙ্গে সেই ছিদ্র মেরামত করা হয় এবং তাতে সহায়তা করেন সেরগেই পাপারদু।

বৃহস্পতিবার টেলি কনফারেন্সে নাসার শীর্ষকর্তা জিম ব্রিডনস্টাইনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন ‘রসকসমস’এর পরিচালক দিমিত্রি রগোজিনের। প্রায় এক ঘণ্টার কথোপথনের পর নাসা ও রসকমমস-এর শীর্ষ দুই কর্তা যৌথ বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্ত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ বা ব্যাখ্যা ঘোষণা করা হবে না। তারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজবে। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণ ছাড়া অন্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছিল কিনা সেটাও খুঁজে দেখাও হবে।

বিবৃতিতে সেদিনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীদের প্রশংসা করা হয়েছে। নাসা এবং রসকসমসের দুই শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে টেলি কনফারেন্সে ঠিক হয়, আগামী ১০ অক্টোবর কাজাখস্তানের বৈকানুরে যাবেন নাসার শীর্ষ কর্তা ব্রিডনস্টাইন। সেখানেই রুশ মহাকাশ সংস্থার শীর্ষ কর্তা রগোজিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন ব্রিডনস্টাইন এবং তদন্তের বিষয়ে দুই মহাকাশ কর্তা তথ্য আদান প্রদান করবেন।

এছাড়া ওই সময় সৈয়ুজ গোত্রের আরও একটি মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ করবে রাশিয়া। তাতে মহাকাশচারী হিসাবে থাকবেন আমেরিকার হেগ ও রুশ মহাকাশচারী আলেক্সি ওহচিনিন।