১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে কুইন্স হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল ভাংচুর

যশোরে কুইন্স হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে ভেজাল ইনজেকশনে পিংকী (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে বেসরকারি হসপিটাল কুইন্সে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জনতার রোষানল থেকে রেহায় পেতে হসপিটালে দায়িত্বরত চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের পুত্রবধূ এবং বিশিষ্ট কম্পিউটার ব্যবসায়ী পার্থ প্রতীম দেবনাথ রথির স্ত্রী পিংকীর প্রসব বেদনায় শহরের কুইন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইনি চিকিৎসক ডা. জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিংকি একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করেন।

জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। রতির ভাই রানানাথ জানান, রতি-পিংকি দম্পতির ঘরে সন্তান জন্ম নিচ্ছিল না। অনেক চিকিৎসার পর পিংকি গর্ভধারণ করেন। তিনি গাইনি চিকিৎসক জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাক্তার জাকিরের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিংকি একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। সন্ধ্যায় ডা. জাকির প্রসূতির জন্য ‘ওমেপ’নামে একটি ইনজেকশন লেখেন। রাত নয়টার দিকে হাসপাতালের নার্স জেসমিন ওই ইনজেকশনটি প্রসূতির শরীরে পুশ করেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পিংকি। সদ্যজাত শিশুটি সুস্থ আছে।

ডাক্তার জাকির দাবি করছেন, রোগীর স্বজনরা পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ‘ওমিজিড’ নামে ইনজেকশন কেনেন; যেটি ছিল ভেজাল। এই ‘ভেজাল’ ইনজেকশন পুশ করার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে, মোহিত নাথের পুত্রবধূর অপমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বহুলোক চড়াও হয় কুইন্স হাসপাতালে। তারা হাসপাতালটির সপ্তম তলায় উঠে আসবাবপত্র তছনছ করে। ভেঙে ফেলে জানালার গ্লাসগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার সময় রোগী ও তাদের স্বজনরা আতংকে ছোটাছুটি করতে থাকেন। হাসপাতালে অবস্থানরত ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত আবুল বাশার মিয়া জানান, খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুইন্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মিঠু সাহা দাবি করেন, লোকজন উত্তেজিত হয়ে সামান্য ভাঙচুর করেছে। তবে ভুক্তভোগীদের কেউ ভাংচুরের সঙ্গে জড়িত না। তৃতীয় পক্ষ এ ঘটনার সাথে যুক্ত।