১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন মাদক ‘খাত’

দেশব্যাপী ইয়াবার বিষাক্ত ছোবলের রেশ শেষ না হতেই ভয়াবহ নতুন মাদক খাতের কথা শোনা যাচ্ছে। খাতের ইংরেজী পরিভাষা এনপিএস বা নিউ সাইকোট্রফিক সাবসটেনসেস। দেখতে অনেকটা চা পাতার মতো। পুরনো মাদক আফিম, ভাং ও গাঁজার সঙ্গে মিল রয়েছে অনেকাংশে। যুব সমাজের সমধিক প্রিয়। দীর্ঘদিন সেবনে ভয়াবহ একাকিত্ব ও সমাজবিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়। মানসিক বৈকল্যে ভোগে সেবনকারী। কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলে। দেখা দেয় আত্মহননের প্রবণতা। ২০১৫ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে প্রথম সতর্কবার্তা উচ্চারিত হলেও সম্প্রতি রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরে এর অন্তত ৫টি বড় চালান জব্দ করা হয়। খাত আমদানির মূল উৎস ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবাসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ। সেখানে এটি বৈধ। বাংলাদেশের অসাধু ও অসৎ কিছু ব্যবসায়ী ‘গ্রীনটি’ বা সবুজ চায়ের ছদ্মাবরণে খাত বা এনপিএস আমদানি করছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। যতদূর জানা যায়, মাদকপাচার ও আমদানিকারক চক্রটি এটি চায়ের প্যাকেট হিসেবে রফতানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ ও অন্যত্র। তাই বলে দেশের অভ্যন্তরেও যে ব্যবহার হচ্ছে না, এমন কথা হলফ করে বলা যায় না। যা হোক, ট্রানজিট হিসেবে পণ্যটির আমদানি-রফতানি হতে থাকলেও এটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে দারুণভাবে। সুতরাং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।

বাংলাদেশ সরকার ইয়াবাসহ যে কোন ধরনের মাদকদ্রব্য আমদানি-রফতানি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক নির্মূলে সারাদেশে চলছে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান। এক্ষেত্রে শুধু জেল-জরিমানাই নয়, ক্রসফায়ারে তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবরও আছে। দুঃখজনক হলো, এরপরও মাদক আমদানি ও ব্যবহারের ব্যাপকতা কমছে না। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশকে টার্গেট করেই কোন আন্তর্জাতিক শক্তিশালী চক্র কাজটি করে যাচ্ছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া। এর পেছনে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাত থাকাও বিচিত্র নয়। যে কোন মূল্যে এই ‘বিষচক্র’ ভাঙতে হবে।

দেশের অভ্যন্তরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট এবং এর কাঁচামাল প্রবেশ করে থাকে কক্সবাজার জেলার মাধ্যমে। আরও সঠিক অর্থে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত পথে। পার্বত্য অঞ্চল দিয়েও ইয়াবার অনুপ্রবেশ বিচিত্র নয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে প্রায় প্রতিদিন তা ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণে। বাস্তবতা হলো, সীমান্তে কঠোর তৎপরতা এবং গোয়েন্দা নজরদারির পরও এর প্রায় অবাধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে সঙ্গত কারণেই ধারণা করা যায় যে, এর পেছনে শক্তিশালী স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটসহ বিত্তশালী ব্যক্তিদের হাত রয়েছে। ইয়াবা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সম্পৃক্ততার অভিযোগে জেল-জরিমানার খবরও আছে। দুঃখজনক হলো এরপরও ইয়াবার ছোবল ঠেকানো যাচ্ছে না। সে অবস্থায় এলাকার জনগণ যদি সততা ও সদিচ্ছার মনোভাব নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে প্রতিরোধে, তাহলে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ইয়াবার চোরাচালান ঠেকানো অবশ্যই সম্ভব। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে সেখান থেকে আগত রোহিঙ্গা স্মরণার্থীদের একটা যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা থাকা বিচিত্র নয়। গণমাধ্যমের বিপুল প্রচার-প্রচারণা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পরও এর বিরুদ্ধে তেমন প্রতিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সুতরাং এনপিএস, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ মাদকের সর্বাত্মক প্রতিরোধে সরকারকে আরও তৎপর এবং কঠোর হতে হবে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মতো নিয়মিত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শনের কোন সুযোগ নেই।