১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৬ লাখ প্রতিবন্ধীকে পেছনে ফেলে উন্নয়ন সম্ভব নয় : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

১৬ লাখ প্রতিবন্ধীকে পেছনে ফেলে উন্নয়ন সম্ভব নয় : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের প্রায় ১৬ লাখ প্রতিবন্ধীকে পেছনে ফেলে রেখে জাতি উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন,এমপি। তিনি বলেন, সরকারী কোটা সংস্কার প্রক্রিয়ায় ১ম ও ২য় শ্রেণিতে চাকরিতে প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ - গোষ্ঠী কোটা রাখতে হবে। প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতে মিশে যেন সুস্থভাবে বাঁচতে পারে সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। প্রতিবন্ধীদের প্রতি দায়িত্ব যেমন তাদের অভিভাবকদের রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রেরও রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে সুইড কমভেনশন সেন্টারে আয়োজিত প্রতিবন্ধী নারী অধিকার বিষয়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ্যাড. সুলতানা কামাল, প্রতিবন্ধী বিষয়ক চিন্তাবিদ জুলিয়ান ফ্রান্সিস, নিজেরা করি-এর নির্বাহী পরিচালক খুশি কবির, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা-মিন-আরা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম প্রমুখ।

প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারায় রাখার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রতিবন্ধীরা আমাদের দেশেরই সন্তান। আমাদেরই কারও না কারও ভাই-বোন বা আত্মীয়। তাই প্রতিবন্ধীদের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। চলমান কোটা সংস্কার প্রক্রিয়ায় ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে সব কোটা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে অসহায় প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সম্পূর্ণ কোটা তুলে নেওয়ার সময় এখনও হয়নি। কারণ, প্রতিবন্ধীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করেও কেবল শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণেই ভাইভা থেকে বাদ পড়ে যান। সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা রাখলে, তা এই পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য নানা উদ্যোগ প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য সারাদেশে ১০৩টি প্রতিবন্ধী সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে। হুইল চেয়ার, সাদা ছড়ি অনেকটা বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া, দেশব্যাপী প্রতিবন্ধীদের জন্য থেরাপি সেন্টার, অটিজম রিসোর্স সেন্টার করা হয়েছে। সাভারে প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ৪টিসহ সারাদেশে মোট ১১টি স্কুল ফর অটিজম স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩২টি মোবাইল থেরাপি ভ্যান বর্তমানে ৬৪টি জেলায় চলমান রয়েছে। ঢাকার টঙ্গীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাধ্যমে ‘মুক্তাপানি’ নামে স্বচ্ছ পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই ‘মুক্তাপানি’ লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। ‘মুক্তাপানি’ বিক্রির লভ্যাংশের পুরো অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্যয় করা হচ্ছে।

এ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, প্রতিবন্ধী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে প্রান্তিক ও বঞ্চনার শিকার প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। অনেক পরিবারে তাদেরকে দেখা হচেছ বোঝা হিসেবে। বোঝা হিসেবে না দেখে প্রতিবন্ধীদের জনসম্পদে রূপ দিতে হবে। আর সকল ধরনের উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদেরকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিতে হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। অনেক পরিবারে তাদেরকে দেখা হচেছ বোঝা হিসেবে। বোঝা হিসেবে না দেখে প্রতিবন্ধীদের জনসম্পদে রূপ দিতে হবে। আর সকল ধরনের উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদেরকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রতিবন্ধী সম্পর্কে এখনও দেশের মানুষের মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে প্রতিবন্ধী শিশুদের ব্যবহারের কারণে পাগল বলা হয়। এমনকি ভুল চিকিৎসা করে অনেক শিশুকে অকালে মেরে ফেলা হয়। প্রতিবন্ধী শিশুরা বিশেষ কোন ক্ষেত্রে খুব দক্ষ হয়ে থাকে। তাই এদেরকে প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত না করে বিশেষ শিশু বলা উচিত।