১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবেশ দূষণরোধে-

বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশের পরিবেশগত সমীক্ষা-১৮’র প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পরিবেশ বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। তবে সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণের মাত্রা সম্পর্কিত এসব তথ্য আমাদের জন্য একেবারে নতুনও নয়। বিগত এক দশক যাবতই পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সর্বমহলেই আলোচনা হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকাসহ অন্য শহরগুলো মারাত্মক পরিবেশ দূষণের শিকার যে হচ্ছে এই কথাটিও জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছে গণমাধ্যমে। শহরাঞ্চলের এ পরিবেশ দূষণের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে ক্ষতি হচ্ছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। আর মোট মৃত্যুর ২৮ শতাংশই হচ্ছে দূষণের কারণে।

সর্ববিচারেই ঢাকা বসবাসের অযোগ্য এক নগরীতে পরিণত হয়েছে। ঢাকাকে বাঁচানোর জন্য নানা পদক্ষেপও গৃহীত হয়ে চলেছে। তবু সেসব যথেষ্ট মনে হচ্ছে না, তার কিছু কিছু সফলতার মুখও দেখছে না। ঢাকার পরিবেশ বসবাসের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। কোনটাকে রেখে কোন্ দিকটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দেব? বায়ু দূষণের বিষয়টি আমরা অনেক সময় সামনে নিয়ে আসি। তার মানে এই নয় যে, পানি দূষণ বা শব্দ দূষণকে আমরা কম গুরুত্ব দিচ্ছি। ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনও আধুনিক হয়নি। কি মানববর্জ্য, কি শিল্পবর্জ্য, কি চিকিৎসাবর্জ্যÑ কোন ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ চোখে পড়ে না। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতি করছে, আবার জনস্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করছে। আর এসবের মধ্য দিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

রাজধানী ঢাকা এখন মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনও এজন্য কম দায়ী নয়। রিকন্ডিশন্ড ও দুর্বল ইঞ্জিনবিশিষ্ট পুরনো বাস-ট্রাক থেকে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এছাড়া শিল্প-কারখানার ধোঁয়া, ট্যানারি শিল্প, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, রি-রোলিং মিলের বর্জ্য, রাসায়নিক, ওষুধশিল্প ও মেটাল ওয়ার্কস বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। ইটভাঁটি, ব্রেড-বিস্কিট কারখানায় পোড়ানো কাঠ থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া জনাকীর্ণ এলাকায় নানা বিপন্নতার সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও অবকাঠামোসহ নানান কারণে ঢাকার নগরজীবন বিরাট হুমকির মুখে। রাজধানীতে যে কয়টি পরিবেশ দূষণকারী শিল্প-কারখানার অবস্থান, হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প তার অন্যতম। বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্য হারানো ও দূষণের পেছনে হাজারীবাগের ট্যানারি-বর্জ্য যথেষ্ট দায়ী, একথা বারবার গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভারসাম্য রক্ষা করেই আমাদের চলতে হবে। পরিবেশকে এড়ানোর সুযোগ নেই। আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত উদ্বেগ বিশ্বব্যাপী অন্যতম জটিল ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সঙ্গত কারণে পরিবেশ-উন্নয়ন সম্পর্কটি তাই প্রায় সব আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচিত হচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যেও পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ওই বৈশ্বিক লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশও অঙ্গীকারাবদ্ধ।

আশার কথা, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সংসদ অধিবেশনে অচিরেই নতুন পরিবেশ আইন উঠছে। তাছাড়া বিভিন্ন সংস্থা যেন নদী দূষণ করতে না পারে এজন্য নজরদারি চলছে। বুড়িগঙ্গাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা ইতোমধ্যেই সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে যত্রতত্র নিয়ন্ত্রণহীন ইটভাঁটিও আর গড়ে উঠতে পারবে না বলে ধারণা করা যায়। তবে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না। সেজন্যে জনসাধারণকে পরিবেশ দূষণ বিষয়ে যে সচেতন হতে হবে, সেটি বলাই বাহুল্য।