১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যুহার এখনও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেই বেশি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ দেশে মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যুরহার এখনও সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। সরকার এ খাতে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস করতে টেকসই যে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে ২০১৭ সালে যে কর্মসূচী শুরু করেছে তাতে সফলতা আসতে শুরু করেছে। তবে ভিশন-২০২১ পূরণের পথে এখনও বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর সূত্রে বলা হয়েছে, দফতরের আওতাধীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রসমূহে প্রসব সেবা মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুরোধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বলা হচ্ছে, গত প্রায় ছয়দশক ধরে দেশে পরিবার পরিকল্পনা যাত্রা শুরু হওয়ার পরবর্তী সময়ে ৭০ দশকে সরকারী সহযোগিতায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশল হিসেবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবার পরিকল্পনাকে একটি অগ্রাধিকার বিষয় হিসেবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর পরিবার পরিকল্পনা সেবা মাঠ পর্যায়ে সংযুক্ত করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বছরে প্রতিলাখে ১৭৬ প্রসূতি এবং হাজারে ২৮ নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। বর্তমান সরকার ২০২২ সালের মধ্যে প্রসূতির মৃত্যুহার ১২১ এবং নবজাতকের মৃত্যুহার ১৮তে নামিয়ে আনার কর্মসূচী নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চতুর্থ স্বাস্থ্য জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচীর যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তাতে চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে বাল্যবিয়ে ১৮ বছর বয়সের আগেই বিয়ে দেয়ার প্রবণতা, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের প্রথম এবং দ্বিতীয়বারের মতো গর্ভবতী হওয়া এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা ব্যবহারের মাত্রা ৪৭ শতাংশ। আর পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের হার মাত্র ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ। অপূর্ণ চাহিদার হার এখনও ১২ শতাংশ। বিভিন্ন পদ্ধতি ড্রপ আউটের হার এখনও ৩০ শতাংশ। এছাড়া ৬২ শতাংশ প্রসব এখনও বাড়িতেই হয়ে থাকে। মূলত এগুলিই অন্যতম।

এসব বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর গেল বছর থেকে যে কার্যক্রম শুরু করেছে তা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগীয় সূত্রে জানানো হয়, সরকার ইতোমধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুহার কমাতে সক্ষম হয়েছে, সহ¯্রাব্ধ উন্নয় লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, নবজাতকের মৃত্যুহার এখনও উল্লেখযোগ্যহারে কমে নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত দুই দশকে নবজাতকের মৃত্যুহার ৫০ ভাগ কমলেও বর্তমানে প্রতি হাজার শিশু জন্মের সময় ৩২ জনের মৃত্যু ঘটে। মূলত জন্মের প্রথম সপ্তাহে নবজাতক মারা যায়। এসব নিয়েই পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পক্ষে স্বাভাবিক সেবা প্রদান ব্যাপক কর্মসূচী এগিয়ে চলেছে। এ প্রক্রিয়ায় আজ বুধবার চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে অনুষ্ঠিত হবে একটি কর্মশালা, যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। চট্টগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা দফতরের উপ পরিচালক ডাঃ উ খ্যে উইন জানান, এ ধরনের কর্মসূচী শুধু জেলা নয় বিভাগজুড়ে চলছে। অনুরূপভাবে সিলেট বিভাগেও অব্যাহত রয়েছে।