১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আফগানিস্তানকে হারাতে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফিরা

মিথুন আশরাফ ॥ শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারাল বাংলাদেশ। একই দলকে ৯১ রানে হারাল আফগানিস্তান। তাতে করে এশিয়া কাপের গ্রুপপর্ব থেকেই শ্রীলঙ্কার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ‘সুপারফোরে’ খেলা নিশ্চিত করে নিল। এই দুই দলই আবার বৃহস্পতিবার একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় ম্যাচটি শুরু হবে। আফগানিস্তানকে হারাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

আফগানদের বড় করে দেখতে রাজি নয় বাংলাদেশ। যতই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আফগানিস্তান ভাল খেলা দেখাক। মেহেদী হাসান মিরাজই যেমন বলেছেন, ‘আফগানিস্তানকে বড় করে দেখার কিছু নেই।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘হারাতেই হবে পরিকল্পনা করে নামলে আসলে হয় না। একটা প্রসেসের মধ্যে থাকতে হয় আসলে। দিনশেষে আমাদের যা আছে, নিজেদের সাধ্য মতো দিয়ে চেষ্টা করব। ব্যাটিং-বোলিংয়ের প্রসেসের মধ্যে করব। আসলে প্রতিটা জিনিসই প্রসেসের মধ্যে থাকতে হবে। প্রসেসের বাইরে গেলে হবে না। আমরা সবাই মানসিকভাবে শক্ত আছি। প্রসেসের মধ্যে আছি। ইনশাআল্লাহ ভাল কিছু হবে। বাড়তি চাপ নিচ্ছি না আমরা।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে জিতেছে আফগানিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে আসলেই পাত্তাই দেয়নি। তাই বলে বাংলাদেশের বিপক্ষেও একই খেলা খেলবে আফগানিস্তান তা ভাবার কোন কারণ নেই। এই ফরমেটে যে বাংলাদেশ অসাধারণ দল। বিপদ সামনে এসে দাঁড় হলেও তা এড়িয়ে জয় তুলে নিতে পারে এখন বাংলাদেশ। তা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে প্রমাণও হয়েছে। আফগানিস্তান স্পিনারদের একটু দেখে বুঝে খেললেই হলো।

স্পিনে ভাল খেলা মোহাম্মদ মিঠুনই যেমন বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ভয় জিনিসটা আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটাকে কাটাতে হবে। হতে পারে, ওদের দুই-তিনটা বিশ্বমানের স্পিনার আছে। কিন্তু এমন না যে তাদের খেলা যায় না, খেলা যায়।’ রশিদ খান, মুজিব জাদরান, মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে সামান্য হলেও ভয় আছে। এ তিন স্পিনারই শ্রীলঙ্কানদের ডুবিয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। মিঠুন জানিয়েছেন, ‘আমরা যদি আগে থেকেই ভালভাবে পরিকল্পনা করি, আমার মনে হয় সমস্যা হবে না। র‌্যাঙ্কিং বলেন, রেকর্ড বলেন, সবদিকেই ওয়ানডেতে ওরা (আফগানিস্তান) আমাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয় না খুব বেশি চিন্তার কিছু আছে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে একবারই খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে। সেই ম্যাচটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে জিতেছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে ২০১৬ সালে হওয়া সিরিজেও জিতেছে। একটি ম্যাচও হেরেছে। আর সর্বশেষ দুই দলের মধ্যকার দেরাদুনে হওয়া তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ টি২০ ফরমেটে খেলা হচ্ছে না। হচ্ছে ওয়ানডে ফরমেটে। এ ফরমেটে বাংলাদেশ যে কতটা ভাল দল তা প্রতিটা দলই টের পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সেটাই বোঝা যাবে। বাংলাদেশের জন্য অবশ্য ম্যাচটিতে খানিক বিপদও আছে। ওপেনার তামিম ইকবাল যে নেই। সাকিব আল হাসানও পুরোপুরি সুস্থ নন। আবার মুশফিকুর রহীমও একই অবস্থার মধ্যেই আছেন। তামিমের পরিবর্তে নাজমুল হোসেন শান্ত অথবা মুমিনুল হক খেলতে পারেন। তামিমের অভাব কী তারা পূরণ করতে পারবেন? সাকিবও কী পুরোপুরি নিজের ভঙ্গিতে খেলতে পারবেন? প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকও কী একই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যেতে পারবেন? অনেক সমস্যা আছে। সেই সমস্যাগুলো এখন কাটিয়ে ওঠা গেলেই হলো। বাংলাদেশের তুলনায় আফগানিস্তান ভাল অবস্থায় আছে। কোন ইনজুরি সমস্যা নেই। আবার দলে ব্যাটিং-বোলিং সবদিকে আছে ভারসাম্য। শাহজাদ, ইহসানুল্লাহ, রহমত শাহ, আসগর স্ট্যানিকজাই, শহিদি, নবীরা যে কোন সময়ই বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখাতে পারেন।

আবার বল হাতে রশিদ, মুজিব, নবীর সঙ্গে পেসার গুলবাদিন নাইবও নৈপুণ্য দেখাতে প্রস্তুত। আফগানিস্তানকে বড় করে না দেখলেও ছোট্ট করে দেখার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন তাহলে আফগানিস্তানের কুলিয়ে ওঠার কথা নয়। এখন দেখা যাক, আফগানিস্তানকে হারাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ কেমন করে।