১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকা ছাড়ছেন

  • জাতিসংঘে ভাষণ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে ৬ দিনের সরকারী সফরে আগামী শুক্রবার নিউইয়র্কের পথে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং একই দিনে তাঁর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের সঙ্গে বৈঠক করারও কথা রয়েছে।

শুক্রবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবে। একই দিনে লন্ডনের স্থানীয় সময় তিনটা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন।

লন্ডনে দু’দিনের যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী রবিবার সকালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটযোগে নিউইয়র্কের পথে লন্ডন ত্যাগ করবেন। ফ্লাইটটি সেদিনই স্থানীয় সময় একটা ৪০ মিনিটে নিউ জার্সির নিউইয়র্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন এবং রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা পর্ব শেষে একটি সুশোভিত মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে প্রধানমন্ত্রীকে নিউইয়র্কের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি ওখানেই অবস্থান করবেন।

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালিজুলেইদ এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট। প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন এবং সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেওর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম দিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের মিডটাউনের হোটেল হিলটনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘গেøাবাল কল টু এ্যাকশন অন ড্রাগ প্রবলেম’ শীর্ষক হাই লেভেল ইভেন্টে যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরের ইকোসক চেম্বার (ইসিওএসওসি) ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফ্যুজিস আয়োজিত ‘গেøাবাল কমপ্যাক্ট অন রিফ্যুজিস : এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি এন্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক হাইলেভেল ইভেন্টে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ সদর দফতরের দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী হোটেল গ্রান্ড হায়াতে যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের গোলটেবিল মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকেও অংশ নেবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে নেলসন ম্যান্ডেলা পিস সামিটেও বক্তৃতা প্রদানের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

নিউইয়র্কের কনভেন কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইমপ্যাক্ট সামিটেও তাঁর যোগদানের কথা রয়েছে। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্স রুম ১১তে কানাডার প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মহিলা এবং নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। তিনি জাতিসংঘের বৈশ্বিক শিক্ষাবিষয়ক বিশেষ দূতের আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দফতরের ৩ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠেয় ‘মেকিং ইমপসিবল পসিবল : আনলকিং হিউম্যান পোটেনশিয়াল থ্রো দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ফেসিলিটি ফর এডুকেশন’ শীর্ষক হাই লেভেল ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত স্বাগত সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। সংবর্ধনাটি নিউইয়র্কের লোটিস্থ নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ সেপ্টেম্বর সাইবার নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক হাইলেভেল ইভেন্টে অংশ নেবেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিএ) যৌথভাবে জাতিসংঘ সদর দফতরের ৩নং কক্ষে এটির আয়োজন করবে। সাধারণ পরিষদ ভবনের নর্থ ডেলিগেট লাউঞ্জে জাতিসংঘের মহাসচিবে মধ্যাহ্ন ভোজে যোগদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে অছি পরিষদের আয়োজিত মহাসচিবের হাইলেভেল ইভেন্ট ‘এ্যাকশন ফর পিস কিপিংয়ে (এ ফোর পি) অংশগ্রহণ করবেন।

২৬ সেপ্টেম্বর ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর, ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফ্যুজিস (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্দি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি মঘেরনিনির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালিজুলেইদ’র সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ২৭ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন এবং ওআইসি সচিবালয়ের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সদর দফতরের ১২নং কক্ষে অনুষ্ঠেয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত হাইলেভেল সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দফতরে তাঁর সভাকক্ষে বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক কমিটি অব রেডক্রসের (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মওরারের জাতিসংঘের দ্বিপাক্ষিক সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। একইদিন মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেওর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা।

‘নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এটি লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্টের আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দফতরের ৩ নং কক্ষে হবে। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সদর দফতর ইন্টার প্রেস সার্ভিসেসের (আইপিএস) সংবর্ধনায়ও যোগদানের কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং নিউইয়র্কের পার্ক এভিনিউয়ে গেøাবাল হোপ কোয়ালিশন আয়োজিত বার্ষিক নৈশভোজে যোগ দেবেন। অন্যবারের মতো এবারও সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দানের পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের নিউইয়র্ক কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে শেখ হাসিনা জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন। আবুধাবী হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেশে ফেরার কথা।