২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থামছে না পায়রার ভাঙ্গন ॥ ব্লক নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

থামছে না পায়রার ভাঙ্গন ॥ ব্লক নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, বরগুনা ॥ নদীর ভাঙ্গনে প্রতিদিনই আয়তনে ছোট হচ্ছে আমতলী ও তালতলী উপজেলা। নদী ভেঙ্গে পূর্বের চেয়ে প্রস্থ তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ দিনে পায়রা নদীতে অর্ধশত একর জমি ও শতাধিক ঘর বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ফসলি জমি ও ঘর বাড়ী হারিয়ে পথে বসেছেন হাজারো পরিবার। ভয়াল পায়রা নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ী রক্ষায় দ্রুত ব্লক নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানাগেছে, প্রমত্তা বুড়িশ্বর বা পায়রা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৯০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ছিল ১২০০ মিটার। বর্তমানে নদীটি ভেঙ্গে গড় প্রস্থ হয়েছে ৩৫০০ মিটার। নদী ভেঙ্গে পূর্বের চেয়ে প্রস্থ তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভয়াল পায়রা নদী উত্তাল থাকে। জোয়ার ও ভাটার স্রোতে নদী ভেঙ্গে আকারে বড় হচ্ছে। গত ৫০ বছরে নদীর পাড়ের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও হাজার হাজার পরিবারের ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভিটা মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ। সম্প্রতি গত ১৫ দিনে আমতলী ও তালতলীর ৩০ কিলোমিটার পায়রা নদীর চাওড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘটখালী, পৌর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড, লোচা, আড়পাঙ্গাশিয়ার পশুরবুনিয়া, বালিয়াতলী, পচাঁকোড়ালিয়া স্লুইজ, মৌপাড়া, গাবতলী, নকড়ী, তেতুঁলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গার অর্ধশত একর ফসলি জমি ও শতাধিক ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই এ সকল স্থান দিয়ে প্রবল স্রোতের চাপে নদীর পাড় ভাঙ্গছে। নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় এলাকাবাসী ব্লক নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম বলেন, পায়রা ভাঙ্গন রোধে পশ্চিম ঘটখালী, আমতলী পৌরসভা, পশুরবুনিয়া, বালিয়াতলী, মৌপাড়া, জলায়ভাঙ্গা ও তেতুলবাড়িয়ার প্রায় ১০ কিলোমিটার পাড় নদী ভাঙ্গন রোধের চতুর্থ স্তরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান অফিসে তালিকা করে পাঠিয়েছি।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, এ বছর পায়রার ভাঙ্গন রোধের কোন পরিকল্পনা নেই। আগামী অর্থ বছরে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।