২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গান আর ফুলের শুভেচ্ছায় শব্দসৈনিক অরূপরতন চৌধুরীরর জন্মদিন উদ্যাপন

গান আর ফুলের শুভেচ্ছায় শব্দসৈনিক অরূপরতন চৌধুরীরর জন্মদিন উদ্যাপন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গান, ফুল আর শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্যদিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক একুশে পদকপ্রাপ্ত রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী ও মাদকবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক মাসনের সভাপতি ড. অরূপরতন চৌধুরীর জন্মদিন উদ্যাপন হয় বুধবার বিকেলে। রাজধানীর বারডেম অডিটরিয়ামে মাসিক সঙ্গীত পত্রিকা সরগম আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব মো: নাসির উদ্দীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক এমিরেটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান।

সভাপতির বক্তব্যে আনিসুজ্জামান বলেন, অরূপরতন জন্মগ্রহণ করেছে এমন এক পরিবারে, যারা প্রত্যেকেই কোন না কোন দিক দিয়ে বিখ্যাত হয়ে আছে। অরূপরতন একাধারে দন্ত চিকিৎসক, লেখক ও সঙ্গীতশিল্পী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কণ্ঠ যে অবদান রেখেছে, তারজন্য আমরা গর্ব করি। মাদকের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করে চলেছে, তাও দেশের জন্য একটা বড় কাজ বলে মনে করি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, অরূপরতন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা। ওনার আমিও একজন রোগী। গান ও মাদক বিরোধী সংস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। দেশের মাদক বিরোধী যুদ্ধের একজন সম্মূখকাতারের সৈনিক। এই সংগ্রাম আমাদের দেশে আরও জোরালো হবে এই প্রত্যাসা করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিসচিব মো: নাসির উদ্দীন বলেন, অরূপ দা মাদক বিরোধী যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, এরসাথে সংস্কৃতিরও যোগমসূত্র স্থাপন জরুরী।

নিজের জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশে অরূপরতন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্ভূদ্দ হয়ে আমি যখন যুদ্ধে গিয়েছিলাম তখন বয়স ১৮বছর। এখন এই বয়সে অনেক তরুণ মাদকে আসক্ত। এই মাদকের বিরুদ্ধে লড়ে যাব আজীবন। আমার নেশা গান, পেশা চিকিৎসা ঠিক রেখে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ফকির আলমগীর, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক কল্যাণী ঘোষ, বারডেমের প্রাক্তন ডিজি প্রফেসর নাজমুন নাহার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্মেলক কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি’ রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করে সরগম সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা। এরপর একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী উল্কা হোসেন ও অনুরাধা। আলোচনা ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পর পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরগম সম্পাদক রওনাক হোসেন।

শিল্পকলায় আরণ্যকের ‘দ্য জুবিলি হোটেল’ নাটক মঞ্চস্থ:

আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজনা ‘দ্য জুবলি হোটেল’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায়। মান্নান হীরার রচনা ও নির্দেশনায় এটি দলের ৫৭তম প্রযোজনা। মফস্বল শহরের একটি বিখ্যাত চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে নাটকটির কাহিনি আবর্তিত। নাটকের গল্পে দেখা যায়, জুবিলি হোটেলে শহরের সর্বস্তরের মানুষের নিয়মিত আড্ডা চলে। হারু মণ্ডল নামের এক প্রবীণ নাট্য-নির্দেশক তার দলবল নিয়ে এখানে নিয়মিত আড্ডা দেয় আর ‘সুলতানা রাজিয়া’ নামক একটি নাটক করার জন্য নিয়মিত মিটিং করে। ২০ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চললেও অদ্যাবধি ‘সুলতান রাজিয়া’ মঞ্চে আসেনি। কারণ সুলতানা রাজিয়া চরিত্রে অভিনয় করার জন্য কোনো অভিনেত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। শহরে আসে যাদুর দল ‘দ্য ঘোষ ম্যাজিক পার্টি’। সেই ম্যাজিক পার্টির নৃত্যশিল্পী হেমা মালিনীকে দেখে হারু মণ্ডলের মনে হয় সেই হতে পারে সুলতানা রাজিয়া। হারু মণ্ডল তাকে প্রস্তাব দেয় অভিনয় করার জন্য। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ম্যাজিক পার্টির সঙ্গে পাকা স্ট্যাম্পে চুক্তি। জুবিলি হোটেলের কর্মী মমতা। যে কিনা নানা প্রতিকূলতার মাঝেও সারাক্ষণ একটি সুন্দর সংসারের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নির্মম ষড়যন্ত্রে তা ভেঙ্গে হয় খানখান। জুবিলি হোটেলের আরেকজন নিয়মিত আগন্তুক হলেন বাউল। হোটেলে বাউল এলে যেন প্রাণের স্পন্দনে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে হোটেলটি। বাউলের কণ্ঠে মানব ধর্মের গান শুনে সকলের মনে বোধোদয় হলেও ধর্মীয় উগ্রবাদের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের তা ভালো লাগে না। তাই তো তাদের রোষানলে পড়ে বাউল। এমনই নানা দ্বন্ধের মধ্য দিয়ে এগোতে থাকে নাটকটির কাহিনি। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন-তমালিকা কর্মকার, আরিফ হোসেন আপেল, সাজ্জাদ সাজু, রুবলী চৌধুরী, মনির জামান, অপু মেহেদী, ইশতিয়াক হোসেন, রিয়া, রানু, রিমা, আমানুল হক হেলাল, পার্থ চ্যাটার্জী, কৌশিক সাহা, মাহাফুজ মুন্না, নিকিতা নন্দিনী, সাঈদ সুমন, মরু ভাস্কর, তাজউদ্দিন তাজু, রেজওয়ান পারভেজ, কামরুল হাসান, ফিরোজ মামুন, জুবায়ের জাহিদ, শাহরান, শেখ জিয়াদুল হক, এস রানা, আল আমিন, সুজাত শিমুল, সাক্ষ্য শাহীদ, আমিনুল হক, মান্নান হীরা প্রমুখ। ফয়েজ জহিরের মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় নাটকের সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন সুজেয় শ্যাম। সুরাইয়া শান্তার পোশাক পরিকল্পনায় এ প্রযোজনার কোরিওগ্রাফি করেছেন প্রিয়াঙ্কা।