১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন ষড়যন্ত্র শুরু

  • বিএনপি ও জামায়াতের তিন ব্যক্তি লিখলেন সিনহার বই ;###;মীর কাসেম আলীর ভাই মামুনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন সিনহা

শংকর কুমার দে ॥ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতার পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে অবশেষে ষড়যন্ত্রের ঝাঁপি খুলে দিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা)। সুরেন্দ্র কুমার সিনহার লেখা ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামের বইটি যার বাংলা তরজমা করলে দাঁড়ায়, ‘আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের স্বপ্নভঙ্গ’ বাজারে ছেড়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন তিনি। তার লেখা বইটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার এ্যামাজনে উন্মুক্ত করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বইটি প্রকাশের নেপথ্যের সব খোঁজ খবর নিচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থা। বিদেশে অবস্থানরত এসকে সিনহাকে রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বিএনপি-জামায়াতের বি টিম পরিচিত সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্থান হওয়া তৃতীয় শক্তি। যে কোন মূল্যে আওয়ামী লীগের সরকারকে উৎখাত করে বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় বসাতে দেশে-বিদেশে তৎপর তৃতীয় শক্তির মুরব্বি একজন নবেল লরিয়েটসহ সুশীল সমাজের বুদ্বিজীবী পরিচিত জনরা পর্দার অন্তরালে যে অপ-তৎপরতা চালাচ্ছেন তারই নীল নক্সার অংশ এসে সিনহার লেখা বাইটি বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে তৃতীয় শক্তির সঙ্গে এবার কানেকশন হয়েছে সুদূর আমেরিকায়। আমেরিকায় অবস্থান করে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের ছক কষছে রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ হওয়া সুশীল সমাজের বুদ্ধিজীবী পরিচিত তৃতীয় পক্ষ। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার যাতে ফের ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য বিরাট অংকের ডলার ডিল হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বক্তব্য রাখবেন, সরকার বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসাবে তার লেখা একটি বই বাজারে ছেড়েছেন বিদেশের মাটিতে অবস্থারত এসকে সিনহা। বিদেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তার বই ও বক্তব্য ভাল করে কভারেজ দেয়ানোর জন্য এই ডলারের ফান্ড ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে ষড়যন্ত্রের তার ঘনিষ্ঠজন পরিচিত নিকটতম বিচারপতি, খ্যাতনামা আইনজীবী, বিচারপতি, সুশীল সমাজের কথিত বুদ্ধিজীবীসহ সরকারবিরোধী জোট তার ষড়যন্ত্রের সঙ্গী অশুভ শক্তি। তার ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত বিচারপতিদের মধ্যেও কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এসকে সিনহা। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বিচারপতি, আইনজীবী, রাজনীতিক, সুশীল সমাজ ও স্বাধীনতার বিপক্ষের অশুভ শক্তি বলে পরিচিতদের সঙ্গে কানেকশন নিয়ে ষড়যন্ত্রের যে ছক কষা হয়েছে সেই বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার লেখা একটি বই বের হয়েছে তার নাম ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনাম। বাংলা তরজমা করলে দাঁড়ায়, ‘আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের স্বপ্নভঙ্গ’ শিরোনামের বইটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার এ্যামাজনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। তার লেখা এ্যামাজন বইটির একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রকাশ করেছে, যেখানে বিচারপতি সিনহা দাবি করেন, ২০১৭ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের কারণে বর্তমান সরকার তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। ওই রায়ের মাধ্যমে তিনি বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে যাওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বইতে লিখেছেন, ‘২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের বিচারকদের সর্বসম্মত ওই রায়ে রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রবণতা নিয়ে আমি যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছি, সেটি দেশের মানুষ ও সুশীল সমাজ ভালোভাবে গ্রহণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভাল গুরুত্ব পায়।’এসকে সিনহা তার বইয়ে লিখেছেন, ‘আমি আমার সরকারী বাসবভনে বন্দী ছিলাম। আইনজীবী এবং বিচারপতিরা আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। মিডিয়াকে বলা হয়েছে আমি অসুস্থ এবং আমি চিকিৎসার ছুটি চেয়েছি। কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন আমি চিকিৎসা ছুটিতে বিদেশে যাব। ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ আমাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার সময় আমি একটি বিবৃতি দিয়ে সবার কাছে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম যে আমি অসুস্থ নই এবং চিরতরে দেশও ত্যাগ করছি না।’ বিচারপতি সিনহা দাবি করেছেন, এরপর তার পরিবার ও স্বজনদের ভয়-ভীতি দেখানোয় তিনি বিদেশে থাকতেই পদত্যাগপত্র জমা দেন।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি বই বের হয়েছে। বইটির ‘মুখবন্ধ’ এবং প্রচ্ছদ অনেকে প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে যাতে সর্বোচ্চ আদালতের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর তার সঙ্গে আদালতের বেঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান সর্বোচ্চ আদালতের অন্যান্য মাননীয় বিচারপতিগণ। এরপর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন যা তার বইতে প্রকাশ না করে সরকারের বিরুদ্ধে এক তরফা বিষোদগার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, আমেরিকার নিউইয়র্কে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেমের ভাই মীর মামুনের সঙ্গে। এসকে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তার সঙ্গে লন্ডনে গোপন বৈঠক হয়েছিল যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) পরিবারের। সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তার পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে গোপন বৈঠকটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সাকা চৌধুরীকে রক্ষা করা সম্ভবপর হয়নি। সাকা চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতির গোপন বৈঠক নিয়ে তখন ব্যাপক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে ঘটনাটি সর্বোচ্চ আদালতের শুনানীতে পর্যন্ত গড়ায়। এখন আবার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার যাতে ফের ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীসহ সরকার বিরোধী খ্যাতনামা আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন এসকে সিনহা।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় চলতি মাসে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিষয়ে যে বক্তব্য তুলে ধরেছেন তা ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে গোপনে টাকা দিয়েছে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ভাই মামুন। সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কিছু তথ্য আমার কাছে এসেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিন্দিত সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা সম্প্রতি নিউইয়র্ক এসেছিলেন। সেখানে তিনি গোপনে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ভাই মামুনের সাথে দেখা করেন। আমরা জানতে পেরেছি মামুনের কাছ থেকে তিনি বড় অংকের টাকা পেয়েছেন। টাকাটা তাকে দেয়া হয়েছে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। তাদের এই আলাপ দেখেছে ও সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এই প্রবন্ধটিতে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের ‘কূ-শীল’ সমাজ কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন যদি ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতো।’ তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে অপরিচিত বা অজনপ্রিয় মানুষের ভূমিকা কম। একটি ষড়যন্ত্রকে সফল করতে হলে দরকার হয় উচ্চপর্যায়ের ও ক্ষমতাবান কাউকে। যেমন সিনহা বা শহিদুল আলম। সজীব ওয়াজেদ জয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) কার্ড ব্যবহার করার নীলনক্সা প্রণয়ন করেছে সরকার বিরোধী একটি অশুভ শক্তি। বিদেশের মাটিতে অবস্থান করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে সাবেক ওই প্রধান বিচারপতি। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বই লেখাচ্ছেন ওই অপশক্তি চক্র। সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বইটি আগামী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ছাড়া হবে। আওয়ামী লীগের যাতে নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারে সেই জন্য জনপ্রিয়তায় ধস নামানোর নীলনক্সার অংশ হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী এসকে সিনহা কার্ড ব্যবহার করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে এমন তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি বিদেশে অবস্থান করলেও দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এক সঙ্গে বিচার বিভাগে কাজ করেছেন ঘনিষ্ঠ এমন বিচারপতি, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে তার। প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে বিদেশে চলে যাওয়ার পর দেশের সরকার বিরোধী রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকার ও রাজনীতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে তার দেশে কার সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ করছেন এবং বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে কি ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন আগে সাবেক প্রধান বিচারপরিত এসকে সিনহাকে দেশে ফিরে আসার জন্য টেলিফোনে অনুরোধ জানিয়েছেন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী। খ্যাতনামা আইনজীবীর জুনিয়র তাকে টেলিফোন ধরিয়ে দেন। বিদেশে অবস্থানকারী সাবেক প্রধান বিচারপতিকে অভয় দিয়ে দেশে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানান ওই আইনজীবী। টেলিফোনের ওই প্রান্তে অবস্থানকারী সাবেক প্রধান বিচারপতিকে টেলিফোনের এই প্রান্ত থেকে বলেন, ‘আপনি দেশে আসুন, আপনার ভয় কি, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। সাবেক প্রধান বিচারপতি দেশে ফিরে আসার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানা যায়নি। তবে বিচারপতি সিনহার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তার দেশে ফিরে আসার খবরে নড়েচড়ে ওঠে গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি দমন কমিশনে সাবেক প্রধান বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন অর্থসহ ১১টি অভিযোগ রয়েছে তা তদন্ত শুরু করে। হাইকোর্টের সোনালী ব্যাংক শাখায় সাবেক প্রধান বিচারপতির নামে জমা হওয়া ৪ কোটি টাকার বিষয়টি তদন্তের জন্য মাঠে নামে তদন্ত সংস্থা দুদক। যারা প্রধান বিচারপতির নামে ৪ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। বিতর্কিত এই বিচারপতি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের দায় এড়াতেই বিদেশে অবস্থানের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা দেশে না থাকার জন্য তার বিরুদ্ধে দুদুকের তদন্ত থেমে থাকলেও বিদেশে তার তৎপরতা থেমে নেই। বিদেশের মাটিতে অবস্থানকারী সিনহাকে দিয়ে বই লিখানো হচ্ছে। এই বই লেখার বিষয়ে তাকে সহযোগিতা করছেন আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন খ্যাতনামা আইনজীবী, একটি বড় ধরনের পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক। একটি বড় ধরনের প্রত্রিকার প্রকাশনী থেকে এসকে সিনহার বই ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও তা প্রকাশনীর নাম ব্যবহার না করে ছদ্মনামের প্রকাশনীর নাম ব্যবহার করা হতে পারে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসকে সিনহাকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য যারা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তাদের মধ্যে সরকার বিরোধী সাংবাদিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী কয়েকজন ব্যক্তি। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা মাঝে মধ্যেই আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই সব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার বিরোধী মহলেরও যোগাযোগ রয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার বিদেশের মাটিতে সরকারের বিরুদ্ধে তৎপরতায় কাজে লাগানো হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরাতে জুডিসিয়াল ক্যুতে জড়িত ছিলেন। আইনমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ও বক্তব্য দেয়ার পর নড়ে চড়ে ওঠেছে গোয়েন্দা সংস্থা। খোঁজ খবর নিতে শুরু করে বিদেশে অবস্থানকারী প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার। জাতীয় শোক দিবস (১৫ আগস্ট) উপলক্ষে গত ৮ আগস্ট সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। আনিসুল হক বলেন, প্রথম ষড়যন্ত্র হলো একটি জুডিসিয়াল ক্যু (বিচারিক অভ্যুত্থান)) করে শেখ হাসিনাকে কী করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরানো যায়, সেই চেষ্টা করা। আমাদের সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র কারা করেছে তাদের নাম আমরা জানি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা তাদের তো চিনবেনই। ড. কামাল হোসেনকে আপনারা চেনেন না? তারপর এই ষড়যন্ত্র যখন বিফলে গেছে, আমি জানি আমাকে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের সিটিং জাজেরা বলেছেন, তারা (জাজেরা) একটি অনুষ্ঠানের জন্য ড. কামাল হোসেনকে ডাকতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি (ড. কামাল হোসেন) তাদের সিনহার (এসকে সিনহা) ব্যাপারে বকাঝকা করেছেন। তিনি বলেছেন, কেন সিনহার ব্যাপারে তারা (জাজরা) প্রতিবাদ করেননি, কেন সিনহাকে তারা সরিয়েছেন ?

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, এসকে সিনহার প্রধান বিচারপতি থাকাকালেই কারাগারে আটক যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সাকা চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে এসকে সিনহার যোগাযোগের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেন জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় তার কলামে। ওই কলাম নিয়ে আদালত অবমাননা মামলা হলে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের বৃহত্তর বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ফোনালাপের সিডি উপস্থাপন করা হয়। এই সিডিটি বেসরকারি একাত্তর টিভিতে প্রচারিত হয় ও দৈনিক জনকণ্ঠেও এর একাংশের শ্রুতি লিখন ছাপা হয় এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য হলফনামা জমা দিলে-সিনহা পরবর্তীতে তার সঙ্গে বেআইনীভাবে অনেক অত্যাচার করেন। তার পেনশন আটকে রাখেন।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, গত ১১ নবেম্বর ২০১৭ সালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে পদত্যাগ করেন। সিঙ্গাপুর থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি কানাডায় চলে যান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সাবেক এই প্রধান বিচারপতি সিঙ্গাপুরে আসেন।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার লেখা বাইটি বিদেশের বাজারে ছাড়া হয়েছে, যা দেশের বাজারে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট। এই জোটকে সহায়তা করছে রাজনৈতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ ঘটানো তৃতীয় শক্তির দাবিদার বলে পরিচিত একটি জোট। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসতে না পারে সেটাই তাদের উদ্দেশ্য। এস কে সিনহার লেখা বইটিতে এমনভাবে বিষোদগার করা হয়েছে যাতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে নেতিবাচক প্রচার করতে পারেন বিএনপি-জামায়াত জোটসহ তৃতীয় শক্তির দাবিদার ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা।