২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যাচাই-বাছাইয়ের পর এমপিওভুক্ত করা হবে ॥ শিক্ষামন্ত্রী

  • ৯ হাজার ৪৯৮ আবেদন জমা পড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ৯ হাজার ৪৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন মাঠপর্যায়ে সরজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের পর উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৯টি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বৈঠকে শিক্ষা উন্নয়নে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা জাতীয়করণ, ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রদান ও পদোন্নতির দাবি তুলেছে অধিকাংশ শিক্ষক সংগঠন।

দীর্ঘদিন পর স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সক্রিয় প্রায় সব শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গেই বৈঠক করলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জানা গেছে, গত ৫ থেকে ২০ আগস্ট বেসরকারী স্কুল ও কলেজের কাছ থেকে অনলাইনে এমপিভুক্তির আবেদন নেয়া হয়। এখন চলছে যাচাই-বাছাই। অনলাইনে আবেদনের পর যেসব প্রতিষ্ঠান নম্বর পেয়ে যোগ্যতায় টিকেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে যাচাই-বাছাই করবে কমিটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন ও মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সচিব মোঃ আলমগীর, শিক্ষক নেতাদের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ এমএ সাত্তার, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আসাদুল হক, অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সাজু, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি শাহজাহান খান, জমিয়াতুল মোদার্রেছিনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজীসহ শিক্ষক-কর্মচারী সব সংগঠনের প্রায় অর্ধশত নেতা। সরকারী শিক্ষক নেতাদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত ‘স্বাধীনতা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সংসদ’র আহ্বায়ক প্রফেসর নাসির উদ্দিন, সদস্য সচিব সৈয়দ জাফর আলী ও যুগ্ম-আহ্বায়ক বিপুল চন্দ্র সরকার।

বৈঠকের পর কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ এমএ সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সরকারের আমলে শিক্ষায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে; অভূতপূর্ব সংস্কারও হয়েছে। এরপরও শিক্ষকদের কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। আমরা শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি বিশেষ করে বৈশাখী ভাতা দেয়া, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছি। এছাড়াও শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। তিনি আমাদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শুনেছেন। কারিগরি শিক্ষায়ও এ সরকারের আমলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তার পরেও শিক্ষকদের বেশকিছু সমস্যা আছে। এমপিও ইনক্রিমেন্টসহ নানা সুবিধা প্রপ্তিতে যে বাধাগুলো আছে তা আমরা জানিয়েছি। মন্ত্রী বলেছেন, এসব বিষয় তিনি দেখবেন।

মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, ইনক্রিমেন্টসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয় তুলে ধরেছি। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়াগুলো বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়াও ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ভাতা, কল্যাণ তহবিলের জটিলতা দূর করার কাজটি সরকারের বিবেচনায় আছে, পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন।