১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দক্ষিণ এশিয়ায় ১৮ বিলিয়নের বেশি বাণিজ্য সম্ভব

দক্ষিণ এশিয়ায় ১৮ বিলিয়নের বেশি বাণিজ্য সম্ভব
  • বাংলাদেশের বহির্বাণিজ্য বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্য হচ্ছে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার। এটি ১৮.৯ বিলিয়ন করা সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্কের মতো ‘প্যারা’ শুল্ক বাধার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ছে না বলেও সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এ গ্লাস হাফ ফুল: দ্য প্রমিজ অব রিজিওনাল ট্রেড ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বাংলাদেশের বাণিজ্য এখন ৮৪.৩ বিলিয়ন ডলার। অথচ দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য হচ্ছে মাত্র ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের। সারা বিশ্বে যেখানে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে, সেখানে গত ২৫ বছরে এ অঞ্চলের বাণিজ্য ২৩ বিলিয়ন ডলারে আটকে আছে। এক্ষেত্রে চার ধরনের বাধার কথা বলা হয়েছে। উচ্চ শুল্ক, ‘প্যারা’ শুল্ক, অশুল্ক বাধা এবং আস্থার সঙ্কট। এসব বাধা দূর করতে পারলে এ অঞ্চলের বাণিজ্য তিন গুণ অর্থাৎ ৬৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া সম্ভব বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাণিজ্য ইউরোপ, আমেরিকা নির্ভর। কারণ সেখানে সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য আরও বাড়াতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর তালিকায় থাকা পণ্যের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছি।

আঞ্চলিক বাণিজ্য নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্যে বড় বাধা শুল্ক। কিছুটা অশুল্ক বাধাও রয়েছে। সেগুলো দূর করার চেষ্টা চলছে। কানেকটিভিটি বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ’৪৭ এর মতো কানেকটিভিটি সম্ভব নয়, তবে চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (সাফটা) কার্যকরের মাধ্যমে নতুন করে কানেকটিভিটি কার্যকর করা হবে। আমরা চেষ্টা করছি, গতকালও (মঙ্গলবার) ভারতের সঙ্গে কানেকটিভিটি বাড়াতে কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আমাদের কানেকটিভিটি আরও বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফান বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে বাণিজ্য নীতিমালার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। বাণিজ্য সংযোগ, জ্বালানি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক একত্রীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্র হতে পারে বলেও জানান তিনি। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার পরও দুই দেশের মধ্যে বৈধ পথে মাত্র ১৭ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। অথচ সম্ভাবনা রয়েছে কমপক্ষে সোয়া ৩ লাখ কোটি টাকার বাণিজ্যের। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য খরচ বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার গড় হার বিশ্বের প্রায় দ্বিগুণ।

অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সমন্বয়ক সঞ্জয় কাঠুরিয়া। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাফটা চুক্তি রয়েছে। ফলে কোন শুল্ক থাকার কথা নয়। অথচ এ অঞ্চলেই বেশি শুল্ক রয়েছে। সরাসরি শুল্কের বাইরেও আধা ট্যারিফ রয়েছে। এটাকে বলা যায় কোন শুল্ক নেই তবুও সবচেয়ে বেশি শুল্ক। অনুষ্ঠানে সীমান্ত হাট নিয়ে ভিডিও চিত্র দেখানো হয়। যেখানে দেখা যায় সীমান্ত এলাকা হাটের দিন মানুষের আয় বেশি হচ্ছে। বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি হচ্ছে। মানুষের সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে সীমান্ত হাটের মাধ্যমে। সীমান্ত হাটগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এটা ইতিবাচক এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে। সীমান্ত এলাকায় হাট বাড়লে অর্থনৈতিক উন্নয়নও হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার। এছাড়াও অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় যেখানে ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচিত সংবাদ