২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোটা বিলুপ্ত

কয়েক মাস আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারী চাকরিতে কোন কোটা না রাখার সুপারিশ করেছে সরকারী কমিটি। এসব পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদগুলোতে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কোটা বহাল থাকবে। এই সুপারিশ ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা এই সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, যা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। কেননা, যে কোন একটি বিষয় আইনে পরিণত করতে হলে তা যাচাই-বাছাইসহ কিছু প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমন, সচিব কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রশাসনিক আদেশে বিলোপ করা হবে কোটা পদ্ধতি। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মীমাংসা করা হবে। প্রতিবন্ধী কোটা ও ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণের বিষয়। অচিরেই এসবের সুষ্ঠু ও সুচারু সমাধান হবে বলেই সংশ্লিষ্টদের অভিমত। সব মিলিয়ে বলা যেতেই পারে যে, জামায়াত-বিএনপির কাঁধে সওয়ার হয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত সহিংস না হয়ে শান্তিপূর্ণ হতে পারত।

ইতোমধ্যে সরকার জনপ্রশাসন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চাকরির বয়স এন্ট্রি লেবেলে বর্তমানের ৩০-এর পরিবর্তে ৩২ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে শীঘ্রই সার্কুলার জারিরও সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। বাস্তবে বেশি বৈ কম নয়। জাতীয় সংসদে পরিবেশিত এক তথ্যে জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন পদে শূন্যপদের সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৫১১টি। অথচ দেশে উচ্চশিক্ষিত তথা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বেকারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার। মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষমÑ বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আরও যা আশার কথা তা হলো, দিনে দিনে বাড়ছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা পৌঁছবে ৭০ শতাংশে। নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে ধাবমান বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ অতিক্রম করা।

সেটা অতিক্রম করতে হলে ইউএনডিপি উল্লিখিত ৬৬ শতাংশ কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। অদক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করতে হবে দক্ষ জনশক্তিতে। জোর দিতে হবে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর। বাড়াতে হবে শিক্ষার মান। জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বোপরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জোর দিতে হবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর। বর্তমানে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে বৈচিত্র্য ও বহুমুখিতা কম। সেক্ষেত্রে ধান-চালের পাশাপাশি কৃষির বহুমুখীকরণ তথা অর্থকরী ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে। ভারি ও বহুমুখী শিল্পায়ন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংক-বীমাসহ কারিগরি উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে দেশেই। একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তৈরি বর্তমান সময়ের দাবি। পরিহার করতে হবে যে কোন ধরনের কূপম-ূকতা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন এবং তা অব্যাহত রাখতে হলে সুশাসনসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। সে অবস্থায় কোটা বিলুপ্তিসহ মেধাবীদের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচক হবে নিঃসন্দেহে।