২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত ভেবে ফেলে রাখা শিশু ৩ ঘণ্টা পর কেঁদে উঠল

  • যশোর জেনারেল হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ সালমা খাতুনের (২৮) সন্তান জন্মের পর নবজাতককে মৃত ভেবে কাপড়ে মুড়িয়ে বেডের নিচে রাখেন আয়া। তবে তিন ঘণ্টা পর রাত পৌনে আটটার দিকে স্বজনরা বেডের নিচ থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান। তখন কাপড় খুলে দেখেন সদ্যজাত শিশুটি নড়াচড়া করছে। সালমা খাতুন যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার ফারুক হোসেনের স্ত্রী।

এই নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে স্বজনদের সঙ্গে সেবিকাদের হট্টগোল হয়। খবর পেয়ে চিকিৎসক প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন। স্বজনদের অভিযোগ সেবিকা, আয়াদের কর্তব্য অবহেলার কারণে নবজাতক শিশুটির জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়েছে। প্রসূতির খালা আয়শা ও রজিনা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে সালমাকে গাইনি ওয়ার্ডে ডাঃ ইলা ম-লের অধীনে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রোগীকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়নি। তিন দিন পর প্রসূতি মায়ের ব্যথা ওঠে। তখন স্বজনরা সেবিকা ও চিকিৎসককে ডাকাডাকি করলেও কেউ সাড়া দেননি। পরে আয়া হেলেনা প্রসূতি সালমার অপরিপক্ব ২৭ সপ্তাহের শিশুকে বেডের ওপরে জন্ম দেন। এ সময় বাচ্চা নড়াচড়া না করার কারণে আয়া হেলেনা মৃত ভেবে শিশুটিকে কাপড়ে পেঁচিয়ে ওই বেডের নিচে রেখে দেন। পরে রাত সাড়ে সাতটার দিকে প্রসূতির স্বজনরা শিশুর কান্নার শব্দ পেয়ে শিশুটিকে খোঁজা শুরু করেন। এ সময় বেডের নিচ থেকে তারা শিশুটিকে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই নিয়ে ওয়ার্ডে স্বজনদের সঙ্গে আয়া ও সেবিকাদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। খবর পেয়ে আবাসিক সার্জন নিলুফার ইয়াসমিন ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নবজাতককে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে ডাঃ নিলুফার ইয়াসমিন এ্যামেলি উপস্থিত সাংবাদিদের জানান, রোগী তার ইউনিটের না। অন্য ইউনিটের গত চারদিন ধরে হাসপাতালে প্রেসার বেশি থাকায় প্রসূতিকে অবজারভেশনে রাখা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটি প্রি-ম্যাচিউর জন্ম নিয়েছে। অনেক সময় এ ধরনের শিশু মৃত হয়। শিশুটিকে নড়াচাড়া করতে না দেখে আয়া মনে করেছে শিশুটি মৃত জন্ম নিয়েছে। তাই সে শিশুটিকে কাপড়ে মুড়িয়ে বেডের নিচে রেখে দেন। তবে আয়া প্রসূতির ডেলিভারি করতে পারেন না। এ সময় সেবিকা থাকলে এ সমস্যা হতো না। শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। শিশুটির স্বজনরা উন্নত সেবার ব্যবস্থা নিতে পারলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব। তবে সেটি ব্যয়বহুল।