২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাবনাজুড়ে শুধুই ‘শাহেনশাহ’ -রোদেলা জান্নাত

  • রুহুল আমিন ভূঁইয়া

‘শাহেনশাহ’ ছবির মাধ্যমে নবাগত নায়িকার তকমা লাগাতে চলেছেন রোদেলা জান্নাত। আর প্রথম ছবিতেই নায়ক হিসেবে পাচ্ছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে। অনেকেই প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করতে। তবে কারও স্বপ্ন পূরণ হয় আবার কারও হয় না। সেইদিক থেকে রোদেলা জান্নাত সৌভাগ্যবান। কারণ অভিষেকেই পাচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিং খান খ্যাত অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। স্বপ্নটা পুরনো। কিন্তু বাস্তবায়নের সাহস পাচ্ছিলেন না। কোন পথে হাঁটবেন, তা নিয়েও ছিলেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। সে সময়ে এগিয়ে এলেন ঢালিউডের আলোচিত এ নায়ক। তার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে রোদেলা জান্নাতের। এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি।

নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। চারপাশ থেকে প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রোদেলা জান্নাত বলেন, সবাই খুব পজিটিব সাড়া দিচ্ছে। সবাই পজিটিবভাবেই নিয়েছে। চারপাশ থেকে সবার প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি পাচ্ছি। সবাই শুভকামনা জানাচ্ছে। আম্মু বরাবরই সাপোর্ট করেছে। প্রথমদিকে আব্বুর দ্বিমত ছিল। তবে এখন আর দ্বিমত নেই। বাবার ও পরিবারের পুরোপুরি সাপোর্ট ভালভাবেই পাচ্ছি। সংবাদ পাঠের শুরুটা কিভাবে হয়েছিল জানতে চাইলে চটপটে উত্তরে রোদেলা বলেন, নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগে কোন কোর্স করিনি। বেসরকারী টেলিভিশন এশিয়ান টিভি সার্কুলার দিয়েছে প্রেজেন্টার নেবে। ঘটনাটা এশিয়ান টেলিভিশনের নিউজ শুরুর দিকের। তখন চ্যানেলে শুধু প্রোগাম হতো। আমার মনে হলো আবেদন করি। তারা তিনটা ধাপে অডিশন নেয়। এবং উপস্থাপন ও উচ্চারণ দেখে। আমার বাংলা মোটামুটি আগে থেকেই উচ্চারণ ভাল ছিল। সাহস করে গেলাম। অডিশন দেয়ার পর সিলেক্ট হয়ে যাই। এবং আমাকে অফিসিয়ালভাবে চাকরিতে নিয়ে নেল। এভাবেই শুরু বললেন রোদেলা জান্নাত।

তবে এখন আর নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে রোদেলা কে দেখা যায় না। এ পেশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন। না দেখার কারন প্রসঙ্গে মিষ্টি হাসির এ সুন্দরী বলেন, দেশের বাইরে যাবার আগে তিন-চার মাসের মতো নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করেছিলাম। আরও অনেকদিন কাজ করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু ওই মাসে স্কলারশিপ পেয়ে দেশের বাইরে চলে গেলাম। পরে আর হলো না। তবে এখন আর প্রেজেন্টারে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছে নেই। এখন শুধু ভাবনাজুড়ে ‘শাহেনশাহ’ ছবি। ভাগ্যে পরীক্ষায় নেমেছি দেখা যাক শেষমেষ ভাগ্যেই কি রয়েছে। তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে তিনি জানান। এ ছবিতে তার চরিত্রর নাম প্রিয়া। মেয়েটি নাচ গানে পারদর্শী। চাল চলন মডার্ন। খুবই ভাল সামাজিক একটি গল্প দর্শক দেখতে পাবে। গল্পটা শাহেনশাহকে কেন্দ্র করে। এর বেশি কিছু বলা যাবে না। বাকিটা চমক থাক। তবে শাকিব খানের প্রিয়া নয়, ‘শাহেনশাহ’র প্রিয়া- বললেন রোদেলা জান্নাত। প্রিয়া চরিত্রর জন্য প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা পেশার জন্য আলাদা আলাদা প্রস্তুতি লাগে। ফিল্মের জন্য বেশ লম্বা সময় ধরে আমি নাচ অনুশীলন করেছি। চরিত্র, কস্টিউম নিয়ে ভাবছি। গল্পর উপর ভিওি করে যতটুকু দরকার নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করছি। কাজটি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে করব। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। প্রিয়া চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য তাকে প্রচুর বাংলা ছবি দেখতে হচ্ছে। যখনই সময় পান তখনই ইউটিউবে ছবি দেখেন। সর্বশেষ হলে গিয়ে ক্যাপ্টেন খান ছবি দেখেছেন। সাধারণত দেশে থাকলে বাংলা ছবি হলে গিয়েই দেখা হয়। -বললেন রোদেলা জান্নাত।

প্রথম ছবিতেই সুপারস্টারের মাধ্যমে অভিষেক।

প্রচলিত আছে মিডিয়ায় কাজ করতে গেলে নবীনদের ‘স্যাক্রিফাইস’ করতে হয়। অভিষেকের শুরুতে এমন কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে? না। আলহামদুলিল্লাহ্ এখন পর্যন্ত সে রকম কোন খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। আমাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। সুযোগটা আমি কতটুকু গ্রহণ করতে পারি সেটা এখন দেখার বিষয়। সহশিল্পী হিসেবে দুইজন জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রী পেয়েছি। এবং প্রযোজক সেলিম স্যার পরিচালক রনি ভাইসহ সবাই খুব হেল্প করছে। এখন পর্যন্ত সে রকম সমস্যা দেখছি না। আপনার চোখে শালমান শাহ? শালমান শাহ্ স্যার সম্পর্কে বলার আমার কোন যোগ্যতা নেই। তিনি খুব সুন্দর সাবলীলভাবে অভিনয় করতেন। গেল রবিবারও তার একটি ছবি দেখেছি। আমাদের বাংলাদেশে আরও অনেকদিন তার প্রয়োজন ছিল। তারে পাইনি এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনার ধারণা কি? যে কোন ইন্ডাস্ট্রি যদি পুরোপুরি পৃষ্ঠপোষকতা পায় তাহলে সেটা অনেক দূর এগিয়ে যায়। নিজের জায়গা থেকে নিজের কাজকে ভালবাসতে হয়। কাজে নিয়মিত হতে হয়। যতটুকু অবস্থায় এখন ইন্ডাস্ট্রি আছে তখন অবশ্যই আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে হয়। আমাদের এখানে হল সঙ্কট রয়েছে। তবে সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে দেশের সার্বিকভাবে যে হলো রয়েছে তা বিকাশিত হবে। শোবিজ নিয়ে পরিকল্পন? আমি খুব দূরে পরিকল্পনা করি না। এ মুহূর্তে আমার পরিকল্পনা ও ভাবনাজুড়ে শুধুই শাহেনশাহ।

আর কিছু এখন ভাবতে চাই না। প্রথম ছবিতে দর্শক গ্রহণ করলে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ঢাকাই চলচ্চিত্রের সম্ভাবনাময়ী এ নবাগত। তার জন্য রইল শুভ কামনা।