১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলাপাড়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রী খুনের পরে লাশ গুম ঘটনার জট খুলেনি

কলাপাড়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রী খুনের পরে লাশ গুম ঘটনার জট খুলেনি

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পূর্ব আলীপুর গ্রামে নবম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়মকে খুনের পর লাশ গুম করার খবরটি এখন সর্বত্র আলোচিত। পাশাপাশি এও বলা হচ্ছে- আদৌ কি মরিয়ম খুন হয়েছে। খুন হলে একই খাটে ঘুমানো মা নুরজাহান বেগম কেন টের পেলেন না। আর একই ঘরের দোতলায় ঘুমানো বড় বোন রেশমা কিংবা বোন জামাই মাঈনুল কেউ টের পেলনা।

মানুষ মরার আগে তো সর্বশক্তি দিয়েই বাচতে চায়। তবে ঘরের কিংবা বারান্দায় মেঝেতে কীভাবে রক্তে ভেঁজা ছিল। এক খন্ড মাংস পড়েছিল। পাওয়া গেল রক্তমাখা ছুরি। পায়ের নুপুর। সবমিলিয়ে পুলিশও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোন কিছু বলতে পারছেন না। সন্দেহের তীর মরিয়মের পাশে ঘুমুনো মাসহ বোন-বোনজামাইয়ের দিকে কিছুটা হলেও যাচ্ছে। তবে তা মরিয়ম খুন নয়। মরিয়ম বেচে আছে কিংবা কোথাও আত্মগোপনে কিংবা পালিয়ে যেতে পারে-যা তাঁরা জানতে পারে। বুধবার প্রত্যুষে মরিয়মের ঘর থেকে কিছু আলামত উদ্ধারের পর মরিয়ম ধর্ষণ, খুন-গুম এমনসব খবর বইছে সর্বত্র। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনটায় যে মরিয়ম ঠিকঠাক মায়ের পাশে ঘুমিয়ে ছিল এমন তথ্যের সত্যতার কথা জানায় বড় বোন রেশমা। সে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে গিয়ে ঘরে ফেরার সময় মরিয়মকে ডাক দেয়।

তখন মরিয়ম কথা বলেছিল। এরপরে সাড়ে চারটায় মা নুরজাহান ডাকচিৎকার করে মরিয়ম নেই। খুন হয়েছে। সঙ্গে লাশ গুম হয়েছে। এটি সত্যি হলেও দেড় ঘন্টায় এতো বড় নৃশংসতা ঘটে থাকলে মা পাশে থেকে কেন টের পেলেন না-এমনতর হাজারো প্রশ্নের উত্তর পুলিশসহ গণমাধ্যম কর্মীরা খুজে বেড়াচ্ছে। আবার এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ওই মাংসের খন্ড আসলে মরিয়মের শরীরের কোন অংশ কি না। মাংসখন্ড মানুষ কিংবা অন্য কিছুর কিনা তা পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মহিপুর থানা পুলিশ ও ছাত্রীর পারিবারিক সুত্রমতে, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে মৃত জেলে বাবুল মল্লিকের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৪০) শিশুছেলে হামিম (৩) ও মেয়ে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়মকে (১৫) নিয়ে এক খাটে ঘুমায়। ঘরের দোতলায় নুরজাহানের বড় মেয়ে রেশমা (১৯) ও মেয়ে জামাই মাঈনুল ঘুমিয়ে ছিল। রাত তিনটার দিকে রেশমা প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে বাইরে নমে। তখনও ঘরে ফেরার সময় ছোট বোন মরিয়মের সঙ্গে কথা বলেছে।

এরপর ভোর আনুমানিক চারটায় মা নুরজাহান বেগমের আর্তচিৎকারে ঘরের সকলের ঘুম ভাঙ্গে। মরিয়মকে না পাওয়া এবং ঘরের বিভিন্ন জায়গা রক্ত দেখে সবাই ডাকচিৎকার করলে পড়শিরা এগিয়ে আসে।

খবর পেয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৫টায় ঘটনাস্থলে যায় মহিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমানসহ একদল পুলিশ। তিনি বলেন, রক্ত মাখা দু’টি ছুরি ও মরিয়মের ব্যবহৃত পায়ের নুপুর এবং দুই টুকরো মাংস ঘরের মেঝেতে পাওয়া গেছে। জীবিত বা মৃত কোনভাবেই মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘরের বেড়াসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তে ভেসে গেলেও পরিবারের কেউ টের না পাওয়ার বিষয়টিও রহস্যজনক। তবে রক্ত দেখে মনে হচ্ছে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের ধারনা খুনের পরে লাশ গুম করা হতে পারে। তবে ঘটনা যাই ঘটুক না কেন প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ দুইদিন এক রাতে নিশ্চিতভাবে কোনটাই ঠিক তা উৎঘাটন করতে পারেনি। নানান কৌশলে চলছে তদন্ত প্রক্রিয়া। একাধিক গোয়েন্দা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে সতর্কভাবে এগুচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন মরিয়মের বডি উদ্ধার। তা মৃত কিংবা জীবন্ত হোক। যদি নিছক মরিয়ম নিজেই লাপাত্তা হয়ে থাকে তাইলে তাকে খুঁজে উদ্ধার করা প্রয়োজন। নইলে পুলিশি থানা মহিপুরের মানুষ চরম আস্থাহীনতার শঙ্কটে থাকবে।