১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের টার্গেট ২৫৬ রান

বাংলাদেশের টার্গেট ২৫৬ রান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ যেখানে একটা সময় গিয়ে ২০০ রানই করার কথা নয় আফগানিস্তানের। সেখানে ২৫৫ রান করে ফেলেছে আফগানরা। রশিদ খান (৫৭*) ও গুলবাদিন নাইব (৪২*) মিলে অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। এ দুইজনের ৯৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশের সামনে জিততে ২৫৬ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় আফগানিস্তান। টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে আফগানিস্তান। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, তিনিও আগে ব্যাটিংই নিতেন। কারণ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ব্যাটসম্যানরা থিতু হতে পারলেই যে মজবুত স্কোর গড়া সম্ভব। আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ২৫৫ রান করে তা বুঝিয়েও দিয়েছে।

আবু হায়দার রনি তার অভিষেকটা দুর্দান্তভাবেই করেছেন। শুরুতেই ২৮ রানে যে দুই উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান তা রনির অসাধারণ বোলিংয়েই। নিজের প্রথম ওভারেই ইহসানুল্লাহকে আউট করার পর তৃতীয় ওভারে গিয়ে রহমাত শাহকেও সাজঘরে ফেরান রনি। এরপর ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও হাসমতুল্লাহ শাহিদি মিলে মিলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। দুইজন মিলে আতঙ্কও তৈরি করে ফেলেন। তখন ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন সাকিব আল হাসান। নিজের প্রথম ওভারেই শাহজাদকে আউট করে দেন। আফগানিস্তান যখন ৭৯ রানে শাহজাদ ও শাহিদি মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে ফেলেন; রানের গতি বাড়াতে থাকেন তখন সাকিবের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে শাহজাদ (৩৭) সাজঘরে ফেরেন। লং অনে সুন্দরভাবে লাফিয়ে উঠে ক্যাচ ধরেন রনি। এখানেও রনি। টানা তিন উইকেটেই কোন না কোনভাবে রনির নাম যুক্ত থাকে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, আফগানিস্তান অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের সামনে বিপদ দাঁড় করাবে। তৃতীয় উইকেট পড়ার পর খানিক ঝিমিয়ে পড়ে আফগান ব্যাটসম্যানরা। ২৫ ওভারে ১০০ রান হওয়ার পর আর ১ রান যোগ হওয়ার পর সাকিব যখন অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাইকেও আউট করে দেন তখন আফগানিস্তান ব্যাটসম্যানরা ছন্নছাড়া হয়ে পড়েন।

এই বিপদ দূর করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন হাফসেঞ্চুরি করা শহিদি ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। কিন্তু সাকিব বল হাতে নিয়েই শেনওয়ারিকে সাজঘরে ফেরান। ১৩৯ রানে গিয়ে ৫ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। সাকিব ৩ উইকেট শিকার করে ফেলেন। উইকেট পড়তে থাকে। তবে আফগান ব্যাটসম্যানরা ধীরে ধীরে স্কোরবোর্ডে রানও জমা করতে থাকেন। দলীয় ১৫০ রানের সময় আসল কাজটি যেন করে দেন রুবেল হোসেন। ৫৮ রান করা শহিদিকে সাজঘরে ফেরান। শহিদি নিজে এগিয়ে যেতেই থাকেন। দলকেও এগিয়ে নিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত রুবেলের গতির সামনে হার মানতে হয় শহিদিকে। আফগানিস্তানও ৬ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যায়। ১০ রান যোগ হতেই মোহাম্মদ নবীকে এলবিডব্লিউ আউট করে দেন সাকিব। ৪ উইকেট তুলে নেন। ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছে ২০০ রানও করতে পারবে না আফগানিস্তান। কিন্তু অষ্টম উইকেটে গিয়ে গুলবাদিন নাইব ও রশিদ খান মিলে শুধু দলকে ২০০ রানেই নিয়ে যাননি, ২৫৫ রানে নিয়ে যান। দুইজন মিলে আবার নিজেদের ইতিহাস সেরা অষ্টম উইকেটে ৯৫ রানের জুটি গড়েন। রশিদ খানতো ৩২ বলে অপরাজিত ৫৭ রান করেন। নাইব ৩৮ বলে অপরাজিত ৪২ রান করেন। শেষ ৯ ওভারে দুইজন মিলে ৯৪ রান স্কোরবোর্ডে যুক্ত করেন। তাতেই স্কোরবোর্ড মজবুত হয়ে যায়।

ভারতের বিপক্ষে আজ ‘সুপারফোরে’র ম্যাচকে সামনে রেখে মুশফিকুর রহীম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। তামিম ইকবাল ইনজুরিতে ছিটকে পড়েছেন। তার পরিবর্তে নাজমুল হোসেন শান্তকে খেলানো হয়েছে। ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে শান্তর। সেই সঙ্গে মুস্তাফিজের পরিবর্তে আবু হায়দার রনি খেলেছেন। তারও ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে। মুশফিকের পরিবর্তে ২০১৫ সালের পর আবারও ওয়ানডের একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মুমিনুল। আফগানদের বিপক্ষে সুযোগ পাওয়া শান্ত, রনি, মুমিনুলের মধ্যে পেসার রনি নিজেকে মেলে ধরেছেন। এখন তামিম না থাকায় শান্ত ও মুশফিক না থাকায় মুমিনুলকেও নিজেদের মেলে ধরতে হবে। ম্যাচটি দুইজনের জন্যই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগ। তা এখন দুইজনই কাজে লাগাতে পারলেই হয়। এশিয়া কাপে এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০১৪ সালে লড়াই করে বাংলাদেশ। এর আগে এশিয়া কাপে এই একবারই দুই দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়। তখন ম্যাচটিতে জিতে আফগানিস্তান। এবার বাংলাদেশের প্রতিশোধ নেয়ার ম্যাচে ২৫৬ রানে টার্গেট দাঁড় হয়েছে।