২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ শতাংশ

মঙ্গলবার একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে গত অর্থবছরের (২০১৭-১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও দারিদ্র্যের হারের চূড়ান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন। তাতে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫১ মার্কিন ডলার, টাকার অঙ্কে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা। দেশে দারিদ্র্য হার কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৮ ভাগে। হতদরিদ্র মানুষের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩ ভাগে। উল্লেখ্য, অর্থবছরের শুরুতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ৮৬ শতাংশ। পরিকল্পনামন্ত্রীর মতে যেভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের আগেই দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে। তবে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগের শ্লথগতির কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

গত তিন বছর ধরে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে সুসংবাদ। তবে গত বছর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশের মতো। অন্যদিকে এডিবি বলেছে, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থবছরের শুরুতে বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে সরকারের লক্ষ্য ছিল ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। তার আগে বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি আটকে ছিল ৬ শতাংশের কমবেশি বৃত্তে। সে অবস্থায় জাতীয় প্রবৃদ্ধি অতিক্রম করেছে ৭-এর ঘর। অবশ্য এর কারণও আছে। এর মধ্যে বেড়েছে রফতানি আয় ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থ প্রেরণের পরিমাণ। কৃষি খাত তো বরাবরই সাবলীল ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখে চলেছে। সর্বোপরি বেড়েছে বিনিয়োগ। জাতীয় আয়ের হিসেবে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। বেসরকারী বিনিয়োগে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি না হলেও দেখা যাচ্ছে যে, সরকারী বিনিয়োগই প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি।

বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। অথচ কাজটি মোটেও সহজসাধ্য ছিল না। কুসুমাস্তীর্ণ তো নয়ই। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের অর্থনীতি ছিল প্রায় ভগ্নদশাপ্রাপ্ত। মানুষের আয় ছিল সীমিত অথচ দ্রব্যমূল্য ছিল আকাশচুম্বী। সেই অবস্থা থেকে জাতীয় অর্থনীতি ও সমৃদ্ধিকে টেনে তোলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জন্য ছিল রীতিমতো একটি চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সমর্থ হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, এ সময় প্রায় সমগ্র বিশ্ব দু’দুটো মন্দাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশেই জাতীয় প্রবৃদ্ধি গেছে কমে। এমনকি অনেক দেশে লক্ষ্য করা গেছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এ সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মন্দাবস্থার উত্তাপ প্রায় লাগেনি বললেই চলে। বরং শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শনৈঃশনৈঃ গতিতে এগিয়ে গেছে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুত উৎপাদনও বেড়েছে আশাব্যঞ্জক হারে। সরকার একাধিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনসহ দেশের অভ্যন্তরে বহুমুখী পণ্য উৎপাদনে আগামীতে আর সমস্যা হবে না। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল। মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং শিল্পোৎপাদনের জন্য অপরিহার্য কাঁচামালের দামও কম। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার এখনই প্রকৃষ্ট সময়। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে প্রচুর অলস অর্থ পড়ে আছে। ব্যাংক ঋণের সুদহারও কমানো হয়েছে। জমিসহ শিল্পকারখানা স্থাপনের অবকাঠামো গড়ে তুলে সরকার সুগম করে দিতে পারে বেসরকারী বিনিয়োগের পথ। সেক্ষেত্রে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া আদৌ কষ্টসাধ্য হবে না।