২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিজিটাল বিপ্লব এবং মানব সভ্যতার পঞ্চম স্তর

  • মোস্তাফা জব্বার

সচরাচর প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি অভাবনীয় ঘটনা ছিল ২৫ জুলাই ২০১৮ খোদ ঢাকা শহরে ৫জি মোবাইল প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রচলন করা। বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে এবং মোবাইল কোম্পানি রবির সহায়তায়, মোবাইল প্রতিষ্ঠান টেলিটকের অংশগ্রহণে ৫জি প্রযুক্তির কর্মযজ্ঞ সরাসরি দেখা হয়। যারা আজ সোনারগাঁও হোটেলে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারা বস্তুত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করি আমি। এতে বক্তব্য পেশ করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক, ডাক ও টেলি যোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, রবির প্রধান নির্বাহী মাহতাব আহমদ এবং হুয়াওয়ের প্রতিনিধি। বিটিআরসির পক্ষ থেকে ৪জির সম্প্রসারণের চলমান অবস্থার প্রতিবেদন পেশ করার পাশাপাশি জিএসএম-এর প্রতিনিধি ৫জির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের জন্য এই পরীক্ষা করার বিষয়টি ছিল এক অসাধারণ ঘটনা। ঐতিহাসিকভাবে পেছনে পড়ে থাকা দেশ হিসেবে বরাবর আমরা অন্যরা প্রযুক্তি গ্রহণ করার অনেক পরে সেইসব প্রযুক্তির ধারে কাছে যাই। মনে রাখুন ১৪৫৪ সালের মুদ্রণ প্রযুক্তি বাংলাদেশের সীমান্তে আসে ১৭৭৮ সালে। মোবাইল প্রযুক্তি গ্রহণেও আমরা পিছিয়েই ছিলাম। ১৯৯০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে সিডিএমএ প্রযুক্তির সিটিসেল দিয়ে মোবাইল ফোনের সূচনা হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে মোবাইলের বিপ্লব ঘটা শুরু করে ৯৭ সালে জিএসএম ফোন চালু হবার পর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন সিটিসেলের মনোপলি ভাঙেন। ২০১৩ সালে আমরা থ্রিজির ও ২০১৮ সালে ৪জির যুগে পা ফেলি। যদিও দেশে মোবাইল প্রযুক্তির বিস্তৃতি বলতে এখনও আমরা ২জিকেই বিবেচনা করি-৩জি-৪জির তেমন প্রভাব পড়েনি, তবুও এই দেশের মানুষ অতি দ্রুত নতুন প্রযুক্তির দিকে আগ্রহ প্রকাশ করে। আমার নিজের বিবেচনায় জনগণের সঙ্গে নীতি নির্ধারকগণ সমানতালে চলতে পারি না। এই প্রথম আমরা দুনিয়ার মাত্র কয়েকটা দেশের কাতারে থেকে ৫জি পরীক্ষা করলাম। আমি নিজে স্পেনে ও থাইল্যান্ডে ৫জি পরীক্ষা করতে দেখেছি। বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো আমি ৫জির গতি দেখলাম। এই প্রযুক্তিটিকে আমার কাছে দুনিয়া বদলানোর প্রযুক্তি বলে মনে হয়েছে। এই প্রযুক্তিকে ভয়ঙ্কর, অভাবনীয়, জাদুকরী, অপ্রত্যাশিত ইত্যাদি যে নামেই ডাকুন প্রযুক্তির পুরোটার পরিচয় তাতে ওঠে আসবে না।

বস্তুত বিশ্ব সভ্যতাকে আরও একটি নতুন স্তরে পৌঁছানোর এই মহাশক্তিধর প্রযুক্তি এখনই বিশ্ববাসীর আলোচনার টেবিলে বসবাস করছে। ২০১৮ সালে জাপান, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে ও ২০২০ সালের মাঝে সারা দুনিয়া এই মহাপ্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু করলে আজকের দুনিয়াটিকে আমরা চিনতেই পারব না। এক কথায় যদি এমন দশাটি দেখেন যে দুনিয়াতে গাড়ি চালাতে মানুষ লাগবে না, যদি দেখেন যে যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্র কথা বলছে এবং মাঝখানে মানুষের প্রয়োজন নেই এবং যদি দেখেন যন্ত্র আপনার অনুভূতি বা ভাবনা চিন্তার হিসাব রাখতে পারছে বা যদি দেখেন কায়িক শ্রমের কাজগুলো অবলীলায় যন্ত্রই করে দিচ্ছে তবে কেমন লাগবে? ধন্যবাদ বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসকে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্পেনের বার্সিলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল বিশ্ব কংগ্রেসে প্রচ- দাপটের সঙ্গে এই মোবাইল প্রযুক্তি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। চালকবিহীন গাড়ি, ইন্টারনেট অব থিংস, সেন্সর, রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রদর্শন আমার মতো প্রযুক্তিমনস্ক ব্যক্তিকেও দারুণভাবে বিস্মিত করেছে। আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে এবারের মোবাইল বিশ্ব কংগ্রেসে না গেলে একটি বড় ভুল হয়ে যেত। বস্তুত বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসের পর থেকেই আমি ৫জি এবং তার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটু জানার চেষ্টা করে চলেছি। সমগ্র বিশ্বের ৫জি গ্রহণের প্রস্তুতি এবং এর প্রমিতকরণ, পাইলটিং ও বিকাশ আমাকে দারুণভাবে আকর্ষিত করে। একই সঙ্গে আমি বিশ্বের ডিজিটাল রূপান্তরটি অবলোকন করছি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের শিল্প বিপ্লব ৪.০, জাপানের সমাজ ৫.০ সহ সামনের পৃথিবীর রূপান্তরটি অবিরাম আমাকে দারুণভাবে ভাবিত করছে। সেইসব ভাবনা থেকেই আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ ভাবনার প্রাথমিক স্তরটাকে পরের ধাপে আলোচনা করতে চাই।

আমি মনে করি, ২০২০ সালে ৫জির আগমন পৃথিবীতে নতুন সভ্যতার সূচনা করবে। সেই সভ্যতায় অবস্থান করার প্রস্তুতি হিসেবে একটু জেনে নেয়া দরকার বস্তুত ৫জি কি জিনিস? ফোনের ইতিহাস যারা জানেন তারা এর জনক হিসেবে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের নাম জানেন। ১৮৭৬ সালে তিনি ফোন আবিষ্কারের পরই মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কথা বলার চেষ্টা করেন। ১৮৮০ সালে ফটো ফোনে আলোর ভিত্তিতে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। এরপর ১৯০৮ সালে কেন্টাকির কৃষক নাথান স্টাবেল ফিল্ড বিনা তারের ফোন প্যাটেন্ট করেন। ১৯২০ সালের দিকে জাহাজে বেতার যোগাযোগ ব্যবহƒত হতে থাকে। ১৯২৪ সালে বার্লিন ও হামবুর্গের মাঝে চলাচলকারী ট্রেনে তারহীন ফোন প্রচলনের পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বেতার যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ১৯৪০ সালে এটিএ্যান্ডটি ও বেল সেন্ট লুই ও মিসৌরী এলাকায় মোবাইল ফোন সেবা চালু করে। ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল মটরোলা প্রথম মোবাইল ফোন বাজারজাত করে নতুন ইতিহাস তৈরি করে। সেই ফোনটিকে বলা হতো ০জি। ১৯৮৯ সালে মটোরোলা তাদের মাইক্রোট্যাক ফ্লিপ ফোন বাজারজাত করে। ১৯৮৭ সালে জিএসএম মানের বদৌলতে মোবাইল ফোন বিশ্ব মানে পৌঁছায়। জিএসএম গ্রহণ করি আমরা এক দশক পর ৯৭ সালে, শেখ হাসিনার হাত ধরে। এরপর এই সময়ের মাঝে আমরা মোবাইলের ১জি, ২জি যুগ, ৩জি ও ৪জির যুগে এসে পড়ি।

মোবাইলের ডাটা : বস্তুত মোবাইল ফোনে ডাটা ব্যবহারের বিশ্বজয় শুরু হয় ২০০৩ সালে ৩জি মানের মোবাইল ফোনের যুগে প্রবেশের মধ্য দিয়ে। তবে ৩জিতে ডাটা ব্যবহারের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা ৪জি কাটিয়ে উঠেছে। এরপর ৪জির ব্যাপক বিস্তার বিশ্বকে একটি সুতোয় গেঁথে ফেলে। মোবাইল ব্রডব্যান্ড এখনও ৪জিতেই সীমিত রয়েছে। এখন আমরা মোবাইল ব্রডব্যান্ডের স্বর্ণযুগ বা ৫জির যুগের অপেক্ষায় আছি।

আইটিইউ বা বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের প্রমিতকরণ নির্দেশনা অনুসারে ৫জি তিনভাগে বিভক্ত। একটি এনহেন্সড মোবাইল ব্রডব্যান্ড বা উন্নততম মোবাইল ব্রডব্যান্ড, আল্ট্রা রিলাইয়েবল লো ল্যাটেন্সি কমিউনিকেশন্স বা অতি নির্ভরযোগ্য নিম্ন ল্যাটেন্সির যোগাযোগ, মেসিভ ম্যাশিন টাইপ কমিউনিকেসন্স অথবা ব্যাপক যান্ত্রিক যোগাযোগ এবং সেন্সর। ৫জির সবচেয়ে বড় বিস্ময় হতে যাচ্ছে যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের যোগাযোগ করার অভাবনীয় ক্ষমতা। মনে করা হয় যে, বিশ্বের তাবত যন্ত্রপাতি যদি পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয় তবে ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কল-কারখানা, বাণিজ্য ইত্যাদিতে কি ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে তা আমরা এখন কেবল কল্পনা করতে পারছি-অনুধাবনও করতে পারছি না। একদিকে যন্ত্র এবং যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের সংযুক্তি মানুষের প্রচলিত কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হতে পারে-অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিও করতে পারে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত যে বিশ্বসভ্যতা এখন যে পথে চলছে ৫জির যুগে সেই পথে চলবে না। নতুন এই যাত্রা পথের জন্য নতুন নীতি-পদ্ধতির প্রয়োজন হবে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। এটিও মনে করা হয় যে ৫জির প্রাথমিক প্রয়োগ ক্ষেত্রটা কেবল স্থির ব্রডব্যান্ড দিয়েই শুরু হবে। কারিগরিভাবে এর তরঙ্গসীমা হবে ৬০০ মেগাহার্টজ থেকে ৬ গিগাহার্টজ অবধি সম্প্রসারিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে এর গতি ২০ গিগাহার্টজ অবধি হতে পারে। এর আগে আর কোন মোবাইল প্রযুক্তি এই গতির কথা ভাবতেও পারেনি। কোরিয়া টেলিকম ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য ৫জি প্রযুক্তির পরীক্ষা করেছে। আমেরিকার চার মোবাইল অপারেটর অচিরেই ৫জি চালুর অঙ্গীকার করেছে। এটিএ্যান্ডটি ১৮ সালেই ৫জি সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ভেরিজোন, টি মোবাইলও ৫জি চালু করছে। ব্রিটেনে ভোডাফোন ৫জি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপিন্স এবং চীনও এই পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে।

মোবাইল প্রজন্মের ইতিহাস

অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় না নিলেও আমরা এটুকু বিবেচনা করতে পারি যে ৫জি প্রচলিত মোবাইল ব্রডব্যান্ডকে নতুন সংজ্ঞা দেবে। যে প্রযুক্তির চূড়ান্ত মানই এখনও নির্ধারিত হয়নি সেই প্রযুক্তি আমাদের সামনে কি কি সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে সেটি আন্দাজ করাও কঠিন। আপাতদৃষ্টে ৫জিকে কেবল তারহীন ব্রডব্যান্ড হিসেবে দেখা হলেও এর সঙ্গে বিদ্যমান ও নতুন প্রযুক্তিসমূহ সমন্বয় করলে দুনিয়ায় জীবনযাপন করা একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারায় পৌঁছাবে। আমাদের মতো দেশের জন্য এই রূপান্তরের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। খুব সঙ্গতকারণেই আমাদেরকে ডিজিটাল রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবে ৫জি এবং তার সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিগুলোকে ব্যবহার করতে হবে। আমার নিজের কাছে একটু অবাক মনে হলেও আমাদের টেক শহর নিউজ পোর্টালে ¯েœহভাজন আল আমিন দেওয়ানের লেখাটি আমি এখানে উদ্ধৃত করছি। লেখাটি আমি ২৭ জুলাই ২০১৮ পেলাম। ‘আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এমন কিছু ঘটতে চলেছে যা হয়ত কল্পনাকেও হার মানাবে- ফাইভজি নিয়ে সারাবিশ্বের বিশেষজ্ঞদের এক কথায় পর্যবেক্ষণ এটা। বলা হচ্ছে, নতুন করে ভাবতে হতে পারে প্রচলিত আইন-কানুন, নগর পরিচালনা এমনকি রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়েও। আল-আমীন দেওয়ান অত্যন্ত যথার্থভাবেই প্রশ্নটি উত্থাপন করেন যে, ‘আসলেই কি এমন বিস্ময় ভাবনার কারণ আছে?’ এর জবাবে তিনি লিখেন, ‘ফাইভজির সময়ে নতুন এমন পৃথিবীর দেখা মিলবে যেখানে শুধু সকল মানুষ-মানুষে নয় বিশ্বের সব যন্ত্রপাতি-জিনিসপত্রও সবাই সবার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আছে।

গাড়ি সংযুক্ত রাস্তার সঙ্গে, চালকের ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে, ডাক্তাররা রোগীদের মেডিক্যাল ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত, অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে যে কোন সময় যে কোন স্থানে থেকেই যা ইচ্ছে দেখে শুনে কিনে ফেলতে পারছেন, নতুন কিছু দেখে বা শুনে শিক্ষা নেয়ার কাজটিও সেরে ফেলছেন, বাসার দরজা-জানালা, ফ্রিজ-ওয়াশিং মেশিন, টিভি, এসি সব আপনার কমান্ড শুনছে। রাতারাতি দেখা গেল রোবটের আরেক দুনিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।’ ৫জির প্রভাবকে এর মাঝেই সম্ভবত সীমিত করা যাবে না। কারণটাও আমাদের জানা। ৫জি গতি দেবে- কিন্তু প্রযুক্তি আসবে এখনকার প্রাপ্ত অনুসারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, রেবোটিক্স, ব্লক চেইন ইত্যাদি থেকে। এসব প্রযুক্তি এখনও শৈশব অতিক্রম করেনি। এর যৌবন ও পরিপক্বতা কেবল যে নতুন প্রযুক্তির জন্ম দেবে তাই নয় বদলে দেবে মানব সভ্যতা। আমি জানি না ৫জির প্রভাবে গড়ে ওঠা সভ্যতাকে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বলব না পঞ্চম প্রজন্মের মানবসভ্যতা বলব। আমি নিজে মনে করি পুরো বিষয়টি ডিজিটাল রূপান্তর বলে গণ্য হলেও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল যুগকেও আমরা ৫জির মাধ্যমে অতিক্রম করতে যাচ্ছি। (চলবে)

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক