১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রানীর দেশে সুন্দরী সারা

  • আবু সুফিয়ান

সুন্দরকে লালন করা প্রতিটি নারীর একান্ত বিষয়। নিজেকে সুন্দরী হিসেবে প্রকাশ করতে চায় প্রতিটি নারী। বিশে^র উন্নত দেশগুলোতে এর জন্য হয়ে থাকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। মিস ওয়াল্ড. মিস ইনিভার্সসহ নানা প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা শুধু খেতাব অর্জন করে না সেই সঙ্গে পেয়ে থাকে আর্থিক সহায়তা। যা একজন নারীর জনপ্রিয়তাই শুধু বাড়ায় না এই আর্থিন সহায়তার বিষয়টি তার জীবন ব্যবস্থায় বিরাট প্রভাব ফেলে। জীবনে আসে বৈচিত্র্য। তাই এই ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে বিশ^ব্যাপী। কিন্তু এই ক্ষেত্রে মুসলিম নারীরা বরাবর পিছিয়ে ছিল। কারণ মুসলিম নারীরা সবসময় ছিল পর্দার আড়ালে। যুগ পরিবর্তন হচ্ছে। আধুনিক বিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুসলিন সুন্দরী নারীরা নিজেরে উপস্থাপনের সুযোগ করে নিচ্ছে। যেভাবে ইংল্যান্ডে মুকুট পরা রানীর দেশে হিজাব পরে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশ^ব্যাপী মুসলিম নারীদের জীবনে আদর্শ হয়ে উঠেছেন সারা ইফতিখার।

সারা ইফতিখার ২০ বছর বয়সী পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এই নারী বর্তমানে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের হার্ডসফিল্ড বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হওয়ার কারণে সারার পোশাক পরিচ্ছদে সেই ছাপ লক্ষণীয়। রক্ষণশীলতা কখনও তার পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করেনি বরং সাজগোজের দিকে বরাবরই আগ্রহ ছিল তার। তাই পড়ালেখার পাশাপাশি একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। এই কাজ করতে করতেই সারার আগ্রহ জন্মে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের। এ বছর মিস হার্ডসফিল্ড নির্বাচিত হন তিনি। আর সেখান থেকেই সোজা চলে আসেন নটিংহ্যামশায়ারের মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায়। তার পরেই গড়ে ফেলেন ইতিহাস। সেখানে ২২ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা পঞ্চাশ জন ফাইনালিস্টের একজন নির্বাচিত হয়েছেন সারা। আর এই পর্যন্ত আসতে সব সময় তার পোশাক হিসাব ছিল হিজাব। আর এই কারণে বিষয়টি সবার কাছে আলোচিত হয়। এর আগে হিজাব পরে কোন প্রতিযোগী এ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। সারা গড়লেন নতুন ইতিহাস।

একজন রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হিসেবে হিজাব পরে সুন্দরী প্রতিযোগিতার ফানালিস্ট হিসেবে ৫০ জনের একজন হয়ে সারা বলেন ‘ইতিহাস গড়তে পারব বলে স্বপ্নেও ভাবিনি। তবে সত্যি আমি গর্ব অনুভব করছি। হতে পারি আমি প্রথম হিজাব পরিহিতা ফানালিস্ট। তবে দিন শেষে আমি আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই। আমার মতো সকলেরই এ পর্যায়ে পৌঁছনোর সুযোগ রয়েছে।’

যে তরুণীর পোশাক পরিচ্ছদে রক্ষণশীলতার ছাপ সেই অবস্থান থেকে কিভাবে তিনি এ পর্যন্তা এলেন সেই সম্পর্কে সারা বলেন ‘আমি যদি পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে চাই, রক্ষণশীল পোশাক পরতে চাই, তাতে সমস্যা কোথায়? বাকিদের মতো আমিও একজন প্রতিযোগী। আমি যদি নিজের বার্তা পৌঁছে দিতে পারি তাহলে আরও অনেকেই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হবেন।

সারা ইফতিখার একজন মেধাবী ছাত্রী। সেই সঙ্গে একজন মেকআপ আটিস্ট। ১৬ বছর বয়সে জামা-কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। যার সমস্ত মুনাফা মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের ‘বিউটি উইথ পারপাস’ নামের একটি সংস্থায় দান করেন এই তরুণী। বিশে^র দুস্থ শিশুদের জন্য রয়েছে তার মমতা ও ভালবাসা। এদের জন্য তিনি কিছু একটা করতে চায় সেই লক্ষ্যে ইনস্ট্রাগ্রামে একটি বিশেষ পেজ খোলেন। তাতে সারা লিখেন ‘২০১৮ সালের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম একটাই কারণে। সৌন্দর্যের কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। জাতি, বর্ণ, ওজন, আকার যাই হোক না কেন, প্রত্যেকেই নিজের মতো করে সুন্দর। ২২ হাজারের মধ্যে সেরা পঞ্চাশে জায়গা পেয়ে সম্মানিত আমি। দেখি কোথায় গিয়ে পৌঁছাই। ’ এবার মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় শেষ্ঠত্বের মুকুট পায়নি সারা। এই খেতাব পেয়েছেন আশিলা কাউই। ডিসেম্বরে চীনের সানিয়ায় আয়োজিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তিনি। গোটা দুনিয়া যখন বর্ণবৈষম্য, জাতিবিদ্বেষ নিয়ে উত্তাল তখন আইনের ছাত্রী সারা ইফতেখারের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় হিজাব পরে অংশগ্রহণ করাটা নতুন বার্তা বহন করবে। বিষয়টি সৌন্দর্যপ্রিয় নারীদের জন্য নবজাগরণের ক্ষেত্র তৈরি করবে।