১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাখনা -স্বদেশ রায়

পাখনার কথা মনে করতে গেলে জসীমকে ময়ূরের পাখনার কথা মনে করতে হয়, যা সে চিড়িয়াখানায় দেখে অবাক হয়েছিল। তবে সেটা তার খুব একটা মনে পড়ে না। সে কেবলই তার ঘরের ফ্রেমের কাঠে গুঁজে রাখা একটি শাদা বকের ধবধবে শাদা পাখনাকে দেখে। আস্ত একটা পাখনা। দুষ্টু একটা ছেলে গুলতি দিয়ে বক মেরে পাখনাটা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে রেখেছিল রাস্তায়। জসীম সেটা কুড়িয়ে এনেছিল আজ থেকে বছর দশেক আগে। তখন জসীমের বিয়েও হয়নি। সেই থেকে পাখনাটা ওখানে আছে। মাঝে মাঝে ঝেড়ে পুছে পরিষ্কার করে জসীম। অনেক অবসরে তাকিয়ে দেখে পাখনাটি।

এক পাখনায় মানুষ যে উড়তে পারে না এমনটিও কোনদিন ভাবে না। রাইট ব্রাদার দ্বয়ের ইতিহাস পড়া নেই নিতান্ত গ্রামের কৃষক জসীমের। তাই এই পাখনা তার হলে সে যে উড়তে পারত অমন স্বপ্নটি কখনও দেখে না। পাখনাটা নিয়ে তার বাড়তি কোন চিন্তা নেই। তবে কোন ঘন বর্ষার দিনে, যখন তার বিলের কাজ শেষ হয়ে যায়, বসে থাকতে হয় ঘরের দাওয়ায়- তখন পাখনাটিকে দেখে। আবার চৈত্রের রৌদ্র ক্লান্ত দুপুরে যখন হাঁসফাঁস শরীর নিয়ে ঘরের দাওয়ায় বসে তখনও তাকিয়ে থাকে পাখনাটির দিকে। কেমন যেন তার দেখতে ইচ্ছে করে।

জসীমের বউ কুলসুম। বড় বাড়ন্ত শরীর তার। এমন বউ এ গ্রামে খুব কমই আছে। গ্রামের যে ক’টি ধনী ঘর, তাদের খুব কম ঘরেই কুলসুমের মতো বউ আছে। পার্থক্য তারা সেজে গুজে থাকে। কুলসুম অতটা সময় পায় না। দরিদ্র ঘরে জন্ম হলেও স্বভাবের কারণে হোক, আর রূপের কারণে হোক, ছোট বেলা থেকে নিজেকে যতটা পারে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে কুলসুম। কাদা মাটিতে কাজ করলেও অন্য দশ জনের মত তার শরীরে অতটা কাদা লাগে না। রান্না ঘর থেকে ঘেমে বের হয়ে এলে তাকে একটা আলাদা সুন্দর লাগে। অনেক সময় কোন চৈত্রের ক্লান্ত দিনে জসীমের পাশে একটা পাটি পেতে শুয়ে পড়ে কুলসুম। কিছুক্ষণ চুপ চাপ শুয়ে থাকার পরে কখনও কখনও সে জসীমের গায়ে খোঁচা দেয়, আর বলে আচ্ছা তুমি ওই পাখনাটার ভেতর কী দেখো।

কুলসুমের থেকে জসীমের সারল্য বেশি। সে কোন জটিলতায় যায় না, বলে জানিনে, তবে পাখনাটা দেখতে আমার ভাল লাগে। তুমি যেন কোনদিন পাখনাটা ফেলে দিও না। কুলসুম বলে, কী মনে কর তুমি আমাকে। তোমার একটা শখের জিনিস আর আমি সেটা ফেলে দেব! তুমি কি আমার নাক ফুলটা ফেলে দেবে? কুলসুমের এ উপমা শোনে জসীম- তার পরেও একবারও ভাবে না কুলসুম তাকে কি বলল? ভেবে দেখে না কুলসুম যেমন তার নাকফুল ভালবাসে সে যেন তেমনই এই বকের পাখনাটিকে ভালবাসে। বরং সে একটুখানি হাসে। মনে মনে ভাবে, তার বউটি বেশ ভাল, দজ্জাল কোন বউ হলে এতদিন ময়লা জঞ্জাল মনে করে বকের পাখনাটাকে ফেলে দিত। অথচ ঘর ঝাড় পোচ করার সময় কখনও কখনও এই বকের পাখনায় জড়ানো ময়লাটা পরিষ্কার করে কুলসুম।

কিছুদিন পরে এই বকের পাখনাটাকে বেশি বেশি দেখতে শুরু করে কুলসুম। গর্ভবতী কুলসুম আরও বেশি সুন্দরী হয়েছে। শরীরও তার আরও বেড়েছে। গ্রামের মেয়ে সে, তার মাকে, দাদিকে দেখেছে গর্ভে সন্তান নিয়ে সংসারের সব কাজ করতে। কুলসুমও তাই করে। না করেও বা উপায় কি? তার কি আর দাসী বাদী আছে! তবে এই ভরা ভাদরে বর্ষার ক্লান্তি না থাকলেও কুলসুমের শরীরে কেন যেন ক্লান্তি নামে। কুলসুম অনেক সময় মনে করে তার গর্ভেরটা ঘুমুচ্ছে মনে হয়। এ মনে করে সেও দাওয়ায় শুয়ে পড়ে। আর ঘরের বারান্দায় শুতেই তার চোখ যায় শাদা বকের পাখনাটার ওপর। ধবধবে শাদা পাখনাটাকে কুলসুমের চোখে আরও সুন্দর মনে হয়। কুলসুমের নিজের গায়ের রং শ্যামলা। যৌবন আর গর্ভরসে তাকে বেশ খানিকটা উজ্জ্বল করেছে। তারপরেও সে চায় তার গর্ভের সন্তানটি যেন একটা ধবধবে ফর্সা রং নিয়ে বের হয়ে আসে। আর এখানেই সে ভরসা খুঁজে পায় বকের পাখনাটির ওপর। তার মায়ের কাছে সে বার বার শুনেছে, গর্ভে সন্তান থাকতে কোন একটা সুন্দর জিনিস মনে মনে কল্পনা করতে হয়। চোখ খুলে বার বার একটা সুন্দর জিনিস দেখতে হয়, আর ্আল্লাহর কাছে কামনা করতে হয়, তার গর্ভেরটা যেন এমনই হয়। এমনকি কুলসুমের মা তাকে বহুবার বলেছে, কুলসুমের জন্মের বছর যদি তাদের বাড়ির সামনে বেদেদের নৌকা না আসতো তাহলে কুলসুম এতটা সুন্দরী হতো না। ওই বেদেদের নৌকাতে অগ্নি নামে ষোলো আঠারো বছরের একটি বেদে মেয়ে ছিল। নাম তার অগ্নি। দেখতেও সে তেমনি আগুনের মতো। তাকে দেখার মুহূর্ত থেকেই কুলসুমের মা মনে মনে ঠিক করেছিল তার যদি মেয়ে হয় এবার তা হলে যেন এমন একটি হয়।

ওই বেদে নৌকা ঘাটে থাকতেই সে বর্ষাতেই আবার গর্ভবতী হয় কুলসুমের মা। রজঃ বন্দ হতেই মনটা আনন্দে নেচে ওঠে কুলসুমের মায়ের। তিন মেয়ে তখন তার ঘরে। এ নিয়ে তার স্বামী তাকে যথেষ্ট গালমন্দ করে। অনেক সময় অভাগী বলে। তার স্বামীর মতে সে যদি অভাগী না হবে তাহলে এতদিনে একটা ছেলে জন্ম দিতে পারে না কেন? স্বামীর এসব গালি সব সময়ই তার কানে বাজে, তারপরেও কুলসুমের মা মনে প্রাণে কামনা করেছিল সেবারও তার যেন মেয়ে হয়। আর মেয়েটি যেন বেদেদের ওই মেয়ের মতো সুন্দরী হয়। বেদেদের ওই মেয়েটিকে দেখার জন্য তাই ছলে কলে প্রায়ই মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে এনে ভাত খাওয়াতো কুলসুমের মা। খুব ভাল করে দেখতো কুলসুমের মা ওই মেয়েটিকে। আর মনে মনে ভাবত, এই মেয়ে তো জন্মানোর কথা ছিল গৃহস্থ ঘরে সে কেন এই বেদের নৌকায় জন্মাল।

বেদের নৌকা চলে যাবার পরে কুলসুমের জন্ম হয়। মেয়ে হয়েছে শুনে তার বাপ খুশি হয়নি, তবে ওই ব্যথার শরীরে আড় ফিরে মেয়ের মুখ দেখে খুশি হয়েছিল কুলসুমের মা। না, বেদের মেয়ে অগ্নির মতো অমন আগুনের রং পায়নি কুলসুম তবে তারপরেও গায়ের রঙের ভেতর একটা রোশনাই দেখতে পায় কুলসুমের মা। বড় হতেই কুলসুমের সে রোশনাই যে খুব বাড়ে তা নয় তবে নাকও চোখে পুরোপুরি অগ্নির মিল খুঁজে পায় কুলসুমের মা। কুলসুম তাই মনে মনে ভাবে, তার মায়ের ভাগ্য সে সুন্দর একটা বেদের মেয়ে পেয়েছিল গর্ভকালে। কুলসুমও সারা বাড়ি খুঁজে দেখেছে, নদীর ধার খুঁজে দেখেছে। তার মনে হয়েছে এ বাড়িতে, নদীর ধার মিলিয়ে সব থেকে সুন্দর জিনিস ওই শাদা বকের পাখনাটি। মনে মনে সে জসীমের জন্যে দোয়া করে, আর ভাবে বড় ভাল জিনিসটি সে কুড়িয়ে এনেছিল। এই বকের পাখনাটা এভাবে গুছিয়ে না রাখলে, কী দেখত কুলসুম আজ! বৃষ্টিতে যখন সারা আকাশ ঘন হয়ে আসে। ঘরের সামনের খালি জায়গাটুকু দিয়ে যখন পানির ¯্রােত নামে তখন কেন যেন ওই জলের ধারার ভেতরও শাদা বকের পাখনাটাকে দেখতে পায় কুলসুম।

কুলসুমের গর্ভ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শরীরকে এখন জোর করে চালাতে হয়। তারপরে আবার পেটের ভেতরেরটা এখন শুধুই নড়াচড়া করে। নড়াচড়া করলেই কুলসুম যেন তার পেটের ভেতর একটা শাদা বকের পাখনা দেখতে পায়। এদিকে সেবার আশ্বিনেও যেন ভরা ভাদর। ঝরছে তো ঝরছে। জসীমেরও বিলে কোন কাজ নেই। ক’দিনের টানা বর্ষায় নদীর মাছও পালিয়েছে কোথায়। নদীতে জাল ফেলে ফেলে ক্লান্ত জসীম, অল্প কিছু মাছ নিয়ে বাড়িতে ফেরে। অনেক কষ্টে পেট চেপে বসে সে মাছ কোটে কুলসুম। মাছ কুটতে কুটতে কুলসুম মনে করে বকের পাখনাটা যদি একটা আস্ত শাদা বক হতো তাহলে সে তার জন্য দুটো মাছ তুলে রাখত। বকটা অনেক আনন্দে মাছ খেত। কল্পিত একটা আনন্দিত বকের মুখ মনে করতেই খুশিতে মন ভরে ওঠে কুলসুমের। পেট চেপে বসার কষ্টও সে ভুলে যায়। কেবলই তার মনে হয় তার শরীরের ভেতর যেটা বেড়ে উঠছে সে শাদা বকের মতো ধবধবে।

আশ্বিন গড়িয়ে কার্তিকের নরম শীত নামে বাতাসে। বিকেলের বাতাসটার সঙ্গেই যেন হালকা শীতের হিমটি ফেরে। ধল পহরের বাতাসে এ শীত থাকলেও ভোরের সূর্যের আলোর সঙ্গে তা পালিয়ে যায়। আসব আসব করে শীত যখন এমনি লুকোচুরি খেলছে তখন একদিন বিকেলে ব্যথায় ভেঙে আসে কুলসুমের পেট। বাড়ির আশপাশে যাদের ঘর, সেই আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের ঘর থেকে দৌড়ে আসে সব মহিলারা। কাপড় দিয়ে দাওয়া ঘিরে তার ভেতর শোয়ানো হয় কুলসুমকে। তীব্র ব্যথায় চোখ বুজে আসে কুলসুমের। তারপর একটু সন্ধ্যার অন্ধকার বাড়তেই, পাশের বাড়ির বাঁশ বাগানে শিয়াল ডাকতেই, ঝিঝিরা গানে বসতেই কুলসুমের পেটের সব ব্যথা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে নতুন একটি মানব সন্তান পৃথিবীতে। সঙ্গে সঙ্গে দাওয়ায় বসে থাকা বৃদ্ধ আজাহার আলী উঠানে নেমে আজান দেয়। আর সেই আজানের শব্দে যেন সম্বিত ফিরে পায় কুলসুম। পাশ ফিরে সে তাকায়। কেরোসিনের অল্প আলোয় আলেয়া বুড়ি ন্যকাড়ায় জড়ানো তার মেয়ের মুখটা তার সামনে তুলে ধরে। কেরোসিনের আলো মুখে পড়লেও মেয়ের মুখে কোন শাদা রঙের ছাপ নেই বরং রাতের বাশবনের আঁধারের মতই সে মুখখানি। কুলসুম দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। মনে মনে ভাবে আল্লাহ তার মায়ের ডাক শুনেছিল কুলসুমের ডাক শুনল না। কেরোসিনের আলোয় জসীমও দেখে গেছে তার মেয়ের মুখ। নিজের সন্তানের মুখ দেখে তার ভাল লেগেছে। তারপরেও কেন যেন কোথায় তার একটা খটকা লেগেছে। মনে মনে ভেবেছে এত মিশমিশে কালো না হলেও পারত। সে তো বড় খুশি হয়ে বিয়ে করেছিল কুলসুমকে। শুধু কুলসুমের শরীরের রঙের রোশনাই দেখে। কুলসুমের মতো হলে দোষ ছিল কী?

কুলসুম তার মেয়ের নাম রেখেছে জেবিন। জেবিন নাম হয় কিনা, নামের কোন মানে আছে কিনা তা কুলসুম জানে না। সে ছোট বেলায় বাপের সঙ্গে থানা শহরে গিয়ে একটা সিনেমা দেখেছিল। সে সিনেমার নায়িকার নাম ছিল জেবিন।খুবই ফাইট করত। সব পুরুষ লোককে সে তার হাত ও পায়ের আঘাতে কাত করে ফেলত। কুলসুমের এখন একটাই আশা, মেয়েটা শাদা বকের পালকের মতো না হলে কী হবে, তার গায়ের রং ফর্সা নাই হলো, সে যেন অমনি সিনেমার নায়িকা হয়। তার শরীরে যেন অনেক শক্তি থাকে। অমনি হাতের আঘাতে সে যেন কাত করে ফেলতে পারে সবাইকে। জসীম অবশ্য এসব কিছুই ভাবে না। তবে মেয়েটিকে কোলে নিয়ে সে সারা বাড়ি ঘোরে। মাঝে মাঝে মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে। ঘন কালো মুখ, বোচা একটা নাক। না মায়ের সঙ্গে মেয়ের কোন মিল নেই। বরং জসীমের মায়ের মতো এক ঘন কালো মেয়ে সে। জসীমের মায়ের বয়স হতে হতে সেও নিশ্চয়ই এমনি কোন বাড়িতে বুচি বুড়ি হবে। নিজের মায়ের সঙ্গে মিল খুঁজে পায়- তাই দোষ দিতে পারে না কুলসুমকে। তার মনের ভিতর আতিপাতি করে খুঁজলে ঠিকই বের করা যায়, সে যদি কুলসুমকে দোষ দিতে পারত, মেয়েটা যদি কুলসুমের মায়ের মতো হতো তাহলেও একটা স্বস্তি খুঁজে পেত জসীম। তার ওপর মেয়েটা হয়েছে ছিচ কাঁদুনে। কেবলই কাঁদে। রাত হলেই তার কান্না বাড়ে। মেয়ে হবার সুখটা কোথাও যেন খুঁজে পায় না জসীম।

কুলসুম দুপুরে খাওয়ার পরে জেবিনকে নিয়ে দাওয়ায় পাটিতে শোয়। হাত পা নেড়ে জেবিন যখন খেলা করে কুলসুম ওই ছোট ছোট হাতের ভেতর সিনেমার ফাইট দেখতে পায়। তার মন খুশিতে ভরে ওঠে। কখনও কখনও হাসে সে। তার এই হাসি দেখে নীরবে দাওয়া থেকে নেমে চলে যায় জসীম। কেন যেন সে ইচ্ছে করলেও কুলসুমের হাসির সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে যোগ দিতে পারে না। তারপরেও দাওয়া থেকে নেমে যাবার আগে তাকিয়ে দেখে তার মেয়েটা বড় হচ্ছে। মেয়ের মুখখানাও তার চোখের সঙ্গে লেগে আছে। মানুষের এই এক আশ্চর্য শক্তি। মানুষকে একবার দুবার দেখলে সে যেন তার চোখের মণির কোন এক গভীরে থাকে। মানুষ ওই মুখ আর ভোলে না। যেখানে দেখুক না কেন চিনতে পারে। আর ওই মুখ যদি হয় নিজের সন্তানের তাহলে তো সে মুখ সারাক্ষণ সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে। নদীর পানিতে ক্ষেপ জাল নিয়ে যখন মাছ ধরতে যায় জসীম তখন কখনও কখনও তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে জেবিনের মুখ।

সেদিনও সকালে খাওয়া-দাওয়ার পরে জসীম নদীতে মাছ ধরতে যায়। কুলসুমও উঠানের রোদে টিনের পাত্রে উষ্ণ করা পানিতে জেবিনকে গোসল করিয়ে দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়াতে যায় দাওয়ায়। দুধ খাবার পরে রাতের সেই ছিঁচ কাদুনেটা পেয়ে বসে জেবিনের। সে কেবলই কাঁদতে থাকে। কোন মতে কান্না থামাতে না পেরে ঘরের চালের থেকে বকের পাখনাটা নামিয়ে জেবিনের চোখের সামনে খেলনার মতো দোলাতে থাকে জেবিন। শাদা পাখনাটা দুলতে দেখে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে জেবিন। পাখনা দেখতে দেখতে এক সময়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কুলসুমও শরীরের দুর্বলতায় ও রাতে ভাল ঘুম না হওয়ায় এক সময়ে ঘুমিয়ে যায়। তার হাতের বকের পাখনাটা ছোট্ট জেবিনের বুকের ওপর পড়ে থাকে। মা ও মেয়ে যখন এমনি অপল ঘুমে এ সময়ে মাছ ধরে বাড়ি ফেরে জসীম। নিস্তব্ধ বাড়িতে দাওয়ায় ঘুমন্ত কুলসুম ও জেবিনের কাছে ভিজে শরীরে এগিয়ে যায় জসীম। কাছে যেতেই হঠাৎ তার চোখে আটকে যায় শাদা পাখনাটায় ঢাকা পড়ে থাকা ছোট্ট শরীরে চক চক করছে একটি কালো মুখ। চোখ ফেরাতে পারে না জসীম।