১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিজিটাল ক্রাইমকে মোকাবিলা করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : সেতুমন্ত্রী

ডিজিটাল ক্রাইমকে মোকাবিলা করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : সেতুমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে বলেছেন, ডিজিটাল ক্রাইমকে মোকাবেলা করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এতে কারো কোন উদ্বেগ, শঙ্কা বা আতংক হওয়ার কারণ নেই।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হয়েছে। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেভাবেই আইনটি প্রয়োগ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নিয়ে বৃহষ্পতিবার জাতীয় সংসদের সমাপ্তি অধিবেশনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ক্লিয়ার করেছেন। এতে কারো আতঙ্কিত হওয়ার, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই। একটা আইন প্রায়োগিক বাস্তবতাটাই সবচেয়ে বড় কথা। এর মূল উদ্দেশ্যটাই হচ্ছে ডিজিটাল ক্রাইমকে রেজিস্ট করা। ডিজিটাল ক্রাইমকে মোকাবেলা করার জন্যই এই ডিডিটাল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে কারো কোন উদ্বেবগ, শঙ্কা বা আতঙ্কের কারণ নেই ।

শুক্রবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় বাস র্যাপিড ট্রানজিটসহ (বিআরটি) প্রকল্পের কয়েকটি কাজ পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওই সব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা আশাকরি স্বাধীন সংবাদিকতা এবং ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন যাতে কোন প্রকার বাধাপ্রাপ্ত না হয়, ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে শেখ হাসিনার সরকার সংশ্লিষ্ট সকলকে, প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আমরা আশস্ত করছি যে এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশনে কোনভাবেই গণতন্ত্রের এই দুটি শাখা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহার বই প্রকাশের ব্যাপারে বলেন, নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বইটি প্রকাশ করে সরকার বিরোধী অপপ্রচারের উস্কানি না দিলেও পারতেন। তিনি নিজের লেখা বই প্রকাশ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমার শুধু একটাই প্রশ্ন, তা বিদেশের মাটিতে বসে কেন? আর নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন? বইটি আরও দুই-তিন মাস পরেও প্রকাশ করা যেত। বইটি এ সময়ে প্রকাশ করে সরকারবিরোধী অপপ্রচারের উসকানি এ সময় তিনি না দিলেও পারতেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি, তাঁর মনে কষ্ট থাকতে পারে, জ্বালা থাকতে পারে, প্রধান বিচারপতি পদ থেকে তিনি নিজেই সরে গেছেন। এখন বিদেশে গিয়ে মনগড়া তথ্য দিয়ে তিনি সরকার বিরোধী মহলের অপপ্রচারের সুবিধার জন্য যদি এ সময় বইটি প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয়, তিনি একজন প্রধান বিচারপতি ছিলেন, এখানে তাঁর দায়িত্বশীলতার বিষয়টি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এই স্থান দিয়ে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল করে। যেকোনো অবস্থায় গাজীপুরের রাস্তাটিকে কার্যকর রাখতে হবে। সেটা তাঁর অগ্রাধিকারমূলক কাজ। গাজীপুরের রাস্তায় যেন যানজট না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে মেয়র, পুলিশ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যক্রম চালাতে হবে।

এদিকে যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ও নেতাদের ঐক্য প্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্টকে সরকার স্বাগত জানায়। তারা সভা সমাবেশেরও অনুমতি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ কমিশনারকে। যাঁরাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করতে চান, তাঁদের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, এখন দলে দলে ঐক্য হবে, নেতায় নেতায় ঐক্য হবে। তাতে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের পক্ষে জনমত আছে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিআরটি প্রকল্প, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচিত সংবাদ