২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’ নাটকের শততম মঞ্চায়ন করতে চাই ॥ মীর জাহিদ হাসান

‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’ নাটকের শততম মঞ্চায়ন করতে চাই ॥ মীর জাহিদ হাসান

নাট্যাভিনেতা মীর জাহিদ হাসান। অভিনয় দক্ষতা ও মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের দলপ্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের মঞ্চকে আলোকিত করে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও নির্মম হত্যাকা-কে আশ্রয় করে সম্প্রতি দলীয় প্রযোজনায় মঞ্চে এসেছে নতুন নাটক ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’। তিনি নাটকটির প্রযোজনা অধিকর্তা। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে আগামীকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নাটকটির চতুর্থ মঞ্চায়ন হবে। নাটকের বিষয়বস্তু, নাটক নির্মাণ, নাটকের পরিভ্রমণসহ দলীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’ নাটক সম্পর্কে বলুন।

মীর জাহিদ হাসান : মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৪০তম প্রযোজনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের সুপরিকল্পিত নৃশংস হত্যাকা-ের অজানা সত্য উন্মোচনে গবেষণালব্ধ পা-ুলিপি ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’। নাটকটি রচনা করেছেন আনন জামান এবং নির্দেশনা দিয়েছেন আশিক রহমান লিয়ন।

নাটকটি মঞ্চে আনার কারণ কী?

মীর জাহিদ হাসান : যেহেতু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও নির্মম হত্যাকা- আশ্রিত এই নাটকের বিষয়বস্তু, তাই এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয় শোকের মাস ১৩ আগস্ট। দীর্ঘ নয় মাস গবেষণালব্ধ এ পা-ুলিপিতে জাতির জনককে হত্যার প্রত্যক্ষ পরিকল্পনাকারী রাজনৈতিক ও সামরিক বেনিয়াদের অংশগ্রহণ ও কার্যকারণ উন্মোচিত হয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জানার অধিকার রয়েছে।

নাটকটির মহড়া থেকে মঞ্চায়ন পথপরিক্রমা কেমন ছিল?

মীর জাহিদ হাসান : দীর্ঘ ১০ মাস ধরে এ পা-ুলিপি পর্যালোচনা ও পাঠচক্র এবং দেড় মাস ধরে একটানা এ নাটকের মহড়া চলেছে ও চূড়ান্ত মঞ্চায়ন প্রস্তুতির জন্য প্রায় ৪০ জন শিল্পী নিয়মিত অভিনয় ও নেপথ্যে কাজ করেছে।

পরপর ৩ প্রদর্শনীতে দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

মীর জাহিদ হাসান : নাট্যকার আনন জামান, নির্দেশক আশিক রহমান লিয়ন, আমি তথা মহাকাল পরিবারের সকলের একটি অন্যরকম প্রশান্তি হয়েছে নাটকটি মঞ্চে আসার পর। একজন মহানায়কের মহাপ্রয়াণের শোক আখ্যান প্রথমবারের মতো মঞ্চে আসছে এটা নিয়ে আমাদের যেমন অনেক আবেগ, শঙ্কা, ভাবনা, আকাক্সক্ষা ছিল, তেমনি আমার মনে হয় সম্মানিত নাট্যদর্শক এবং অসংখ্য নাট্যজন নাট্যবন্ধুরাও অনেক আবেগ ও ভালবাসা নিয়ে অপেক্ষা করেছে নাটকটির মঞ্চে দেখার প্রত্যাশায়। ৩ দিনই নাট্যজনদের উপস্থিতি এবং কর্মদিবস থাকার পরও দর্শক সমাগম আমাদের আশান্বিত করেছে। ৩ দিনই মিলনায়তন পূর্ণ ছিল। আমি মনে করি এটাই দর্শক অনুভূতি, আবেগ ভালবাসার অনুভূতি।

নাটকে সেইসময় এইসময়ে কতটা বাস্তবভাবে এসেছে বলে আপনার মনে হয়?

মীর জাহিদ হাসান : ঐতিহাসিক সত্য মঞ্চে উপস্থাপনা মানেই কঠিন বিষয়, তারপর আবার সমকালীন ঐতিহাসিক। যে বিষয় এবং যাকে উপজীব্য করে অর্থাৎ যে মহামানবের মর্মান্তিক হত্যাকা- ঘিরে এ ইতিহাস সেটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি অন্যতম ট্র্যাজেডি। আননের রচনাশৈলী ও লিয়নের সাবলিল নির্দেশনায় তখনকার প্রেক্ষাপটকে বিশ^াসযোগ্য করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা বিরাজমান এ নাটকে।

এই নাটক নিয়ে দেশ পরিভ্রমণের ভাবনা আছে কি?

মীর জাহিদ হাসান : অবশ্যই আছে। সারাদেশে নাটকটি মঞ্চায়ন অত্যন্ত জরুরী। শ্রাবণ ট্র্যাজেডি নাটকে একটি ভূখ-ের স্থপতি মহান নেতার হত্যাকারী রাজনৈতিক ও সামরিক বেনিয়া আর খুনীদের মুখোশ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সতর্ক করা এবং খুনী ও তাদের অনুসারীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার প্রত্যয় তৈরিতে ভূমিকা রাখতে এ নাট্য প্রযোজনাটি সারা দেশে মঞ্চায়ন করার জন্য আমরা আদর্শগত ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। এ নাট্য প্রযোজনায় জাতির মহানায়কের নৃশংস হত্যাকা-ের আড়ালে থাকা খুনীদের মুখ আর লোভ উন্মোচিত হবে বর্তমানের আলোয় তাদের দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে বিচারের কাঠগড়ায়। গবেষণালব্ধ এ নাট্য প্রযোজনা ঢাকার বাইরের দর্শক তথা সামাজিকগণের সামনে মঞ্চায়ন এজন্য জরুরী। তবে এ মঞ্চায়ন আয়োজনে সরকারের তথা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীতে এ নাটকেরও শততম মঞ্চায়ন সম্পন্ন করতে চাই।

-গৌতম পাণ্ডে