২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল খালেদার পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ নেই ॥ রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যা প্রয়োজন তা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্বদ্যালয়ে নেই জানিয়ে তাঁকে অবিলম্বে বেসরকারী বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুক্রবার তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। তিনি গুরুতর অসুস্থ। হাত-পায়ের ব্যথা আরও বেড়েছে। তার শারীরিক অসুস্থতাকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কেন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করান? কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশ থেকে চিকিৎসা করে আসলেন কেন? তারা কেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্বদ্যালয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন না? রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না সরকার। তার সুচিকিৎসার দাবি জানানো সত্ত্বেও আরও জুলুম করবে বলেই তার চিকিৎসা করা হচ্ছে না। অথচ সরকারী মেডিক্যাল বোর্ডও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ যে কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তির সুপারিশ করেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রাস্থিসিস কমপেটিবল এমআরআই মেশিন’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নেই। ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা অন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে এটা রয়েছে। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার ওপর জুলুম ও অত্যাচারে সরকার রীতিমতো উৎফুল্লবোধ করছে। সরকার প্রধানের এক ধরনের অহংবোধ চরিতার্থ করতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হচ্ছে। মানুষ হিসেবে খালেদা জিয়াকে মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের ট্রেনপথের নির্বাচনী প্রচার যেমন ব্যর্থ হয়েছে তেমনি সড়ক পথের নির্বাচনী প্রচারও ব্যর্থ হবে। তেমনি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া যেভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ তাও ব্যর্থ হবে।

রিজভী বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বইয়ে লিখেছেন সরকারই তাকে পদত্যাগ এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেছেন। যদি ক্ষমতাসীন সরকার দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ ও নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে তাহলে প্রশাসন ও আইন আদালতকে বাধ্য করে বিচারকের কাছ থেকে মামলা ফেরত এনে সম্পূরক চার্জশীটে তারেক রহমানের নাম জড়ানো তো কঠিন কাজ নয়। এ সরকার যে কোন কাজই করতে পারে। রিজভী বলেন, যদি প্রধান বিচারপতির দিকে বন্দুক তাক করে দেশের বাইরে যেতে বাধ্য করা হয় তখন তিনি কি করবেন? বিদেশে গিয়ে বই লিখবেন, নাকি গণভবনের সবুজ লনে বসে লিখবেন?

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।