২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরানে প্যারেডে হামলা

ইরানে প্যারেডে হামলা
  • ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের বার্ষিকীতে আহভাজে সামরিক কুচকাওয়াজ ॥ নিহত ২৫

নাজিম মাহমুদ ॥ ইরাক-ইরান যুদ্ধের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে শনিবার জঙ্গী হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সদস্য, সাংবাদিক ও বেসামরিক লোকজনসহ নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫, আহত আরও ৬০। ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশে আয়োজিত শনিবারের ওই কুচকাওয়াজে চার বন্দুকধারী ঢুকে হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে। এই হামলাকে ‘বিরল’ আখ্যা দিয়ে ইরান সরকার এ ঘটনার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের দায়ী করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এই হামলার কড়া জবাব দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। রুহানি বলেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের ওপর এই হামলায় যারা জঙ্গীদের মদদ দিয়েছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা এ হামলার পেছনে সৌদি আবর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন। খবর আলজাজিরা, বিবিসি ও এএফপির।

হামলার দায় স্বীকার করে ইরানের সরকারবিরোধী আরবগ্রুপ আহভাজ ন্যাশনাল রেসিস্টেন্স ও ইসলামিক স্টেট আইএস বিবৃতি দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা এই হামলার জন্য দায়ী। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত সশস্ত্র জঙ্গীরা অর্থের বিনিময়ে আহভাজে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেছেন, ইরান আঞ্চলিক সন্ত্রাসের সমর্থক ও তাদের প্রভু যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

অপরদিকে এই হামলার জন্য ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, আইএস জঙ্গীরা এই হামলার পেছনে নয়, দুটি উপসাগরীয় দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া জঙ্গীরা এই হামলা চালিয়েছে। এসব জঙ্গীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের একাধিক গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা হামলার জন্য সুন্নী জঙ্গী বা আরব জাতীয়তাবাদীদের দুষছে।

আহভাজ ন্যাশনাল রেসিসটেন্স গ্রুপের এক মুখপাত্র হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিলেও তাদের সঙ্গে অন্যদের যোগাযোগ রয়েছে কি না তা স্পষ্ট করেনি। অপরদিকে আইএসের মিডিয়া সেল আমাক এই হামলার দায় স্বীকার করলেও কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

উনিশশো আশির দশকে ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে শনিবার এই কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আক্রমণকারীরা সামরিক উর্দি পরে ছিল এবং পাশের একটি পার্ক থেকে কুচকাওয়াজের ওপর গুলিবর্ষণ করে। তারা প্রথমে বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালায় এবং পরে পোডিয়ামের ওপর দাঁড়ানো সামরিক অফিসারদের দিকে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। পুরো ঘটনাটি ১০ মিনিট ধরে চলে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এই হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা মোট চারজন ছিল। আহভাজের ডেপুটি গবর্নর আলী হোসেন হোসেনজাদা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী দু’জন অস্ত্রধারীকে হত্যা করেছে এবং অন্য দু’জনকে জীবিত আটক করেছে।

নিহতদের মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর আটজন সদস্য, একজন সাংবাদিক ও কয়েকজন বেসামরিক লোক রয়েছে। ইরানে গত বছর যে কটি শহরে বড় মাপের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল তার মধ্যে আহভাজ একটি। ফার্সের খবরে আরও বলা হয়, নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সদস্য। আর বাকিরা কুচকাওয়াজ দেখতে আসা নারী, শিশু ও বেসামরিক লোক। ইরানের আরব সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদে মদদ দেয়ার জন্য তেহরান সরকার এর আগে প্রতিবেশী সৌদি আরবকে দায়ী করে।

সাদ্দামের মতো ট্রাম্পকেও পরাজিত করবে ইরান ॥ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন যেভাবে হেরেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সেভাবেই পরাজিত হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন ইরানী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যতই চাপ দিক না কেন, তেহরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী কোন অবস্থাতেই বাতিল করবে না। ইরাকের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের স্মরণে রাজধানী তেহরান ও বন্দর আব্বাসে নৌ-বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও মহড়ার মধ্যেই শনিবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেন রুহানি।

রুহানি বলেন, ট্রাম্পেরও একই অবস্থা হবে। আমেরিকা সেই পরিণতিই বরণ করবে, সাদ্দাম হোসেনের ভাগ্যে যা হয়েছিল। ইরান তার প্রতিরক্ষা অস্ত্র ছাড়বে না, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রও আছে, যেগুলো আমেরিকাকে ক্রুদ্ধ করে।

শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে একথা বলেন ইরানী প্রেসিডেন্ট।

চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত মাসে ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞার পথেও এগুচ্ছে। যদিও তেহরান বলেছে, তেমনটা হলে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর তেল রফতানিও আটকে দেবে।

শনিবার উপসাগরে ইরানের নৌ মহড়ায় প্রায় ৬শ’ নৌযান অংশ নেয়। আগের দিন তারা সমুদ্রে বিমান মহড়াও করেছে।

তেল রফতানির পথ নির্বিঘœ রাখতে উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহর অনেক দিন ধরেই ক্রিয়াশীল। যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সঙ্ঘাতের পথ খুলে যেতে পারে বলে শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের।

সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিদের সামরিক তৎপরতার পাল্টায় নিজেদের শক্তিমত্তার প্রদর্শনী করছে। শত্রুদের ‘দাঁতভাঙ্গা জবাব’ দিতে ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে তারা।