১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিনহাকে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার দিয়েছে মীর মাসুম ॥ বই লেখার জন্য

সিনহাকে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার দিয়েছে মীর মাসুম ॥ বই লেখার জন্য

শংকর কুমার দে ॥ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে দিয়ে ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামের বইটি লিখিয়েছে বিএনপি-জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী। এই বইটি লেখা বাবদ তিনি মূল্য পেয়েছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় ২ কোটি ৮০ লাখ। এসকে সিনহাকে এই টাকা দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীর মামলায় ফাঁসিতে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ভাই মীর মাসুম। ওই টাকায় সিনহা কিনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির পিটারসন এলাকার ১৮০ জেসপার রোডের প্রাসাদের মতো বিলাসবহুল বাড়িটি। এই বাড়িটি কেনার কিছুদিন আগে তিনি থাকতেন নিউজার্সির পিটারসন রোডের ১৭৯ জেসপার রোডের একটি বাড়ির বেজমেন্টে। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে ওই বই লেখার জন্য ওই টাকা মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে সংস্থান ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের যোগান দেন বাংলাদেশের সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আইনজীবী তোবারক হোসেন। প্রায় দুই মাস আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। আইনজীবী তোবারকের মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতির জন্য টাকা মানি লন্ডারিং করে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন লন্ডনে অবস্থারনত বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাহাতুবুর রহমান নাছির ও ওই ব্যাংকের মালিক ইকবাল নামের দুই ব্যক্তি। বাংলাদেশ থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতির জন্য টাকা মানি লন্ডারিং করে পাঠানোর জন্য যেসব ব্যক্তিরা জড়িত হয়েছেন তাদের সকল বিষয়ে সমন্বয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির বিএনপির নেতা গোলাম রাব্বানি। গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই ধরনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি এস কে সিনহার কাছে বই লেখার প্রস্তাব ও অর্থ প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর ভাই মীর মাসুম। ধনকুবের মীর কাসেম আলীর ফাঁসি যাতে না হয় এবং ফাঁসির রায় হওয়ার পর মৃত্যুদ- যাতে কার্যকর না হয় সেজন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে প্রভাবিত করে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে। সাবেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ফাঁসির রায় ও ফাঁসি কার্যকর বন্ধ করা না গেলেও যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার কারণে এবং সাবেক প্রধান বিচারপতির দুর্নীতিসহ নৈতিক স্থলনের কারণে ও অন্য বিচারপতিগণ তার সঙ্গে বেঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা ও সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী হন সাবেক প্রধান বিচারপতি। আগামী ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ও স্বাধীনতার পক্ষের সরকার যাতে ফের ক্ষমতায় আসতে নসা পারে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতে উঠেছে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি, জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার লেখা ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামের বইটি তার নামে ঢাকায় বসে লেখাটি লিখেছে বিএনপি-জামাতপন্থী কিছু ব্যক্তি। বাংলাদেশ থেকে মোট ২১টি ফাইলে সমস্ত লেখা পৌঁছানো হয়েছে আমেরিকায়। লেখাগুলো সংশোধন ও পরিমার্জন করেছে আমেরিকায় অবস্থানকারী আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বিরোধী কিছু ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সাবেক প্রধান বিচারপতির বই লেখায় যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন একজন বাংলাদেশী যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত স্বাধীনতার বিপক্ষের ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশে অবস্থানকালে একজন সাংবাদিক ছিলেন, বর্তমানে নিউইয়র্কে সপরিবারে অবস্থান করছেন তিনি, বয়সে যুবক, অপরজন তার সঙ্গী শাহেদ আলম। শাহেদ আলমকে একটি দামী গাড়ি উপহার দিয়েছে মীর মাসুম। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার মালিক তাহেরের অফিসে বসে সকল ষড়যন্ত্রের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা দীর্ঘ দিনের ফসল। এই তাহেরের মালিকানায় একটি স্থানীয় টিভি চ্যানেলও পরিচালিত ও প্রচারিত হয়।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বইটি আমেরিকা থেকে সংশোধিত ও পরিমার্জিত ২১টি ফাইল পাঠানো হয় ঢাকায় এবং ঢাকায় এনে দেখানো হয়েছে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বলে পরিচিত আইনজীবীকে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই আইনজীবী সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বইয়ের কপিগুলো সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন করে আবার তা চূড়ান্ত করে কপিগুলো পাঠানো হয়েছে আবার আমেরিকায়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীকে এই বিষয়ে সহযোগিত করেছেন বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত সরকার বিরোধী একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, এসকে সিনহাকে টাকা দেয়া, প্রকাশনার খরচ ইত্যাদি দিয়েছে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ভাই মীর মাসুম। বইটির ব্যাপক প্রচারের দায়িত্বও তার। সাবেক প্রধান বিচারপতির বইটির কপি এখন পৌঁছে গিয়েছে ঢাকায়। বইটির ফটোকপি করে ব্যাপক প্রচারের প্রস্তুতিও শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, আশি ও নব্বই দশকে (শযধষবফ’ং ধিৎ) খালেদ ওয়ার ভিডিও ডকুমেন্টারি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রচার করানো হয়েছিল এবং এরশাদের বিরুদ্ধে খালেদকে বীর বানানোর অপ-প্রচার চালানো হয়। ঠিক সেই একই কায়দায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তার বইয়ের মাধ্যমে তাকে বীর বানানোর অপ-প্রচারের নামে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যাতে ফের ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগারের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বইটি। এ জন্য দেশে-বিদেশে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি-জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী।

নির্বাচিত সংবাদ