১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমছে না অপারেটরদের স্বার্থে

  • অভিযোগ ওঠায় ‘কস্ট মডেলিং’ করেই দায়িত্ব শেষ বিটিআরসির?

ফিরোজ মান্না ॥ সরকারের দুই মেয়াদে ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। বেড়েছে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু তুলনামূলক ইন্টারনেটের দাম কমেনি। এ বছরের গোড়ার দিকে ইন্টারনেটের দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও তা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তুলনায় মোবাইল ইন্টারনেটের দাম বহুগুণে বেশি। মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য বিটিআরসি কয়েক দফা বৈঠক করেও দাম কমাতে পারেনি। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশে ১২০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ৬শ’ জিবিপিএসে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ কোটি। এর মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অপারেটরদের স্বার্থ রক্ষার্থে মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমানো হচ্ছে না বলে অভিয়োগ উঠেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মন্ত্রিত্ব পাওয়ার প্রথম দিনই ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমার প্রথম কাছ হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানো। তার সেই ঘোষণা এখন ঘোষণার মধ্যেই থেকে গেছে। দাম কমেনি ইন্টারনেটের। ইন্টারনেট সহজলভ্য না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া কঠিন হবে। দীর্ঘদিন ধরেই ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়টি সরকারের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দায়িত্ব নেয়ার পরই ঘোষণা দেন ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে গেলে অবশ্যই ইন্টারনেটের দাম কমানো প্রয়োজন। ২০২১ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হবে। সব কিছুর আগে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানোই হবে আমার কাজ। ইন্টারনেট সহজলভ্য না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া কঠিন হবে। দীর্ঘদিন ধরেই ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়টি সরকারের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন আমি এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছিলেন, ইন্টারনেটের দাম সব মানুষের নাগালে নিয়ে আসব। কারণ ইন্টারনেট ছাড়া সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে না। বর্তমান দুনিয়া ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আমার প্রথম কাজ হবে ইন্টারনেটের দাম কমানো। ভয়েসের মতো অবশ্যই ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণ করা (উচ্চসীমা ও নিম্নসীমা) থাকতে হবে। মোবাইল ফোনের ভয়েস কলের উচ্চসীমা ২ টাকা আর নিম্নসীমা ২৫ পয়সা যদিও বেঁধে দেয়া সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেটের দামও বেঁধে দেয়া হবে। ইন্টারনেটের দাম অবশ্যই গ্রাহকের চাওয়ার মধ্যে থাকতে হবে বলে তিনি জানান।

বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ৯ কোটি। গ্রাহক বৃদ্ধিকে সূচক ধরে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের চেয়ে মোবইল ইন্টারনেটের গ্রাহক বাড়ছে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। তবে মোবাইল ইন্টারনেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়েছে। দেশে বর্তমানে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ১৪ কোটি। এ বছর মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। মোবাইলে সাড়ে ৭ কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। বাকি আড়াই কোটি গ্রাহক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। তথ্যপ্রযুক্তির সব সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গত বছরের জুলাইয়ে মাসে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বিটিআরসি। তখন বলা হয়েছিল, ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণের জন্য নতুন করে ‘কস্ট মডেলিং’ করা হচ্ছে। কস্ট মডেলিংয়ের কাজ শেষ হলে বোর্ড সভায় আলোচনা করে ইন্টারনেটের দাম ঠিক করা হবে। কিন্ত নতুন করে আর দাম নির্ধারণ করা হয়নি। বর্তমানে দেশে সাড়ে ৯ কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ কোটি মোবাইল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে সাড়ে ৯ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক সৃষ্টি হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা।

বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেছিলেন, বিটিআরসি মোবাইল ইন্টারনেটের দাম বেঁধে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। অল্পদিনের মধ্যে ইন্টারনেটের নতুন দাম বেঁধে দেয়া হবে। মোবাইল ইন্টারনেট বিষয়ে নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ সব অভিযোগ যাতে গ্রাহকরা সহজে জানাতে পারেন তার জন্য একটি হট নম্বর চালু করা হবে। এই হট নম্বর হবে ১০০। এই নম্বরে ডায়াল করে যে কোন গ্রাহক বিটিআরসির কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

জানা গেছে, বিটিআরসির নেয়া উদ্যোগ দীর্ঘদিনেও অগ্রগতি পায়নি। কেন কি কারণে বিটিআরসি মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমাতে পারছে না তা কেউ জানাতে পারেনি। অপারেটররা মোবাইলে ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্যাকেজ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি টাকা কেটে নিচ্ছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘কস্ট মডেলিং’ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেটের সহজ লভ্যতার জন্যই বিটিআরসির এই উদ্যোগ। বিটিআরসি জাতিসংঘের অধীন প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) এক কর্মকর্তাকে পরামর্শক নিয়োগও দিয়েছে। নিয়োগ কৃত পরামর্শক ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণের বিষয়ে বিটিআরসিকে পরামর্শ দেবে। বিটিআরসি ওই পরামর্শের ভিত্তিতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম নির্ধারণ করবে। কিন্তু এই কাজের কোন অগ্রগতি নেই বলে বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান।