২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপরিকল্পিত নগরায়ণ স্বাস্থ্য খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে

অপরিকল্পিত নগরায়ণ স্বাস্থ্য খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে
  • স্বাস্থ্যনীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নগরায়ণ বর্তমান শতাব্দীর অন্যতম প্রধান কারণ যা স্বাস্থ্যখাতের ওপর প্রভাব ফেলছে। ২০৫০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের ৬৮ ভাগের বেশি মানুষ নগরে বসবাস করবে। আর বাংলাদেশে যে আনুপাতিক হারে নগরায়ণ হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের নগরে বসবাসকারী জনসংখ্যা গ্রামীণ জনসংখ্যার চাইতেও বেশি হবে। নগর স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত প্রভাবকগুলো খুব জটিল। নগরের সুশাসন, জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সেবা এবং জরুরী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর এই সব প্রভাবক যথাযথ ব্যবস্থাপনায় সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্বাস্থ্যনীতি সংলাপ’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমর্থিত, আইসিডিডিআরবি এর স্ট্রেনদেনিং হেল্থ, এ্যাপ্লায়িং রিসার্চ এভিডেন্স (শেয়ার) প্রকল্পের আওতায় ধারাবাহিক ‘বাংলাদেশের নগর স্বাস্থ্য ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ সংলাপে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি থিংক ট্যাংক এই সংলাপের আয়োজন করে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যবিদ, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, সরকারী প্রতিনিধি, বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্যবৃন্দ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা এই সংলাপে অংশ নেন। এই সংলাপে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের কো-অর্ডিনেটর (কো-অর্ডিনেশন এ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার) ডঃ মুশতাক হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

স্বাস্থ্যনীতি সংলাপের এই আলোচনায়, বাংলাদেশের নগর স্বাস্থ্য ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ ওঠে এসেছে এবং এরই সঙ্গে এগুলোর বাস্তবধর্মী সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। এই সংলাপের মাধ্যমে ওঠে আসা সুপারিশমালা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করা হয়। সংলাপের মূল বক্তব্যে আইসিডিডিআরবি এর সহকারী বিজ্ঞানী ডঃ সোহানা শফিক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডঃ মোঃ খালেকুজ্জামান পাবলিক দ্রুত নগরায়ণ এবং এ সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, নগরস্বাস্থ্যে বিদ্যমান বৈষম্য এবং নগরে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তারা নগর এলাকায় দরিদ্র জনগণের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্বাস্থ্যখাতে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‘স্বাস্থ্যনীতি সংলাপ’-এর সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ টি এ চৌধুরী, নগর স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত নেতৃত্বের মাধ্যমে অন্যান্য মন্ত্রণালয়, এনজিও ও সকল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণের প্রয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সুনির্দিষ্ট আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব করেন।

সংলাপে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ও আধুনিকায়নের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হচ্ছে নগরায়ণ। তবে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণে জনসংখ্যার আধিক্য ও যত্রতত্র কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দালানকোঠা গড়ে ওঠার পাশাপাশি রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব, মানসিক ও স্নায়ুবিক চাপ বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট, পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা, পরিবেশ ও বায়ুদূষণ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ধূমপান ও মদ্যপানের প্রবণতা বৃদ্ধিসহ মৃত্যু, সন্ত্রাস, সড়ক দুর্ঘটনা ও আঘাত ইত্যাদি অব্যাহতভাবে বেড়ে যাবে। যার পরিণতি ভোগ করতে হবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হবে শহরের বস্তিবাসী বা নিম্ন আয়ের মানুষদের। তাই উন্নত নগর স্বাস্থ্যের জন্য উন্নত নগর পরিকল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।