১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসএম সোলায়মান প্রণোদনা স্মারক বক্তৃতা

এসএম সোলায়মান প্রণোদনা স্মারক বক্তৃতা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নবনাট্যধারার অগ্রপথিক এস এম সোলায়মান। একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক, অভিনেতা, গায়ক ও সঙ্গীতকার অকাল প্রয়াত এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী থিয়েটার আর্ট ইউনিটেরও প্রতিষ্ঠাতা। তার জন্ম ও মৃত্যু যথাক্রমে ২৯ ও ২২ সেপ্টেম্বর। তার জন্ম ও মৃত্যু দিবসকে কেন্দ্র করে থিয়েটার আর্ট ইউনিট প্রতি বছর তারই নামাঙ্কিত প্রণোদনা ও স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ‘এস এম সোলায়মান প্রণোদনা স্মারক বক্তৃতা ২০১৮’। এবার এই সম্মাননা প্রদান করা হয় প্রাচ্যনাটের সক্রিয় কর্মী নাট্যপ্রাণ বাকার বকুলকে। অনুষ্ঠানে ‘এস এস সোলায়মান ও তার নাট্য নির্মিতির ধরন’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন লেখক গবেষক সাজেদুল আউয়াল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নাট্যজন ম. হামিদ। আলোচক ছিলেন অধ্যাপক ম. সাইফুল আলম চৌধুরী ও নাট্যজন মাসুম রেজা। সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ বারী।

অনুষ্ঠানে বাকার বকুলের হাতে প্রণোদনা পদকের ক্রেস্ট তুলে দেন অধ্যাপক ম. সাইফুল আলম চৌধুরী, উত্তরীয় পরিয়ে দেন নাট্যকার মাসুম রেজা ও নগদ অর্থমূল্য তুলে দেন লেখক ও গবেষক সাজেদুল আউয়াল। অনুভূতি প্রকাশে বাকার বকুল বলেন, এস এম সোলায়মানের মতো গুণী নাট্যব্যক্তিত্বের নামে প্রবর্তিত প্রণোদনা পদকে আমি প্রণোদিত, আনন্দিত ও গর্বিত। কতটুকু কাজ করতে পেরেছি জানি না। তবে আরও অনেক কাজ বাকি আছে। আমি ফরিদপুর থিয়েটার থেকে উঠে এসেছি। সেখানে যে ধরনের শৃঙ্খলা ও নিয়মকানুন দেখেছি সেসবই আমাকে নাটকের পথে চলতে উৎসাহিত করেছে। থিয়েটার করতে এসে অনেক কথাই শুনতে হয়েছে। তারপরও থিয়েটারটাকে ভালবেসে এখনও পথ চলছি, আর বাকিটা জীবনও থিয়েটারের সঙ্গেই কাটাতে চাই।

স্মারক বক্তৃতায় সাজেদুল আউয়াল বলেন, সাধারণত স্ব সময়ের সমাজ রাজনীতির বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবেই গঠিত হয়, বেড়ে ওঠে একজন শিল্পীর মানসলোক। এস এস সোলায়মানের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালিত মঞ্চে যে যে দ্বন্দ্বের প্রাধান্য ছিল, সেগুলোই তার মানসকে বিচলিত করেছিল, তার মনস গঠনে প্রভাব ফেলেছিল। তার নাট্যযজ্ঞেও তার প্রভাব পড়েছিল। তার নাট্যক্রিয়া কিছুটা রাফ থিয়েটারের বৈশিষ্টম-িত। তার থিয়েটার যজ্ঞের সামগ্রিক প্রবণতাকে নাট্যবিদ্গণ নানাভাবে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি সময়োপযোগী বিষয়বস্তু আহরণ করেই এদেশের উপযোগী মিউজিক্যাল মঞ্চে নামাতেন। এটাই যে তার নাটক রচনা ও নাট্যনির্মিতের দৃশ্যমান চিহ্ন প্রবণতা, এটা বলেছেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। সব বিবেচনায় সোলায়মানের থিয়েটারকে ‘খোলা থিয়েটার’ও বলা যায়। খোলা মেলা একটা স্বভাব তার থিয়েটারের গঠনরীতিতে ছিল।

সম্মেলক কণ্ঠে এস এম সোলায়মানের গান পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সব শেষে এস এম সোলায়মান রচিত ‘সুনাই কইন্যার পালা’ নাটকের গান পরিবেশন করে মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়ের শিল্পীরা।

এর আগে বাকার বকুলকে নিয়ে রচিত শংসা বচন তার হাতে তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মদ বারী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাকার বকুলকে নিয়ে আবু সুফিয়ান বিপ্লব নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ॥ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিত অনুষ্ঠান হয় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এশিয়ান আর্ট প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ছিল এ আয়োজন। শিশুরা এ প্রদর্শনী দেখে তাদের অনুভূতি প্রকাশের জন্য এ চিত্রাঙ্কনের আয়োজন করা হয়। সব শেষে ছিল শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।