১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ জেলার উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে (৪০) শুক্রবার রাতে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি এলাকার সুখলাল হালদারের পুত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে কারফা বাজারে নিজের কাপড়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হেলমেট পরিহিত তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে অতর্কিতে চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় নিহার হালদার (৩৫) নামের এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হয়। নিহার ওই এলাকার নকুল হালদারের পুত্র। তাকে রাত ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় ওই বাজারে বিদ্যুত ছিল না। থানার ওসি জানান, চেয়ারম্যানের বুকে ও পায়ে তিন রাউন্ড গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে উদ্ধার করে প্রথমে পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতলে নিয়ে আসেন। রাত সোয়া ১০টার দিকে চিকিৎসকরা বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকা-টি ঘটেছে বলে দাবি করেছেন উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস জানান, নির্দোষ কাউকে হয়রানি না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনতি বিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে আটক করেছে।

অপরদিকে ঘটনার পর থেকেই হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে পুরো উপজেলাবাসী। শনিবার দুপুরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ইচলাদী বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে শনিবার সকাল থেকেই উজিরপুরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে কারফা বাজারের অর্ধ শতাধিক দোকানপাট। সকাল থেকে কারফা বাজারের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। এরইমধ্যে পুলিশ বহনকারী একটি গাড়ি ভাংচুর, বাজারের ভিটি ভবনের পাশে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই কারফা বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।