১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর ব্যবস্থা সহজ করার তাগিদ প্রধান বিচারপতির

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, করের বিস্তৃতি প্রসারের জন্য করবান্ধব সংস্কৃতি চালু করতে হবে। জনগণ যাতে অযথা হয়রানি না হয়, সেই লক্ষ্যে রিটার্ন দাখিল ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের পদ্ধতি সহজীকরণ করতে হবে। তাছাড়া বিকল্প বিরোধের মাধ্যমে কর মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে অধিক মনোযোগী হলে কর তথা রাজস্ব সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তি হবে এবং রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। শনিবার সন্ধ্যায় সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে মাসিক পত্রিকা ‘করাদালত’-এর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বলা হয়, যারা কর দেয় তারাই সমস্যার সম্মুখীন হয়, আর যারা কর দেয় না তাদের কোন সমস্যা হয় না। এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কর আইন অত্যন্ত ড্রাই ও জটিল বিষয়। কর আইন হচ্ছে এমবিগুয়াস। আইন যদি এমবিগুয়াস হয় তাহলে সেখানে স্বেচ্ছারিতার সুযোগ থেকে যায় এবং জনগণ হয়রানির সম্মুখীন হয়। আমাদের দেশের বিদ্যমান কর আইনকে গবেষণা করে আরও সহজীকরণ করা হলে জনগণ কর প্রদানে উৎসাহিত হবে। তাছাড়া কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা এখন সময়ের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’ ‘সরকার রাজস্ব আয় বর্ধিত করার উদ্দেশে করনীতি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআর রাজস্বের ৫০ শতাংশ আয়কর খাতে আদায়ের লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এক দশক আগেও এনবিআর আয়কর খাতে রাজস্বের মাত্র ২০ শতাংশ আদায় করত। ইতোমধ্যে সরকার এ হারকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক এবং পরার্থপরতার অর্থনীতি থেকে আমরা পরিত্রাণ পাচ্ছি। আশা করি কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিগণিত হবে।’ করাদালত পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আইনজীবী আবু আমজাদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমীরুল ইসলাম, বার কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ রেজাউর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও ট্যাক্সেস লইয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুল হুদা।