১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘অপচিকিৎসায় শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পায়’

‘অপচিকিৎসায় শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পায়’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জীবাণুবাহিত চর্ম রোগের যথার্থ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞদের নিরন্তর গবেষণা ও চিকিৎসা সেবায় মনোনিবেশ। অপচিকিৎসা, অবৈজ্ঞানিক ওষুধ সেবনের কারণে রোগীর যেমন ক্ষতি হয়, তেমন রোগীর শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ায় রোগ নিরাময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নতুন নতুন জীবাণু ও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কার করে দেশের মানুষকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌনব্যাধি বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী লাউঞ্জে চর্মরোগ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) ও চর্ম ও যৌনব্যাধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, এমপি এবং বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গা, এমপি।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম সেরাজুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক এহসানুল কবির জগলুল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউনিমেড ইউনিহেলথ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মোসাদ্দেক হোসেন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল বৈজ্ঞানিক সেশন।

বৈজ্ঞানিক সেকশন প্যানেল এক্সপার্ট হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক এজেডএম মাইদুল ইসলাম, অধ্যাপক এম এ ওয়াদুদ, অধ্যাপক এম ইউ কবির চৌধুরী, অধ্যাপক আগা মাসুদ চৌধুরী, অধ্যাপক মোঃ আকরাম উল্লাহ সিকদার, অধ্যাপক এম এ রউফ। গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এম এ ওয়াহাব, সহযোগী অধ্যাপক ডা.

অসিম কুমার নন্দী, ডা. দীপক কুমার দাস, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ রফিকুর মওলা, সহকারী অধ্যাপক ডা. তুষার কান্তি সিকদার।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার ১২ হাজার চিকিৎসক, ১৫ হাজার নার্স ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দিয়েছে। দেশের মানুষকে আরো উন্নত সেবা প্রদান করতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে “সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল”-এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। গণমানুষকে সেবা দিতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তৃণমূল্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই বর্তমান সরকার গ্রামেগঞ্জে আবারো কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গা, এমপি হাতুরে ডাক্তারদের বিষয়ে রোগীদের আরো বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, চিকিৎসার বিষয়ে রোগী বা তাঁদের স্বজনদের কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) অথবা বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)কে জানাতে অনুরোধ করেন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আজকের বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সেবাখাতেও আমরা অনেক অগ্রতি লাভ করেছি। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার কমেছে, গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে, গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও স্বাস্থ্যখাতে অনেক আরাধ্য কর্ম আমাদেরকে অব্যাহত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কিছু পরিবেশগত পরিবর্তন হয়। যার সঙ্গে রোগের লক্ষণ ও চরিত্রও পাল্টায়। সমসাময়িক রোগ সম্পর্কে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার সকল মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদেরকে সুস্থ সবল জাতি গড়ে তুলতে হবে। কারণ উন্নয়নের জন্য পূর্বশর্ত হলো সুস্থ, সবল ও প্রশিক্ষিত জনবল। বাংলাদেশে চর্ম রোগের ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক সাফল্য অর্জন করা ইতোমধ্যেই সম্ভব হয়েছে। মনে রাখতে হবে, সোরিয়াসিস, লেপরোসিস (কুষ্ঠরোগ)সহ অন্যান্য জীবাণুবাহিত চর্ম রোগের যথার্থ নিয়ন্ত্রণ অতীব জরুরী। তার জন্য প্রয়োজন চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞদের নিরন্তর গবেষণা ও চিকিৎসা সেবায় মনোনিবেশ। আজকের এই বৈজ্ঞানিক সেমিনার সেই লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরও বেশি জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রিন্ট, অনলাইন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ খুবই ফলপ্রসূ ভুমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করেন উপ উপাচার্য।

এদিকে, বৈজ্ঞানিক সেশনে অত্যাধুনিক ডার্মাটোলজি সার্জারী, বাংলাদেশের রোগীদের মধ্যে সোরিয়াসিস রোগের প্রবণতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল, কুষ্ঠ রোগের জটিলতা ও চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা, ছত্রাক জাতীয় চর্ম রোগের চিকিৎসা ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। সোরিয়াসিস রোগের প্রবণতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রতি এক হাজার জনে সাতজনের এই রোগের প্রবণতা রয়েছে। কুষ্ঠ রোগের ক্ষেত্রে জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে কুষ্ঠ রোগের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। ছত্রাক জাতীয় চর্ম রোগের চিকিৎসা, লেজারের মাধ্যমে চিকিৎসা ও কসমেটিক সার্জারীর ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের আরো সচেতন ও সতর্ক হতে হবে এবং রোগীদেরকে যৌক্তিকভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।

অন্যদিকে রোগীরেকেও আরো সচেতন হতে হবে এবং চর্ম রোগ হলে চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা যাবে না। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অপচিকিৎসা, ভুল চিকিৎসা, হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসা এবং অবৈজ্ঞানিক ওষুধ সেবনের কারণে কিংবা অপ্রয়োজনীয় লেজার সার্জারীর কারণে রোগীর অনেক ক্ষতি হয়, এমনকি রোগীর শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ায় রোগ নিরাময় কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই সমস্যাসমূহ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সম্মলিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে রোগীদের কল্যাণে নিরসন করতে হবে।