২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অচলাবস্থা কাটাতে আজ কুয়ালালামপুরে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক

  • মন্ত্রীর নেতৃত্বে নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা ছেড়েছে

ফিরোজ মান্না ॥ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অচলাবস্থা কাটাতে আজ কুয়ালালামপুরে শুরু হচ্ছে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। বৈঠকে যোগ দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা থেকে রবিবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর গেছে। মন্ত্রী পর্যায় ও দুই দেশের গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ করবে মালয়েশিয়া। প্রতিনিধিদল দেশটিতে চারদিন অবস্থান করবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব ড. মনিরুস সালেহিন (কর্মসংস্থান), মন্ত্রীর একান্ত সচিব, উপসচিব মোহাম্মদ সাহিন (কর্মসংস্থান), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি ও এক উপসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রতিনিধি, আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব রয়েছেন। মালয়েশিয়ার পক্ষে ওয়ার্কিং কমিটিতে তানশ্রি আচিহর নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক বিচারপতি, ডেপুটি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, আইনজীবী ও ডিআইজিসহ ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এমওইউ অনুযায়ী দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর বৈঠক করবেন। আলোচনায় কর্মী নিয়োগে কোন সিন্ডিকেট থাকবে না, বেশি টাকা নেয়া যাবে না এমন অনেক বিষয়।

যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের আগে জনশক্তি রফতানিকারকরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে আবেদনে বলেছেন, কমিটির বৈঠকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ করে দেয়ার। যাতে কোন সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ায় এককভাবে কর্মী নিয়োগ করতে না পারে।

অভিয়োগ উঠেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নতুন করে দখলে নিতে সিন্ডিকেট পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা নানা মাধ্যমে দেশটির নতুন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। দেশটিতে তারা নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজন দিয়ে এ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে শ্রমবাজারে কোন ধরনের সিন্ডিকেশন করতে দেয়া হবে না। সব এজেন্সিই কাজ করতে পারে, এমন প্রপোজাল ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে।

সূত্র মতে, গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই নতুন করে ২৫ থেকে ৩০ রিক্রুটিং এজেন্সি দিয়ে আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দখলে নিতে পাঁয়তারা করছে একটি সিন্ডিকেট। মালয়েশিয়ার নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দেয়া দাতো ড. রইস হুসিন এরই মধ্যে বৈঠক করে গেছেন একাধিক মন্ত্রণালয় ও দেশের প্রভাবশালী এজেন্সি মালিকদের সঙ্গে।

জনশক্তি রফতানিকারক সংগঠন বায়রার নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, কোন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হতে চান না তারা। ১৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধামন্ত্রী ড. মাহথির মোহাম্মদের ঘোষণা অনুযায়ী সব এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করা, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়, বেতন ও কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি দু’দেশের বৈঠকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসপিপিএ সিস্টেম বন্ধ হওয়ার পর যেসব কর্মী মালয়েশিয়ায় আসতে পারেননি তাদের বিষয়টিও জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে। তারা কি মালয়েশিয়ায় আসতে পারবেন কি না এ বিষয় নিয়ে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের মতামত কি তাও আলোচনায় উঠে আসবে। দীর্ঘ দুই বছর পর দুই দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হচ্ছে। এই বৈঠক বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগ করবে কি করবে না তা জানা যাবে।

উল্লেখ্য, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন সিস্টেম এসপিপিএ ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদ্ধতিতে আর কোন কর্মী মালয়েশিয়ায় নিয়োগ দেয়া হবে না। ১০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট এই পদ্ধতিতে কর্মী পাঠিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিসার সত্যায়ন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ আছে ঢাকায় মালয়েশীয় হাইকমিশনের ভিসা স্ট্যাম্পিংও। ফলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে নতুন কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে।