২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গুজবসন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন ॥ কাদের

  গুজবসন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন ॥ কাদের
  • জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্যের গ্রহণযোগ্যতা দেশে নেই

রাজন ভট্টাচার্য, কক্সবাজার থেকে ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থকরা সারাদেশে ঘুরে ঘুরে মানুষের পাশে রয়েছেন। আর শেখ হাসিনা বিরোধীরা ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করছেন। তাদের আন্দোলন করার মুরোদ নেই। তাই তারা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া যুক্তফ্রন্টের কাঁধে ভর করেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। সবাই বলে ধানের শীষ পেটের বিষ। ধানের শীষ সাপের বিষ।

রবিবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সড়কযাত্রার দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে পৃথক পথসভা, জনসভা ও সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। শনিবার ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, টেলিভিশনে দেখলাম জাতীয়

ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যারা গেছেন, তাদের একজনও জাগ্রত নেই। মঞ্চে সবাই ঘুমোচ্ছেন। তারা না-কি আন্দোলন করবেন? এই ঐক্য জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য। এ ধরনের ঐক্য দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না, সাড়া দেবে না।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগ ছাড়া কোন জাতীয় ঐক্য হতে পারে না মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্প্রতি আইআরআইর জরিপে উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ৬৬ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ৬৪ শতাংশ। এমন জনপ্রিয় দল বাদ দিয়ে কীভাবে জাতীয় ঐক্য হতে পারে? আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে জনগণের কাছে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাংলার ঘরে ঘরে। আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনেও বাংলার মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে। এ সময় হাজার হাজার মানুষ দুই হাত উঠিয়ে নৌকায় ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সকালে ওবায়দুল কাদেরও তার সফরসঙ্গীরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনী সড়কযাত্রা শুরু করেন। সকাল সাড়ে নয়টায় প্রথমেই চট্টগ্রাম মহানগরীর হযরত শাহ আমানতের (র.) মাজার জিয়ারত করেন তারা। এরপর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং এসআর স্কয়ারে কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত দিনের প্রথম পথসভায় বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে লোহাগড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইসহাক মিয়া সড়কের উদ্বোধন এবং চুনতি মেহেরুন্নেসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন ওবায়দুল কাদের। পরে রাত পর্যন্ত কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এবং কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পৃথক দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। রাতে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে রাত কাটিয়ে আজ সোমবার সকালে আরও কয়েকটি কর্মসূচীতে অংশ নেবেন তিনি। পরে বিমানযোগে বিকেলে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।

রবিবারের কর্মসূচীগুলোয় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার সম্পাক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

চুনতি গ্রামের সুধী সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বীরবিক্রম। চুনতি সন্তান এই সামরিক কর্মকর্তার উদ্যোগেই মূলত এ এলাকায় যোগাযোগ ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

এদিকে, প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনের প্রতিটি পথসভা ও জনসভা হাজার হাজার নেতাকর্মী ও মানুষের উপস্থিতিতে জনারণ্যে পরিণত হয়েছিল। সড়কযাত্রার পথে পথে নেতাকর্মীর ব্যনার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দিয়ে এবং ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন নেতাদের। মুহুর্মুহু স্লোগানের পাশাপাশি ব্যান্ডপার্টি ও বাদ্যবাজনার তালে তালে নচে গেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা ঘটায় তারা। বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থক নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে সর্বত্র আগাম নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহার পথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মানুষের দল নয়, ক্ষমতার দল। ক্ষমতায় থেকে জনগণের স্বার্থে নেয়া সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছিল তারা। এখন আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রঙিন খোয়াব দেখছে। তাদের এই খোয়াব খোয়াবই থেকে যাবে। চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ বিএনপিকে আর কোনদিন ভোট দেবে না।

তিনি বলেন, ১০ বছরে দশ দিনও আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি। বিভিন্ন সময় কোটা আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ভর করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করেছে তারা। গুজব-সন্ত্রাস চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করেছে। এই গুজব-সন্ত্রাস অব্যাহত আছে। তাদের গুজব সন্ত্রাস ও সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘে বৈঠক নিয়ে মিথ্যাচারের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি ভুয়া রাজনৈতিক দল। এমন প্রতারক দল আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন থাকবে না। উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সভা-সমাবেশ উন্মুক্ত একথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, তারা যে কোন জায়গার সমাবেশ করতে পারে। কোন বাধা নেই। তাদের উদ্যোগ স্বাগত জানাই। কিন্তু জনসমর্থনের অভাবে তারা ঘরের ভেতরে বৈঠক করে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ এখন আর বিএনপিকে চায় না। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে কেউ বিজয় ঠেকাতে পারবে না।

চুনতির সুধী সমাবেশে ওবায়দুল কাদের হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে জানিয়ে বলেন, কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় আহমদ শফি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি খুশি হয়েছেন। এখন দেশের আলেম-ওলামাদের শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে প্রতিদান দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মানুষের পাশে রয়েছেন। শেখ হাসিনা যা ওয়াদা করেন- তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করেন। এ কারণে নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

রাত সাতটায় চকরিয়ার জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, হামলা-মামলা ও দাঙ্গার কারণে বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের লোকজন ঘরে থাকতে পারেনি। দলের নেতাকর্মীদের বাবা-মা মারা গেলেও জানাজা পড়তে এলে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিএনপি দুর্নীতিতে বিশ্ব রেকর্ড করেছিল পাঁচবার। হাওয়া ভবন খাওয়া ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল।

জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য করে কোন ফায়দা আসবে না। কারণ তাদের জনসমর্থন নেই। ৩০ দল এক হলেও চকরিয়ার মতো জনসভা ঢাকায় একটিও করতে পারবে না, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় কাদের আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল প্রধান শেখ হাসিনার কাছে সবার আমলনামা আছে। সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের একাংশ আওয়ামী লীগের প্রতি অবিচার করেছে দাবি করে কাদের বলেন, শনিবার ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে ৩০ দলের সমাবেশে দুই হাজার লোকও হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সড়কপথে পথসভা ও জনসভায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।

তিনি বলেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত। কেউ ঠেকাতে পারবে না।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনী সড়কযাত্রা শুরু হয়। গত ৩০ আগস্ট আকাশপথে ঢাকা থেকে সিলেট গিয়ে সেখানে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতারা। পরে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা-নীলফামারী রুট নির্বাচনী ট্রেনযাত্রা করেন দলটির উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন নেতা। আগামী ২৯-৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা-পটুয়াখালী-বরগুনা লঞ্চযাত্রা করবেন তারা।