২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাটহাজারীর মিষ্টি মরিচের চাহিদা বিদেশেও

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি ॥ হালদা নদীর অববাহিকা এবং তৎসংলগ্ন বিভিন্ন ইউনিয়নে চাষ হয় মিষ্টি মরিচের। এ মরিচের বিশেষ গুণগতমান খুব ভাল। হালকা মিষ্টি ধরনের হওয়াতে হাটহাজারীর এ মিষ্টি মরিচের খ্যাতি এখন দেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশেও। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে এ মিষ্টি মরিচ।

হাটহাজারী উপজেলার মন্দাকিনী, ছিপাতলী, নাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দ্দন, গড়দুয়ারা, পৌরসভার মোহাম্মদপুর, আলমপুর, চন্দ্রপুর ও চারিয়ায় এ মরিচের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। প্রতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় এক হাজার কৃষক ২শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি মরিচের চাষ করে থাকেন। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পৌনে চার লাখ টন মরিচ। প্রতি টন মরিচ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সে হিসাবে হাটহাজারীতে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার মিষ্টি মরিচ উৎপাদিত হয়।

এ মরিচের রং আকর্ষণীয় লালচে ও হলুদাভ সবুজ। এটি মধ্যম ঝাল-মিষ্টি এবং গুনগতমানের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কাঁচা অবস্থায় মরিচের দৈর্ঘ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ ইঞ্চি। ওপরের অংশের ব্যাস এক থেকে দেড় ইঞ্চি। হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় দেড় টন।

হাটহাজারী উপজেলার উল্লেখিত এলাকায় এ মরিচের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। কৃষকরা অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে বেলে দো-আঁশ মাটিতে এ মরিচ রোপণ করেন। ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে এ মরিচের ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত গোড়া পচন রোগ না হলে এর ভাল ফলন হয়ে থাকে।

হাটহাজারীর মরিচ দিয়ে রান্না করা তরকারি অত্যন্ত সুস্বাদু বলে গোটা দেশে এই মরিচের নামডাক আছে। এ মরিচ ব্রিটিশ আমল থেকে গৃহিণী ও রন্ধন শিল্পীদের কাছে জনপ্রিয়। হাটহাজারী উপজেলা সদরের কাছারি সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় এবং নাজিরহাট বাজারে এ মরিচ বিক্রি হয় বলে এ জায়গাদ্বয় ‘মরিচ হাটার গলি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। হাটহাজারী বাজারে প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার এবং নাজিরহাটে শনি ও মঙ্গলবার মরিচ হাটার গলিতে এ মরিচ বিক্রি করা হয়।

ক্রেতাদের কাছে ভারত কিংবা কুমিল্লার মরিচের চেয়ে হাটহাজারীর মিষ্টি মরিচের চাহিদা বেশি। তাই কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে এ মরিচ বিক্রি হয়।

কৃষকেরা জানান, বর্তমান সময়ে এ মরিচের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মরিচ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে অনেকেই। সরকারের পক্ষ থেকে সহজ কিস্তিতে কৃষকদের কাছে ঋণ বিতরণ করা হলে এ মরিচ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। এমনকি উল্লেখিত এলাকাগুলোতে শত শত একর পতিত জমি মরিচ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে এসব অঞ্চলের মরিচ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং মধ্যপ্রাচ্যেও রফতানি করা হচ্ছে।