১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২০ বছর মেয়াদী কংক্রিটের সড়ক নির্মাণ করতে হবে ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে বিটুমিনের (পিচঢালাইয়ে তরলজাতীয় বিটুমিনের ব্যবহার) সড়ক টিকবে না। পানি বিটুমিনের শত্রু। পানির সঙ্গেই আমাদের সবসময় বসবাস। আমাদের ২০ বছর মেয়াদী কংক্রিটের সড়ক নির্মাণ করতে হবে। প্রথম ১০ বছর কংক্রিটের সড়কে হাতই দিতে হবে না। খরচের বিষয়ে আসলে হয়তবা প্রথম দিকে কংক্রিটের রাস্তায় খরচ বেশি পড়তে পারে কিন্তু টেকসই হিসেবে সেই খরচ বিটুমিনের চেয়ে অনেক কম হবে। এতে মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসবে। সেসব জায়গায় ওভারপাস বা আন্ডারপাস দরকার যেসব জায়গায় এগুলো তৈরি করতে হবে।

রবিবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশে মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো বিনির্মাণ : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, এর ভেতর দিয়েই কাজ করতে হবে। সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে দেশকে নিয়ে যেতে হবে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে। আলোচনায় উঠে এসেছে, আমাদের জনবলের অভাব রয়েছে, অর্থাৎ দক্ষ জনবলের অভাব। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের অবকাঠামোও নেই, ভৌত এবং অভৌত দুটি অবকাঠামোতেই আমাদের দুর্বলতা রয়েছে, এগুলো আরও উন্নয়ন করতে হবে। জনগণকে প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে, যাদের জন্য প্রকল্প তাদের অধিকহারে সংযুক্ত করতে না পারলে আসল উদ্দেশ্য বোঝা যাবে না। এখনই হয়তবা আমরা সব সমস্যা সমাধান করতে পারব না।

‘গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সমস্যা সমাধানে প্রথমে করতে হবে একটি সঠিক নক্সা- একটি টেকসই নক্সা, যেটির বাস্তবায়নে আমাদের রাস্তার সমস্যার সমাধান হবে। প্রয়োজনে একটি সুদূরপ্রসারী নক্সা তৈরি করতে হবে, যেটি এখন থেকে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন শুরু হবে। যেটি বাস্তবায়নে পরবর্তীতে কোন বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। ২০ বছর মেয়াদী রাস্তা নির্মাণ করতে পারে এমন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হবে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে,’- বলেন তিনি।

দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে এসেছে, আগামী ৫ বছর পর সিঙ্গাপুর ও দুবাইকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ। তবে তার আগে সড়ক ঠিক করতে হবে। পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, গবেষক কলামিস্ট আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল হক প্রমুখ।