২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর প্রভাব

  মোবাইল  ফোনের ক্ষতিকর  প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে সারা বিশ্বের মধ্যে আমাদের দেশে মিসক্যারেজ রেট অত্যন্ত বেশি। এমনটা হওয়ার পিছনে অনেক কারণ দায়ী থাকলেও মোবাইল ফোনকেই মূল ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু মোবাইল ফোনের সঙ্গে মিসক্যারেজ-এর সম্পর্ক কোথায়? সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশনের প্রভাবে প্রেগন্যান্ট মায়ের শরীরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে বাচ্চার ক্ষতি তো হয়ই, সেই সঙ্গে নানাবিধ প্রসবকালীন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। বিশেষত মিসক্যারেজের সম্ভাবনা বাড়ে চোখে পড়ার মতো।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় তার শরীর থেকে ‘নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন’ নামক এক তরঙ্গ বের হতে থাকে। এই তরঙ্গ এতটাই শক্তিশালী হয় যে অ্যাটোম মলিকিউলকেও এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নাড়াতে সক্ষম হয়। একবার ভাবুন, এতটা শক্তিশালী এনার্জি যদি আমাদের শরীরের ওপর আঘাত করতে শুরু করে তাহলে কতটাই না ক্ষতি হয়! তবে মোবাইল ফোনের শরীর থেকেই যে কেবল এমন রেডিয়েশন সৃষ্টি এমন নয়, ল্যাপটপ এবং ওয়াইফাই ডিভাইস থেকেও সম প্রকৃতির তরঙ্গ বের হতে থাকে। সেই কারণেই তো গর্ভাবস্থায় এইসব ডিভাইস থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। প্রসঙ্গত, মোবাইলের কারণে যে শুধু মা এবং বাচ্চারই ক্ষতি হয়, এমন নয়। সার্বিকভাবে আমাদের শরীরের উপরও কুপ্রভাব পড়ে। যেমন ধরুন-

মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি

মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ফোন ঘাঁটলে ঘুম ঠিক মতো হয় না। আর ঘুম যদি ঠিক মতো না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তি যেমন লোপ পায়, তেমনি মনোযোগ এবং বুদ্ধির ঘাটতিও দেখা দেয়। সেই সঙ্গে ব্রেইনে রক্তের প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নানাবিধ ব্রেইন ডিজিজ-এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়

মোবাইল ফোনের আলো নানাভাবে শরীরে মেলাটনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না। কারণ আমাদের ঘুম কতটা ভাল হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণের ওপর। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভুলেও হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক-এ ঘুরঘুর করবেন না যেন!

রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়

অন্ধকারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তার নীল আলো রেটিনার কর্মক্ষমতা কমাতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে যদি এমনটা চলতে থাকে তাহলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। তাই যদি কম বয়সে অন্ধ হতে না চান, তাহলে আজ থেকেই ফোনটা নিজের থেকে দূরে রেখে শুতে যাওয়ার অভ্যাস করুন।

ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা

মোবাইল ফোন থেকে যে নীল আলো বেরিয়ে আসে তার প্রভাবে যে শুধু মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায় তা নয়, সেই সঙ্গে আরও সব হরমোনের ক্ষরণে বাধা আসতে শুরু করে। ফলে শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ কমতে থাকে। প্রসঙ্গত, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হলো এমন একটি শক্তিশালী উপাদান, যা শরীর থেকে টক্সিক উপাদানগুলো বের করে দিয়ে ক্যান্সার কোষের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা কমায়। তাই তো ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতে হলে মোবাইলের সঙ্গ ছাড়তেই হবে। না হলে কিন্তু

বেজায় বিপদ!

মোবাইল ফোন এবং বন্ধ্যত্ব

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে স্পার্ম কাউন্ট কমে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেহের ভেতর এমন পরিবর্তন হয় যে বাচ্চা নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দেয়। আসলে রেডিয়েশনের কারণে বীর্য উৎপাদনকারী কোষেরা এত মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে স্পার্মের মান কমতে শুরু“ করে। যে কারণে এমনটা ঘটে থাকে। প্রসঙ্গত, সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের গবেষকরা মোবাইল ফোনের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আরও জানতে একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। ৩২ জন পুরুষের কাছে থেকে স্পার্ম সংগ্রহ করে সেগুলোর পাশে মোবাইল ফোন রেখে দেখতে চেয়েছিলেন বীর্যের ওপর রেডিয়েশনের কেমন প্রভাব পড়ে। এমনটা করতে গিয়ে তারা লক্ষ্য করেন মোবাইল ফোন রাখার আগে স্পার্মের যে কোয়ালিটি ছিল, তার থেকে অনেকটাই কমে গেছে। তাই যদি বাবা হতে চান, তাহলে ভুলেও বেশি মাত্রায় ফোন ব্যবহার করবেন না যেন।

আন্ডারগারমেন্টসের মধ্যে রাখবেন না

ব্রেস্টলিঙ্ক সংস্থার করা একটি গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের সরাসরি যোগ রয়েছে। কিন্তু সেটা ঠিক কোথায়? স্টাডিটি চলাকালীন গবেষকরা লক্ষ্য করেছিলেন আন্ডারগারমেন্টসের মধ্যে ফোন রাখলে শরীরে বিশেষ কিছু অংশে রেডিয়েশনের মারাত্মক প্রভাব পড়ে, বিশেষত ব্রেস্টে। এমনটা যদি দীর্ঘদিন ধরে হতে থাকে, তাহলেই বিপদ। কারণ সেক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

তাই এখনই সতর্ক হন। কারণ আপনার সুস্থতা বজায় রাখাটা একমাত্র আপনার হাতেই।

যাপিত জীবন ডেস্ক