২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নান্দাইলে কৃষকের পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে

নান্দাইলে কৃষকের পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে

সংবাদদাতা, নান্দাইল, ময়মনসিংহ ॥ পাট আমাদের দেশের অর্থকরি ফসল। একে সোনালী আঁশও বলা হয়। এক সময় ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রচুর পাট উৎপাদন হতো। পাট ছিল কৃষকের প্রধান ফসল। কিন্তু ন্যায্য মূল্য না পাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে কৃষক পাট ছেড়ে অন্য ফসল আবাদের দিকে ঝুঁকছে। তারপরও এই উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনও পাট অন্যতম প্রধান ফসল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলার ১২ইউনিয়নে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। পাটের বাজারে মূল্যও ভালো। তাই কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ অনেকটা বেড়েছে। এ বছর ১ হাজার ৫শত ৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। দেশীয় পাট ছাড়াও তুষা, মেছতা ও কেনাব জাতের পাট চাষ করা হয়েছে।

সম্প্রতি কয়েকটি ইউনিয়ন গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা এখন পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। নিচু জমিতে গর্ত করে অথবা পূর্বে গর্ত ছিল এমন পানিপূর্ণ জায়গায় পাটের জাগ দিচ্ছেন। নিদির্ষ্ট সময় পচনের পর জাগ থেকে পাট গাছ তুলে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। শুকনো পাট বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থ পাচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গিরপুর, খারুয়া, শেরপুর, সিংরইল, বেতাগৈর ইউনিয়নের কৃষকরা এখনও পাটের প্রতি আস্থা হারায়নি। নিয়মিত তারা পাট চাষ করেন। খারুয়া গ্রামের পাট চাষি আব্দুল হক বলেন, অতীতে যে সমস্ত জমিতে ধান বা অন্য ফসল আবাদ করা যেত না সেখানে কৃষক এখন পাট চাষ করছেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে পাটের ভালো মূল্য থাকায় ধানি জমিতেও তিনি পাট চাষ করেছেন। তবে পাট উৎপাদনে জমি চাষ, বীজ, পরিচর্যা, আঁশ ছড়ানো ও বিক্রির জন্য পরিবহনসহ উৎপাদন খরচ আগের থেকে দিগুণ বেড়েছে। তাই ভালো ফলন হওয়া সত্তেও খরচ পুষাতে হিমসিম খাচ্ছি।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, পাট চাষে সরকারের নানাবিধ সুবিধা দেওয়া ও কৃষি অফিসের সার্বিক তদারকি থাকায় এই এলাকায় ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া পাটের বর্তমান বাজার দরও ভালো। মণ (৪০কেজি) প্রতি ১৬শত থেকে ১৯শত টাকা ধরে পাট বিক্রি হচ্ছে। এই বছর ভালো মূল্য পাওয়ায় আগামী বছর অনেক বেশে পাট চাষ হবে। এই কৃষি কর্মকর্তা দাবি করেন চাষিরা ন্যায্যমূল্য পেলে পাটের সুদিন ফিরে আসবে।