২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিয়ানমারের বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার জাতিসংঘের নেই ॥ মিয়ারমার সেনাপ্রধান

মিয়ানমারের বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার জাতিসংঘের নেই ॥ মিয়ারমার সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক ॥ মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার অধিকার জাতিসংঘের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের গণহত্যার অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য জাতিসংঘের তদন্তকারীদের আহ্বান জানানোর এক সপ্তাহ পরে তিনি একথা জানালেন।

জাতিসংঘের আহ্বানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সংঘটিত অপরাধের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করার পর এই প্রথম তিনি এ বিষয়ে মুখ খুললেন।

মিয়ানমার সেনাপ্রধান বলেন, ‘কোনো দেশ, সংগঠন বা গ্রুপের অন্য একটি দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিচালিত দৈনিক পত্রিকা ‘মিয়াওয়াদি’র বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বক্তব্য তুলে ধরেছে।

এর আগে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন (এফএফএম) একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাপকহারে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধানসহ ছয় শীর্ষ সেনা জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলা হয়।

তবে দুইদিন পর থেকেই মিয়ানমার জাতিসংঘ মিশনের এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে উল্লেখ করে সেসময় দেশটির এক সরকারি মুখপাত্র বলেছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার স্বাধীন তদন্ত কমিশন নিয়ে কাজ করছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে এই কমিশন সেগুলো খণ্ডন করবে।

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে তথাকথিত আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) মিয়ানমারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার পরদিন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয় রোহিঙ্গাদের। বাংলাদেশে এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এখনও প্রতিদিনই কিছু না কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা।