২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাজীপুরের নিটেক্স কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

গাজীপুরের নিটেক্স কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরে বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে নিট এন্ড নিটেক্স লিমিটেড নামের পোশাক কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা বন্ধের নোটিশ সোমবার কারখানার গেইটে টানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ (গাজীপুর)- এর সহকারি পুলিশ সুপার মো. আমিরুল আলম ও কারখানার কর্মকর্তা-শ্রমিকরা জানায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ডেগেরচালা এলাকার নিট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগে আগস্ট মাসের পাওনা বেতন ভাতার অর্ধেক পরিশোধ করে কর্তৃপক্ষ। ঈদের ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দিয়ে শ্রমিকরা তাদের অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের একাধিকবার আশ্বাস দিয়ে দিনতারিখ নির্ধারণ করলেও তা পরিশোধ করে নি।

এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে কারখানার ট্যাঙ্কির পানি খেয়ে কিছু শ্রমিক অসুস্থ ও মৃত্যুর গুজবে রবিবার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে পড়ে। এসময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় সাড়ে ৪ঘন্টা অবরোধ করে গাড়িসহ আশে পাশের কয়েকটি কারখানা ও দোকানপাট ভাংচুর করে। এসময় শ্রমিকদেও বাধা দিলে তাদেও সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সর্টগানের গুলি ও টিয়ার সেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ওইদিন ঢাকায় শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিক ও বিজিএমইএ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতাদি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বও (শুক্রবার) পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকার বিজিএমইএ কার্যালয় থেকে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য ওইদিন সকালে শ্রমিকদের ঢাকার বিজিএমইএ কার্যালয়ে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মৃত্যু হয়। এরপর হতে এ পোশাক কারখানাটি অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধে বিঘœ ঘটে। এর জের ধরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়।